ছবি সংগৃহীত
ভিডিও গেম আমাদের উপর যেসকল প্রভাব ফেলতে সক্ষম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০৫:৪৭
আপনি ছোট বেলায় নিশ্চয়ই গেম খেলেছেন? আপনার ঘরে যদি ছোট কোন বাচ্চা থাকে সেও নিশ্চয়ই গেম খেলে থাকে? আপনি সব সময়ই কিন্তু গেম খেলে এসেছেন বা কারও গেম খেলা দেখে এসেছেন কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন এই ভিডিও গেমগুলো আমাদের উপর কোন প্রভাব ফেলছে কি না?
আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন তবে অনেক গেমকেই কিন্তু ভায়োলেন্সের কারণে বিভিন্ন দেশে নিষেধ করা হয়েছে। এখন আপনিই বলুন, যদি একটি গেম মানুষের উপর প্রভাব নাই ফেলতে পারে তবে কোন একটি দেশ থেকে কেন সামান্য একটি ভিডিও গেমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে? ল্যাবের কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় ভায়োলেন্ট গেম খেলার পর অনেক গেমারের মধ্যেই এগ্রেশন বৃদ্ধি পায় ৪ শতাংশের মত। তবে অনান্য গবেষণায় দেখা যায় এই এগ্রেশনের পেছনে মূল কারণগুলো হচ্ছে ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, মেন্টাল হেলথ এবং আশেপাশের পরিবেশ। অন্যদিকে কিছু বিজ্ঞানী ভিডিও গেমস এবং রিয়েল ওয়ার্ল্ডের মধ্যে কোন প্রকার লিংক খুঁজে পেতেও ব্যার্থ হয়েছেন। তবে ভায়োলেন্সের বিপক্ষে শক্ত কোন প্রমাণ না থাকলেও ভিডিও গেম আমাদের মস্তিষ্ক তথা আমাদের কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে দিচ্ছে এবং এর পেছনে বেশ কিছু শক্ত তথ্য আছে বিজ্ঞানীদের কাছে, আর সেই তথ্যগুলোই আজ শেয়ার করছি আপনাদের সাথে। আলোচনা করব এমন কিছু ভালো দিকের যা ভিডিও গেমের মাধ্যমে আমরা পেয়ে থাকি। চলুন্ম শুরু করা যাক।
ভিডিও গেমের মাধ্যমে মোটর স্কিল বৃদ্ধি পায়
আন্ডারগ্রাউন্ড নামের একটি গেমের পেছনে মূলত কাজ করেছেন ডক্টর হেঙ্ক টেন কেট হোডিমেকার। গেমটিতে প্লেয়ারকে একটি ছোট বাচ্চা এবং তার রোবোটকে একটি মাইনের মধ্যে থেকে বের করতে হবে।
গেমপ্লে শুনে সহজ গেম মনে হলেও এটি কোন সাধারণ গেম নয়। কেট হোডিমেকার মূলত একজন সার্জন এবং তিনি এই আন্ডারগ্রাউন্ড গেমটিকেও ডিজাইন করেছেন তাঁর প্রফেশনের সাথে যুক্ত কিছু এলিমেন্ট নিয়েই।
গেমটিতে এমন কিছু কনট্রোল ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন যেগুলো সার্জারির সাথে সম্পর্কিত এবং কেট গবেষণায় দেখেছেন গেমটিতে যে ব্যবহারকারীরা ভালোভাবে সেই টুলগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন তারা সার্জিকাল স্কিলেও পরবর্তিতে ভালো করেছেন।
ভিডিও গেম ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটি বাড়ায়
সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা ভিডিও গেমের উপর ইনভেস্ট এবং রিসার্চ করে যাচ্ছেন এগুলোর পেছনে থাকা পটেনশিয়াল হিডেন বেনিফিটগুলো জানার জন্য। ইউনিভার্সিটি অফ জেনেভার একজন প্রফেসর ডাফনি বেভেলিয়ার গেমার এবং নন-গেমারদের মাঝে ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটিস পরীক্ষা করে দেখেছেন। পরীক্ষাটি ছিল এমন যে সাবজেক্টকে একই সাথে মাল্টিপল মুভিং অবজেক্টের পজিশন ট্র্যাক করতে হবে।
