(প্রিয় টেক) কথায় বলে, প্রথমে দর্শনদারি, তারপরে গুণ বিচারী! যে বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, সেখানে সোনালি নেমপ্লেটে “ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী” লেখা চোখে পড়ল। বেশ ছিমছাম কিন্তু শৈল্পিক উপস্থাপন। সিঁড়ি বেয়ে আমি উপরে উঠতে লাগলাম। দেয়ালের চমৎকার রং দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশটা চমৎকার করে সাজানো। রুচিশীল পোরট্রেট, ল্যান্ডস্কেপ আর টেরাকোটা’র সমন্বয় নজর কাড়ল। আমি সন্তর্পণে কলিং বেল চাপলাম। সুদর্শন এক বয়োজ্যেষ্ঠ দরোজা মেলে ধরে হাসলেন। আমি বললাম, ফারসীম স্যরের কাছে এসেছি। ভদ্রলোক তার একমাত্র পুত্রকে ডাকলেন। আমাকে একটি রিডিং রুমে বসতে দেওয়া হল। মোটামুটি মাঝারি আকারের একটি রুম; যেদিকে তাকাই চারিদিকে শুধু বই আর বই! বিভিন্ন রকম বই। শিল্প, সাহিত্য আর ইঞ্জিনিয়ারিং সব রকম বই সেখানে রয়েছে। সামান্য পরেই স্যার সস্ত্রীক হাসিমুখে রিডিং রুমে প্রবেশ করলেন।
এক সংস্কৃতি প্রেমী সৌখিন ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির কথা বলছি। “ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী” বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি(বুয়েটের) ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহধর্মিণী ফারহানা মান্নান; শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করেন।

প্রিয় টেক শিক্ষক: ডঃ ফারসীম ও স্ত্রী ফারহানা
ডঃ ফারসীম ছোটবেলা থেকেই পদার্থবিদ্যার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে তিনি তার সমস্ত আগ্রহকে কেন্দ্রীভূত করেছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বইও লিখেছেন। তার লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে “জ্যোতির বিজ্ঞান বিশ্বকোষ”, ‘ন্যানো’, “মহাকাশের কথা” ও “জ্যোতির পদার্থ বিজ্ঞান পরিচিতি”। এছাড়াও বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান বিশ্বকোষ রচনায় তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অন্যান্য লেখকদের সাথে ডঃ ফারসিমের যৌথভাবে “দূর আকাশের হাতছানি”, “সবার জন্য জ্যোতির্বিদ্যা” ও “অপূর্ব এই মহাবিশ্ব” ইত্যাদি সুনিপুণ রচনা সবার দৃষ্টি কেড়েছে ।
তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ন্যাশনাল কমিটির ট্রেজারার। জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি সকলকে আগ্রহী করে তুলতে এ বিষয়ে তিনি ওয়ার্কশপ আয়োজন করে থাকেন।
ফারসীম মান্নান ১৯৯৯ সালে বুয়েট থেকে বিএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, ২০০২ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তার গবেষণাকর্ম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সব জার্নালে।
ফারহানা মান্নান ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি ও পরে বিএড করে এখন ঢাকা বিশ্ববিস্যালয়ে এমএড করছেন।
সৃষ্টিশীল এই ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির সাথে কথা হয় "প্রিয় টেক" টিমের। বাংলাদেশের মাধ্যমিক লেভেলের পাঠ্যপুস্তক, ছাত্রদের জন্য দিক নির্দেশনা ও আরও অনেক বিষয়ে তারা খোলামেলা কথা বলেছেন আমাদের সাথে। তাদের সাথে আলোচনার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হল এখানে।
প্রিয় টেক:
ছোটবেলায় কি হতে চেয়েছিলেন?
ডঃ ফারসীম- যখন নাইন টেনে পড়ি, তখন পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতি আমার প্রচণ্ড ঝোঁক তৈরি হয়। ইচ্ছা ছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিদ্যা পড়ব। ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা বিভাগে দশম স্থান ছিলাম। যেদিন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেবার কথা তার দুদিন আগে কার্জন হলে প্রচণ্ড মারামারি হয়; আমার ইচ্ছা আর পূরণ হল না। বাসার কাউকে আর ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার ব্যাপারে রাজি করাতে পারিনি।
ফারহানা- ইঞ্জিনিয়ার শব্দটার সাথে ছোট বেলা থেকেই আমার ফ্যাসিনেসন ছিল, বাবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় কারণে নামের আগের এই ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবী আমাকে খুব টানত। তবে ইলেক্ট্রিক্যালে পড়ার খুব ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভর্তি হলাম সিএসই-তে। সেসময় সিএসই পড়ার জন্য একটা ক্রেজ তৈরি হয়েছিল।

প্রিয় টেক শিক্ষক: ডঃ ফারসীম ও স্ত্রী ফারহানা
প্রিয় টেক:
ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে এগিয়ে রাখবেন?
