ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার সাকিব, দাবি ইংলিশ মিডিয়ার

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯, ২০:৩৫
আপডেট: ২০ জুন ২০১৯, ২০:৩৫

(প্রিয়.কম) উইন্ডিজের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই বাংলাদেশ দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব ক্রিকেট। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার, এমনকি সাধারণ ভক্ত-সমর্থকরা প্রশংসার জোয়ারে ভাসাচ্ছেন বাংলাদেশ দলকে। বিশেষ করে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাসকে আলাদাভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সবাই।

এখনো কাটেনি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তার রেশ। অনলাইন, অফলাইন সর্বত্রই চলছে সাকিব-বন্দনা। এবার এই তালিকায় যোগ হয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে চলমান বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষণা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন সাকিব। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৩৮৪ রান। ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটানোর পাশাপাশি বোলার হিসেবেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। চার ম্যাচে ৫.৮৪ ইকোনমিতে বাঁহাতি এই স্পিনার শিকার করেছেন ৫ উইকেট।

এমন পারফরম্যান্সের কারণে সর্বত্র চলছে সাকিবের প্রশংসা। ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে এই তালিকায় রয়েছেন অনেক সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার। কেউ কেউ সাকিবকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছেন। এবার তাকে নিয়ে বিশাল এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

উইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে সাকিবের সাদামাটা উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

টিম উইগমোর লেখা সেই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপ খেলা সব ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই ব্লিশেষণ করা হয়েছে। তার বিশ্লেষণে মনে হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে সাকিবই সেরা খেলোয়াড়। প্রতিবেদনটির শিরোনাম, ‘অবিসংবাদিতভাবে ২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় সাকিব?’

উইগমোর তার প্রতিবেদনে লেখেন, আপাতদৃষ্টিতে একজন ক্রিকেটার তার দেশের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার। তিনি হলেন সাকিব আল হাসান। নিঃসন্দেহে ২০১৯ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনিই সেরা খেলোয়াড়।

টেলিগ্রাফের ভাষ্য, সাকিবকে প্রাপ্য মূল্য না দেয়ার একটা প্রবণতা আছে। এটা অদ্ভুত ও রহস্যময়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আইপিএলসহ বিভিন্ন লিগেই তার খেলা উপভোগ করেন ভক্ত-সমর্থকরা। ২০১৫ সালে তিন ফরম্যাটে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন তিনি। সাকিব ক্রিকেটে কোনো বড় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাই তার বহুবিধ প্রতিভাকে অনেকে সহজে উপেক্ষা করেন। 

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন সাকিব। ভর্তির ৬ বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় অভিষেক হয় সাকিবের। স্বভাবজাত ব্যাটিং ও বাঁহাতি বিচক্ষণ স্পিনে শিগগিরই দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হন তিনি।

৩২২ রান তাড়া করে বাংলাদেশকে জিতিয়েও সাকিবের উদযাপন ছবি সাদামাটা। ছবি: সংগৃহীত

টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, সাকিব সবসময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেন। ধারাবাহিকভাবে জ্বলে ওঠেন। তবুও ২০১৪ সালে কোচের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ছয় মাস নিষিদ্ধ হন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে সাকিব এখন পরিণত। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবেও সফল বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র।

নিজেদের পর্যবেক্ষণ থেকে টেলিগ্রাফ বলছে, দলের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেন সাকিব। পাওয়ার প্লেতে নিয়মিত বল করেন। শেষদিকেও তার বোলিংয়ের নজির আছে। ওয়ানডেতে এখন তিন নম্বরে ব্যাটিং করছেন তিনি। আগে করতেন মিডলঅর্ডারে। দুই জায়গাতেই সফল হয়েছেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও উইন্ডিজের বিপক্ষে টানা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি।

সবশেষে টেলিগ্রাফ উল্লেখ করেছে, সাকিবের উদযাপন সাদামাটা। উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করেও তার উদযাপন ছিল খুব সরল-সহজ। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়ার পর নন-স্ট্রাইকে থাকা লিটন দাসের সঙ্গে কেবল হাত মেলান। এজন্য এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৫০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে শুধু একজন অবিসংবাদিত সেরা খেলোয়াড়। তিনি হলেন সাকিব। প্রত্যেক দলের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দেওয়াই সাকিবের ধ্যানজ্ঞান।

প্রিয় খেলা /কামরুল

আরো পড়ুন