প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে সেন্ট ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসির দেহাবশেষ
আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৮
প্রথমবারের মতো আগামী রোববার থেকে জনসমক্ষে প্রদর্শন হতে যাচ্ছে সেন্ট ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসির কঙ্কাল। আশা করা হচ্ছে, বিরল এই আয়োজনে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
ইতালির পাহাড়ি শহর অ্যাসিসির ‘ব্যাসিলিকা অব সেন্ট ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসি' গির্জায় এই দেহাবশেষ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ল্যাটিন ভাষায় “করপাস স্যাংটি ফ্রান্সিসি” (সেন্ট ফ্রান্সিসের দেহ) লেখা একটি নাইট্রোজেন-পূর্ণ কাচের বাক্সে এটি রাখা হয়েছে।
১২২৬ সালের ৩ অক্টোবর মারা যান সেন্ট ফ্রান্সিস। নিজের সমস্ত ধনসম্পদ ত্যাগ করে এবং দরিদ্রদের সেবায় জীবন উৎসর্গ করার পর তিনি ‘ফ্রান্সিসকান অর্ডার’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
অ্যাসিসির ফ্রান্সিসকান কনভেন্টের যোগাযোগ পরিচালক জুলিও সিজারিও আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রদর্শনী আস্তিক ও নাস্তিক—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যই একটি “তাৎপর্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা” হয়ে উঠবে।
ফ্রান্সিসকান মঠবাসী সিজারিও আরও বলেন, হাড়গুলোর ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত’’ ও ‘‘ক্ষয়প্রাপ্ত’’ অবস্থা প্রমাণ করে যে সেন্ট ফ্রান্সিস তাঁর জীবনের ব্রতে নিজেকে ‘‘সম্পূর্ণরূপে উজাড় করে দিয়েছিলেন’’।
আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত তাঁর এই দেহাবশেষ প্রদর্শিত হবে। ফ্রান্সিসের সম্মানে নির্মিত এই গির্জায় ১২৩০ সালে তাঁর দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর দীর্ঘকাল তা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। অবশেষে ১৮১৮ সালে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে খননকাজ চালানোর পর তাঁর সমাধির পুনরায় সন্ধান মেলে।

এর আগে কেবল পরিদর্শন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যেই তাঁর দেহাবশেষ তোলা হয়েছিল। জনসমক্ষে সেন্ট ফ্রান্সিসের হাড় প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছিল মাত্র একবার ১৯৭৮ সালে। সেটিও ছিল অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্য এবং মাত্র একদিনের জন্য।
সাধারণত মানুষের চোখের আড়ালে থাকা এই দেহাবশেষ ১৯৭৮ সাল থেকে একটি স্বচ্ছ বাক্সে রাখা ছিল। শনিবার গির্জার ভূগর্ভস্থ পাথরের সমাধির ভেতরের একটি ধাতব সিন্দুক থেকে বাক্সটি বের করে আনা হয়। নিরাপত্তার জন্য এই বাক্সটিকে আরেকটি বুলেটপ্রুফ এবং চুরি-প্রতিরোধী কাচের বাক্সের ভেতরে রাখা হয়েছে।
দেহাবশেষের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক (২৪ ঘণ্টা) সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকবে।
সেন্ট ফ্রান্সিস হলেন ইতালির ‘প্যাট্রন সেন্ট’ বা রক্ষাকর্তা সাধু। তাঁর মৃত্যুর ৮০০তম বার্ষিকী স্মরণ করতে আগামী ৪ অক্টোবর পুনরায় সরকারি ছুটি চালু করা হচ্ছে।
ফ্রান্সিসকান কনভেন্টের তত্ত্বাবধায়ক মার্কো মোরোনি জানান, সেন্ট ফ্রান্সিসের দেহাবশেষ দেখার জন্য এরই মধ্যে ‘‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ লাখ মানুষ বুকিং দিয়েছেন, যার মধ্যে স্বভাবতই ইতালীয়দের আধিক্য বেশি।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘তবে আমাদের তালিকায় ব্রাজিলীয়, উত্তর আমেরিকান এবং আফ্রিকানরাও রয়েছেন।’’

বছরের এই সময়ে সাধারণত কর্মদিবসগুলোতে প্রতিদিন এক হাজার এবং ছুটির দিনগুলোতে চার হাজার দর্শনার্থী গির্জায় আসেন। তবে ফ্রান্সিসকানরা আশা করছেন, মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর কারণে কর্মদিবসে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজার এবং শনি ও রোববার তা ১৯ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সিজারিও বলেন, ‘‘শুরুর দিকে সেই ভূগর্ভস্থ সমাধির আমল থেকেই খ্রিস্টানরা শহীদদের হাড় ও স্মৃতিচিহ্নকে পরম শ্রদ্ধার চোখে দেখে আসছেন। তারা কখনোই বিষয়টিকে ভয়ংকর বা অস্বস্তিকর কিছু হিসেবে বিবেচনা করেননি।’’
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেন্ট ফ্রান্সিসের দেহাবশেষ দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শন করা হলেও এর সংরক্ষণ অবস্থায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
সিজারিও বলেন, ‘‘প্রদর্শনীর বাক্সটি পুরোপুরি সিল করা, ফলে বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে আসার কোনো সুযোগ নেই। বাস্তবে সমাধিতে এটি ঠিক যে অবস্থায় ছিল, বাক্সটিতেও একই অবস্থায় রয়েছে।’’
গির্জার ভেতরের আলো বেশ মৃদু রাখা হবে, ফলে আলোর কারণেও কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। সিজারিও বলেন, ‘‘গির্জাটি কোনো স্টেডিয়ামের মতো আলোকিত থাকবে না। এটি কোনো সিনেমার সেট নয়।’’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
- ট্যাগ:
- আন্তর্জাতিক
- প্রদর্শনী
- ইতালি