ছবি সংগৃহীত

মানুষের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনও পাল্টায়: ফজলুর রহমান

Mahmud Ullah
লেখক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০১৬, ১১:২৮
আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৬, ১১:২৮

ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) দর্জিবাড়ি। একটি পরিচিত দেশিয় ফ্যাশন হাউজ। মূলত ভিন্ন ধরনের ওয়েস্টার্ন ও দেশিয় ঘরানার ফিউশন করে পাঞ্জাবীর ক্ষেত্রে একটি নতুস মাত্রা যুক্ত করতে সক্ষম হয় দর্জি বাড়ি। ২০০৩ সনে সর্বপ্রথম দর্জিবাড়ি আত্মপ্রকাশ করে ভিন্ন একটি নামে। ২০০৫ সনে দর্জিবাড়ি সম্পূর্ণ নতুন রুপে দেশের ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের কাছে আর্বিভূত হয়। পাঞ্জাবীতে ওয়েস্টার্ন লুক দর্জিবাড়িই প্রথম নিয়ে আসে। এতে হুহু করে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। আর এভাবেই একটি ব্র্যান্ড দাঁড়িয়ে যায়। অন্যান্যক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের জন্য ‘দর্জিবাড়ি’ তাই ইতোমধ্যেই অর্জন করেছে গ্রাহকদের আস্থা। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৩০টি শাখা রয়েছে দর্জিবাড়ির। সারাদেশে প্রতিটি জেলায় একটি করে শাখা খোলার কথা বলেন এর কর্ণধার ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: ফজলুর রহমান। দর্জিবাড়ি নিয়ে তার দীর্ঘ পথচলা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রিয়.কমের ফ্যাশন বিভাগে। 

প্রিয়.কম: প্রথম কিভাবে এই ফ্যাশন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হলেন?

ফজলুর রহমান: ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা আমার কর্ম জীবনের হাতেখড়ি। ফলে বিভিন্ন দেশে আমাকে কাপড়ের আমদানির জন্য যেতে হতো। হংকং, থাইল্যান্ড, দুবাইতে বিভিন্ন এশিয়ান ইউরোপিয়ান পোশাকের ব্র্যান্ড ও দেখে আমি ভাবতে থাকি এরকম আকারে আমি চাইলে আমার দেশেও একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারি। সেই থেকেই একটি ভাবনা ছিল আমার। পরে কয়েক বন্ধু মিলে প্রথম একটি শোরুম খুলি মৌচাকে। সেটা ২০০৩ এর ঘটনা। এবং এরপরে ২০০৫ সালে আমি দর্জিবাড়ি নামে নুতন আরেকটি আউটলেট খুলি বসুন্ধরাতে। এভাবেই দর্জি বাড়ি শুরু হয়। দেশে তখন সোলড্যান্স, ক্যাটস আইসহ অনেক ব্র্যান্ড ছিল। তাদের দ্বারা আমি অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি।  

প্রিয়.কম: ফ্যাশন হাউজ পরিচালনার পাশাপাশি আপনি অন্য কিছুর সঙ্গে যুক্ত আছেন কিনা?

ফজলুর রহমান: আমি বুলবুল একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা) এ ভায়োলিনের উপর শিক্ষকতা করি। এবং ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছি।  

প্রিয়.কম: আচ্ছা, ফ্যাশন শিল্পে এই দীর্ঘ দিনে আপনাকে কি ধরনের স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে?

ফজলুর রহমান: আমাকে এই ব্যবসায় তেমন কোন স্ট্রাগল করতে হয়নি। ছোটবেলা থেকেই মনের মধ্যে একটি ক্রিয়েটিভ ভাবনা কাজ করতো। সৃষ্টিশীল কিছুর সঙ্গে থাকতে চাইতাম। ছোট ভাই হাবিবুর রহমানও আমাকে দর্জিবাড়ি নাম দিয়ে সাহায্য করেছে। তবে এই ব্যবসায় সবচেয়ে বড় প্রতিকূল বিষয় হচ্ছে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত তাদের ফ্যাশন ভাবনা পাল্টায়। কোন ডিজাইন বা স্টাইল আমরা যা তৈরি করি। ফ্যাশন ট্রেন্ড খুব দ্রুতই পরিবর্তিত হয়। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি করে। আমাদেরকে প্রতি মূহুর্তে আপডেট থাকতে হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে নতুন ট্রেন্ড তৈরিতে দর্জিবাড়ি সব সময়েই ঝুঁকি নিয়ে থাকে। 

প্রিয়.কম: এছাড়া আর কি ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে আপনাকে যেতে হয়েছে?