গবেষণা শেষে তিনি দেখতে পান যারা ভিডিও গেম খেলেন তাদের ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটি নন-গেমারদের থেকে ঢের বেশি। কেননা তিনি মনে করেন, যারা ফাস্ট অ্যাকশন গেম খেলে থাকে তাদের সর্বক্ষণ তাদের অ্যাটেনশন স্ক্রিনের এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, বিভিন্ন মুভিং অবজেক্টের উপর সুইচ করতে হয় এবং এর ফলে ধীরে ধীরে তাদের এই অ্যাবিলিটি বৃদ্ধি পায়।
গেমাররা যারা ফাস্ট অ্যাকশন গেম খেলে থাকেন তাদের ব্রেইনে ইনকামিং ভিস্যুয়াল এই ইনফরমেশনগুলো অনেক এফিসিয়েন্টলি কাজ করে থাকে বলেই এই পার্থক্য করা সম্ভব হয়েছে বলেই উনি জানান।
ব্রেনের গ্রোথ হয় গেম খেলার মাধ্যমে
বার্লিনে অবস্থিত ম্যাক্স-প্ল্যাংক ইন্সটিটিউট অফ হিউম্যান বিহেবিয়রের একজন প্রফেসর, প্রফেসর সিমোন কুহন আমাদের ব্রেনে ভিডিও গেমের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করে দেখেছেন।
একটি গবেষণায় তিনি এফএমআরআই প্রযুক্তি (ফাংশনাল এমআরআই) ব্যবহার করে এমন একজন সাবজেক্টের ব্রেন স্টাডি করেছেন যিনি পরপর দুই মাস সুপার মারিও ৬৪ ডিএস খেলেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে তিনি দুইমাস পর সেই একই সাবজেক্টের ব্রেনের তিনটি স্থানে গ্রোথ দেখতে পেয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে, প্রিফ্রন্টাল করটেক্স, রাইট হিপ্পোক্যামপাস এবং সেরেবেলাম যেগুলো ন্যাভিগেশন এবং ফাইন মটোর কন্ট্রোলের সাথে সম্পর্কিত।
ব্রেনকে শার্প করে ভিডিও গেম
এ বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ভিডিও গেমের রিসার্চে সবচাইতে এক্সাইটিং রিসার্চ ফিল্ড ধরা হয় বয়স্ক মানুষের মেন্টাল ডিক্লাইনকে ট্যাকেল করা। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন প্রফেসর অ্যাডাম গ্যাজেলেই এবং তাঁর টিম একটি গেম ডিজাইন করেছিলেন (Neuroracer) বয়স্ক মানুষদের উপর ফোকাস করে যাতে একজন প্লেয়ারকে একটি গাড়ি চালাতে হবে এবং সেই সাথে অনান্য টাস্কও সম্পুর্ন করতে হবে।
প্রফেসর - Adam Gazzaley
গেমটি প্রায় ১২ ঘন্টা খেলার পর দেখা যায় যে বয়স্ক প্লেয়ারদের শার্পনেস বৃদ্ধি পেয়েছে এমনকি তারা তাদের চেয়ে বয়সে বেশ কম এমন প্লেয়ারদের হারিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও লক্ষ্য করেন যে গেমটি খেলার পর তাদের ওয়ার্কিং মেমরি এবং অ্যাটেনশন স্প্যান বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গবেষণার পর প্রফেসর মনে করেন যে এই গেম বা এরকম আরও গেমের মাধ্যমে আমাদের ব্রেনের আরও অনেক পটেনশিয়াল দিক আমরা বৃদ্ধি করতে পারব। এছাড়াও তিনি বলেন -
"I'm intrigued with the idea that in the future a psychiatrist or neurologist might pull out their pad and instead of writing down a drug, writes down a tablet game times two months, and uses that as a therapy, as a digital medicine."এখন আপনিই বলেন, আমি না হয় ভুল লিখেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু এত এত গবেষণা করে নিশ্চয়ই বিজ্ঞানীরা সবাই মিলে ভুল কথা বলবেন না? হ্যাঁ, ভিডিও গেম আমাদের উপকার করছে, বেশ কিছু দিক দিয়েই। তাই আমি মনে করি এখন আর বাসার ছোটদের বকাঝকা না করে আমাদের উচিত মগজ খাটিয়ে খেলতে হয় এমন কিছু গেম তাদের খেলতে দেয়া। খেলার খেলাও হল, আবার বাচ্চাদের উপকারও হল। কি বলেন? সূত্র - বিবিসি, উইকি