ছবি সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ ৫ আসন: সুবিধাজনক অবস্থানে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে গৃহদাহ
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৩, ১১:০৭
(প্রিয়.কম) সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে আপাতত সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের নেই কোনও দলীয় কোন্দল, নেই একাধিক প্রার্থী। বর্তমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস এমপি এ আসনে মহাজোটের একমাত্র দৃশ্যমান প্রার্থী। তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন এলাকার উন্নয়নে সময় ব্যয় করছেন। সেই সঙ্গে ধরে রেখেছেন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এই আসনের দুর্গম এলাকায় তিনি তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করার জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরও কয়েকজনের নাম বিচ্ছিন্নভাবে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তাদের কোনও তৎপরতা শুরু হয়নি। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে যুব লীগের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মোহন দলীয় ফরম তুলেছেন, তবে এখনও এলাকার কোনও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার ন্যূনতম অংশগ্রহণও দেখা যায়নি। এ আসনের বেলকুচি উপজেলায় বিএনপির ভোটার সংখ্যা বেশি। এ আসনভুক্ত অপর উপজেলা চৌহালীতে আওয়ামী লীগের ভোটার সংখ্যা বেশি। বেলকুচিতে বিএনপিতে রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। বর্তমানে তারা দু’ভাগে বিভক্ত। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের নেতৃত্বে এক গ্রুপ রাজাপুর ও তামাই-সুবর্ণসাড়া কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আর বেলকুচি ডিগ্রি কলেজসহ এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আবু কোরাইশী খানের ছেলে ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মরহুম শহীদুল্লাহ খানের ভাতিজা গোলাম মওলা খান বাবলুর নেতৃত্বে অপর গ্রুপ উপজেলার অন্যান্য স্থানে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর, থানার গেটে হামলাসহ নানা কাজে জড়িয়ে পড়ে। এর পর উপজেলার মবুপুর গ্রামে ফৌজদারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই জামায়াতের কর্মকাণ্ড ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামসহ নির্দিষ্ট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। জেলা জামায়াতের সাবেক আমির, বেলকুচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আলম এ আসনে প্রার্থী হিসেবে ঈদের আগে পোস্টার লাগিয়েছিলেন। কিন্তু মামলার জালে জড়িয়ে পড়া জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এখন আর প্রকাশ্যে আসছেন না। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম রয়েছেন গোলাম মওলা খান বাবলু। ২০০৮ সালে তিনি ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের যৌথভাবে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পান। পরে তিনি মঞ্জুর কাদেরের অনুকূলে প্রার্থিতার দাবি থেকে সরে আসেন। এখানে চারদলীয় জোটের আরও যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তারা হলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। তবে পাবনার বেড়া উপজেলার একাংশ ও সাঁথিয়া নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনের এমপি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে সে আসনে মঞ্জুর কাদের ১৮-দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় তাঁতী দলনেতা হুমায়ন ইসলাম খান ও ১৯৯১ সালের বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী মরহুম আনসার আলী সিদ্দিকীর ছেলে মেজর (অব.) মামুন এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এর আগে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর বেলকুচি উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতারা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় সংগঠনটির কোনও কর্মকাণ্ড এখানে দেখা যাচ্ছে না। সৌজন্যে: যুগান্তর