ফজলুর রহমান: আমাদের দেশে এক্সপোর্ট রিলেটেড গার্মেন্ট শিল্প সরকারি বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু আমরা যারা লোকালি ফ্যাশনকে প্রমোট করে যাচ্ছি দেশিয় ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে যাচ্ছি তারা কোন ধরনের সরকারি ছাড় বা ভর্তুকি পাইনা। 

প্রিয়.কম: দর্জিবাড়ি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ফজলুর রহমান: এখন আমি পুরোপুরি দর্জিবাড়ি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছি। একে কিভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের এখন সারা দেশে ৩০টি শো রুম রয়েছে। প্রতিটি জেলায় নূন্যতম একটি করে শোরুম খোলার ইচ্ছা রয়েছে। 

প্রিয়.কম: অন্যান্য ফ্যাশন হাউজ থেকে দর্জিবাড়ির কোন বৈশিষ্ট দিয়ে আপনি আলাদা করবেন বলে মনে করেন? 

ফজলুর রহমান: পোশাক শুধুমাত্র শরীর ঢাকার কাজই করেনা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনও পাল্টায়। তাই দর্জিবাড়ি প্রথম থেকেই ভোক্তাদের সঙ্গে একটি সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে আসছে। আমরা পোশাক পরিবর্তন থেকে শুরু করে ভোক্তাদেরকে সব রকম সেরা সেবা দেয়ার চেষ্টা করে আসছি। সামনে আরো ভালো করবো। এছাড়া ভোক্তাদের সেবার মান, পণ্যের কোয়ালিটি এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর নিশ্চয়তা দিতে সচেষ্ট থাকি। 

প্রিয়.কম: এছাড়া..?

ফজলুর রহমান: আমরা মূলত ম্যানস ওয়্যার নিয়ে কাজ করে থাকি। পাঞ্জাবীতে আমরাই প্রথম বেসিক লুক থেকে বেরিয়ে ওয়েস্টার্ণ লুক নিয়ে আসি। এখনতো অনেক হাউজই আমাদের অনুসরণ করছে। এটা দেখতে আমাদের ভালো লাগে। ক্যাজুয়াল ওয়্যার নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সামনে আরো কিভাবে নুতন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করা যায়, সে চেষ্টায় দর্জিবাড়ি সব সময় এগিয়ে। 

প্রিয়.কম: আপনাদের মোট শ্রমিক সংখ্যা কতো?

ফজলুর রহমান: সব মিলিয়ে আমাদের শ্রমিক সংখ্যা ৭০০ এর মতো হবে। আপনাকে আর একটা কথা বলে রাখি, আমরা আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকটিও দেখছি। তাদের অধিকার, জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি। 

প্রিয়.কম: দর্জিবাড়িকে আগে অনেক প্রচারে দেখা যেতো। মানুষ তার নাম অনেক বেশি জানতো। এখন তেমন দেখা যায়না কেন?

ফজলুর রহমান: আগে দর্জিবাড়ি অনেক বেশি বিলবোর্ডে ছিলো। এখন মিডিয়া অনলাইন কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। তাই আমরাও অনলাইনে চলে এসেছি। তবে টিভিতেও আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে আসছি। ঈদেও আমরা একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির হবো। 

প্রিয়.কম: নতুন যারা ফ্যাশন হাউজ ব্যবসায় আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। 

ফজলুর রহমান: অবশ্যই তাদেরকে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল বিষয়ক পড়াশুনা করে আসলে ভালো হবে। যারা পড়াশুনা ছাড়া আগে এসেছে তাদের এই পর্যায়ে আসতে বেশকিছু সময় লেগেছে। এখন আর সে সুযোগও নেই। তাই পড়াশুনা করে আসলে দ্রূত ফ্যাশন বিষয়ে কিছু বুঝতে সুবিধা হবে। ভালও করতে পারবে অল্প সময়ে। ফেব্রিক্সস, ডিজাইন ও কালার এই তিনটি নিয়েই আমাদের কাজ। এগুলো ভালো করে জেনে বুঝে আসতে হবে। তাছাড়া ব্যবসাটাও বুঝে আসা জরুরি। 

প্রিয়.কম: ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

ফজলুর রহমান: ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবো যে, দর্জিবাড়ি ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিতে পুরোপুরি বিশ্বাসী নয়। সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাই ভোক্তাদের সঙ্গে সেবামূলক মেলবন্ধনই দর্জিবাড়ির প্রধান লক্ষ্য।

প্রিয়.কম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। 

ফজলুর রহমান: আপনাকে ও প্রিয়.কমকেও অনেক ধন্যবাদ।