ডঃ ফারসীম- আমি ইলেকট্রিক্যালকেই এগিয়ে রাখব, কারণ এখান থেকে যেকোনো পছন্দনীয় বিষয়ে শিফট করা সম্ভব।
ফারহানা- বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিলকে এগিয়ে রাখব। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বলতে গেলে অবশ্যই কম্পিউটার সাইন্স। ইলেকট্রিক্যাল নিয়ে বলব, বিষয়টা এমন যে এর চাহিদা একটা মার্জিনাল পর্যায়ে সবসময়ই থাকে। কখনো এর চাহিদা একেবারে কমে যায়না বা একেবারে বেড়েও যায় না।
প্রিয় টেক:
ফান্ডিং পেলে আপনি বুয়েটকে নিয়ে কি প্রত্যাশা করেন?
ডঃ ফারসীম- বুয়েটে অসাধারণ মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে, ফান্ডিং পেলে বুয়েট এশিয়ার প্রথম সারির ইউনিভার্সিটি হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রিয় টেক:
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে কেন রিসার্চ হয় না?
ডঃ ফারসীম- একটি বড় সমস্যা হল ফান্ডিং। টাকাপয়সা না পেলে ডেডিকেটেড ও ফোকাসড রিসার্চ করানো যায় না। যেটি সম্ভব হয় সেটি হল ব্যাক্তিগত আগ্রহ থেকে রিসার্চ। এই রিসার্চের সমস্যা হল এটি আন্তর্জাতিক পাবলিকেশন মুখি হয়ে পরে। কোন ছাত্রের একটি পেপার করতে পারলে তার লাভ, সে বিদেশে কোন ভাল ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাবে। আর আমাদের দেশের শিল্পকারখানা ও কর্পোরেট সেক্টরগুলো এখনো রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে তেমন আগ্রহী হয়ে ওঠে নি। তবে বিক্ষিপ্তভাবে এখানে ওখানে কিছু কিছু গবেষণা হচ্ছে।
প্রিয় টেক:
অনেকে বলে থাকেন, আজকাল স্টুডেন্টদের আগ্রহের বিষয় খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
ডঃ ফারসীম ও ফারহানা- সুবিধা হল, এতে ওরা অল্প সময়ে অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছে। সার্ফেস লেভেল লার্নিং এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে। কিন্তু অসুবিধা হল কোন বিষয়ের গভীরে তারা যেতে পাড়ছে না। ফলে ভাসাভাসা ভাবে অনেক বিষয়ে জানলেও, সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিশেষ দক্ষতা অর্জিত হচ্ছে না।
প্রিয় টেক:
বর্তমানে রিসার্চে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত?
ডঃ ফারসীম- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক নীতিমালা নির্ধারণী নিয়ে আমি কাজ করেছি। সেখানে ন্যানো টেকনোলজি, সোলার সেলের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধিকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, রিনিউয়েবল এনার্জি ইত্যাদি আরও বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর যেকোনো একটি বিষয়ে সফল গবেষণা সম্ভব হলে তা বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে পারে বলে আমি মনে করি।
ফারহানা- প্রধানত এনভায়রনমেন্ট, তারপর হেলথ ও এনার্জি নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে।
প্রিয় টেক:
বুয়েটে শিক্ষকতার বাইরে কি করছেন?
ডঃ ফারসীম- শিক্ষকতার বাইরে লেখালেখি করি, বই পড়ি। গণিত অলিম্পিয়াড, ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ইত্যাদির আয়োজনের সাথে থাকি। এছাড়াও বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বিজ্ঞান ক্লাবের জন্য কাজ করি।
প্রিয় টেক:
মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আপনাদের মতামত?
ডঃ ফারসীম- আমি বইগুলোর আরও আধুনিকায়নের কথা বলব; অ্যাডভান্সড লেভেলের আরও কিছু সংযুক্ত করা যেতে পারে। আমি ইংলিশ মিডিয়ামের বইগুলোকে দেখেছি ওগুলো বেশ আধুনিক হয়েছে। আমরা বাংলা মিডিয়ামের ক্ষেত্রে অতটা না পারলেও কমপক্ষে ওদের কাছাকাছি পর্যায়ে থাকতে পারি।
ফারহানা- আমি মনে করি মাধ্যমিক পর্যায়ে যারা পড়ান তাদের উপযুক্ত ট্রেনিং দরকার রয়েছে। এছাড়াও আমি মনে করি শিক্ষা ব্যবস্থা ডিসেন্ট্রালাইজ বা বিকেন্দ্রীকরণ করা যেতে পারে। যেমন ‘কৃষি বিজ্ঞান’ বিষয়ে আমাদের ঢাকা শহরের অধিবাসীদের যদি শেখানো হয় ‘কিভাবে ছাগল পালন করা যায়’; তাহলে কি লাভ হবে? কাজেই বিভিন্ন এলাকার মানুষের নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন হতে পারে।
প্রিয় টেক:
ছাত্রদের ইঞ্জিনিয়ারিং এর দিকে আরও আগ্রহী করে গরে তোলার জন্য কি করা যেতে পারে?
