ছবি সংগৃহীত

সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা!

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০১৬, ০২:৪৭
আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৬, ০২:৪৭

ভালোবাসা মানুষকে অনেক কিছু দেয়। কিন্তু ভালোবাসা মানুষকে জান্নাতও যে দিতে পারে তা ক’জনের জানা রয়েছে। হ্যাঁ, ভালোবাসা মানুষকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। একজন সাহাবি ছিলেন। তিনি ইমামতি করতেন। নিজ এলাকায় অন্যদেরকে নামাজ পড়াতেন। সাহাবির নাম ছিলো ‘কুলসুম ইবনে হাদাম’। নামাজ পড়াতে গিয়ে একটি ভিন্ন ধরণের কাজ করতেন তিনি। এতে সবাই একটু অস্বস্তি বোধ করতেন। তবু তাঁর নামাজ পড়ানোর ব্যাপারে মুসল্লিদের সন্তুষ্টি ছিলো। তিনি প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর প্রথমে সুরা ইখলাস পড়ে তারপর অন্য একটি সুরা যুক্ত করতেন।

এই অবস্থা চলতে থাকলে একদিন সঙ্গীরা তাঁকে বলল, ‘তুমি সুরা ফাতেহার পরে সুরা ইখলাস দিয়ে শুরু করো। তারপর আরো একটি সুরা পাঠ করে থাক। একটি সুরার পাঠই কি তোমার জন্য যথেষ্ট হয় না। আগামীতে হয়তো শুধু অন্য সুরা পড়বে, নতুবা শুধুই সুরা ইখলাস পড়বে, দুটি সুরা পড়বে না।’ সাহাবি কুলসুম [রা.] এর সোজা জবাব- ‘আমি সুরা ইখলাস ছাড়তে পারবো না। তাতে তোমাদের ভালো লাগলে আমার পেছনে নামাজ পড়, নয়তো আমি তোমাদের ছেড়ে যাব।’  কিন্তু মুসল্লিরা তাঁকে নিজেদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করতেন এবং তাঁর পেছনেই নামাজ পড়তে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করতেন। এরপর একদিন রাসুলুল্লাহ [সা.] তাদের জনপদে এলে সবাই মিলে হজরত ‘কুলসুম’ [রা.] এর নামাজের কথা তাঁর কাছে বললেন। তখন রাসুল[সা.] হজরত কুলসুম [রা.]-এর উদ্দেশ্যে বললেন- ‘তুমি তোমার সাথীদের কথামত কাজ করো না কেন? আর প্রত্যেক রাকাতে কেনইবা এই সুরা তেলাওয়াত কর?  রাসুল[সা.]-এর প্রশ্নে জবাবে হজরত কুলসুম অতি সংক্ষেপে বললেন, ‘আমি সুরা ইসলাসকে ভালোবাসি’।  রাসুল [সা.] তাঁর উত্তর শুনে ইরশাদ করলেন- ‘সুরা ইখলাসের প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাত পৌঁছে দেবে’। (বুখারী: ৭৪১ অবলম্বনে)

শুধু জান্নাত নয়, সুরা ইখলাসকে ভালোবেসে অপর একজন সাহাবি স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। একবার রাসুল [সা.] এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে ইমামতি করতেন, তখন ইখলাস সূরাটি দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। মুজাহিদগণ সেই অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তন করে রাসুলুল্লাহ [সা.] -এর খেদমতে বিষয়টি আলোচনা করলেন। তিনি বললেন- তাঁকেই জিজ্ঞাসা কর। কেনইবা সে এই কাজটি করেছে। এরপর তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, এই সুরায় অল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। এই জন্য সুরাটি তিলাওয়াত করতে আমি ভালোবাসি। তখন রাসুল [সা.] বললেন- তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ পাকও তাঁকে ভালবাসেন। (বুখারি: ৬৯৪০)

লিখেছেন- মুফতি রাশিদুল হক, সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষাসচিব, নরাইবাগ ইসলামিয়া মাদরাসা, ডেমরা, ঢাকা।