ডঃ ফারসীম ও ফারহানা- মাধ্যমিক লেভেলের বই গুলোতে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে তুলে ধরা যেতে পারে। এতে ছাত্ররা আরও আগ্রহী হবে।

প্রিয় টেক শিক্ষক: ডঃ ফারসীম ও তার স্ত্রী ফারহানা
প্রিয় টেক:
বাংলাদেশে যে পরিমাণ ছাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, আপনি কি মনে করেন আরও বেশী পরিমাণে ছাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা উচিত?
ডঃ ফারসীম ও ফারহানা- ইঞ্জিনিয়ারিং এ বর্তমানে যে স্টুডেন্ট আছে যথেষ্ট। আমি মনে করি অন্যান্য বিষয় গুলতেও মেধাবী স্টুডেন্ট যাবার দরকার আছে; তাহলে ঐ ডিপার্টমেন্ট গুলো সমৃদ্ধ হবে। বুয়েটে যা দেখেছি ভার্সিটির সব মেধাবী স্টুডেন্টরা সবাই ইলেকট্রিক্যাল পড়তে চায়। ফলে অনেক ছেলেমেয়েরা এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে, আর বাকিরা প্রত্যাশিত সফলতা পায়না। যদি দেশের সব শীর্ষ মেধা স্থানে থাকা ছাত্ররা পছন্দ অনুসারে বিভিন্ন সাবজেক্টে পড়ত তবে হয়ত দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা আরও অনেক মেধাবী মুখ দেখতে পেতাম।
প্রিয় টেক:
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে চাকুরী না করে যারা অন্যান্য ফিল্ডে যেতে চান তাদের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি?
ডঃ ফারসীম- দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং চাকুরীর খুব বেশী ফিল্ড নতুন করে তৈরি হচ্ছে না। কাজেই যারা অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের পেশাগত যোগ্যতা কাজে লাগাতে চান তাদের জন্য অবশ্যই শুভকামনা। যেমন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীতে ইঞ্জিনিয়ারদের অংশগ্রহণে সেই সেক্টরগুলি প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও আধুনিক হতে শুরু করেছে। আমি বিশ্বাস করি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেই যে ইঞ্জিনিয়ারিং চাকুরী করতে হবে এই কনসেপ্ট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত।
প্রিয় টেক:
বিদেশী কিছু ভার্সিটিতে “ডাবল মেজর” (একই সাথে দুটি ‘মেজর’ সাবজেক্ট নিয়ে বিএসসি ডিগ্রি) দেবার প্রচলন দেখা যায়। আপনার এই বিষয়ে অভিমত কি?
ডঃ ফারসীম ও ফারহানা- এটি দারুণ পদ্ধতি। ধরুন আপনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করলে দেখা যায় অ্যাপ্লাইড ফিজিক্সের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তারপর যদি আরও একবছর বা আরও কিছু সময়ে কিছু আবশ্যিক সাবজেক্ট পড়িয়ে তারপর দুটি সাবজেক্টে বিএসসি ডিগ্রি দেওয়া হয় তবে একই সাথে সে দুটি ফিল্ডে কাজ করার যোগ্যতা পেতে পারে।
প্রিয় টেক:
আন্তরিক সময় দেবার জন্য আপনাদের দু'জনকে অনেক ধন্যবাদ
ডঃ ফারসীম ও ফারহানা- ইসতিয়াক আপনাকেও ধন্যবাদ, জাকারিয়া স্বপন ভাইকে আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাবেন।
পুরো সময়টি অতি চমৎকার ছিল। স্যারের সেন্স অব হিউমার মুগ্ধ হবার মত। অবশেষে চা-নাস্তা আর সাথে স্যারের লেখা বই, ম্যামের চিত্রকর্মের বই ও একটি ম্যাগাজিন উপহার নিয়ে “প্রিয় টিম” নিয়ে চলে আসলাম সদা হাস্যোজ্জল, অত্যন্ত মেধাবী “প্রিয় টেক শিক্ষক” ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী স্যারের বাসা থেকে।