ছবি সংগৃহীত

দুধ পান বাড়ায় আলসারের সমস্যা!

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৫:৩৪
আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৫:৩৪

যখন আপনি খুবই অসুস্থ, কিছুই খেতে ভালো লাগছে না, তখন এক গ্লাস দুধের চেয়ে ভালো খাবার আর কি হতে পারে! এটা ঝটপট খেয়েও ফেলতে পারবেন, আবার অসুস্থ অবস্থায় দুধ খেলে তা আপনার দেহে কিছুটা পুষ্টিও সঞ্চার করবে। এই কারণে, প্রায়ই চিকিৎসকরা যারা অন্ত্রের ডিওডেনামের আলসারে ভুগেন, তাদের যন্ত্রণা উপশমের জন্য দুধ খাবার পরামর্শ দেন। দুধের প্রকৃতি কিছুটা অম্লীয় বা এসিডিক। তবে পাকস্থলী থেকে স্বাভাবিকভাবেই যে গ্যাস্ট্রিক এসিড নির্গত হয়, তার তুলনায় দুধের অম্লত্ব খুবই কম। তাই ধারণা করা হতো, দুধ পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক এসিডের তীব্রতাকে প্রশমিত করে দিবে। এর এর ফলে আলসারে আক্রান্ত রোগীর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কম হবে। কিন্তু গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বলছে, দুধ পাকস্থলীর এসিডের তীব্রতা সাময়িকভাবে প্রশমিত বা কমিয়ে দিলেও, পরবর্তীতে পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে রোগী আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

১৯৭৬ সালে একদল গবেষক এগিয়ে আসেন কেন আলসারে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি কিছু খেলেই পেটে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে। তাঁরা প্রথমে তাদের পাকস্থলীকে পুরোপুরি খালি করে ফেলেন। এরপর নাক দিয়ে পাইপের মাধ্যমে দুধ টেনে নিয়ে পাকস্থলী দুধে পূর্ণ করেন। এক ঘণ্টা পর তাদের পাকস্থলী থাকা দুধের পরিপাককৃত অংশ বিশেষ পদ্ধতিতে বের করে ফেলা হয়। এরপর তাদের সবার পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণের হার প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর পরিমাপ করা হয়। গবেষকরা লক্ষ্য করলেন, দুধ খাবার ফলে গবেষণাতে অংশ গ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের পাকস্থলী থেকে পরবর্তী তিন ঘণ্টা যাবত অনেক বেশি পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসৃত হয়। এর থেকে গবেষকরা বুঝতে পারেন, আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোন কিছু খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ পরেই কেন তাদের পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। শুধু দুধই নয়; চা, কফি বা বিয়ারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এদের সবাই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, দুধে থাকা কোন উপাদান পাকস্থলীতে এসিড নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয়? গবেষকরা দেখলেন, পূর্ণ ননীযুক্ত, অল্প ননী যুক্ত কিংবা ননী-মুক্ত, সব ধরণের দুধই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণের হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দুধে আছে ক্যাসিন নামে এক ধরণের প্রোটিন। এটি দুইভাবে কাজ করতে পারে। এক, এটি গ্যাস্ট্রিন নামের হরমোনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। আর এই হরমোনটি অধিক পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক এসিডের নিঃসরণ ঘটায়। দুই, ক্যাসিন পাকস্থলীর কোষ গুলোকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে গ্যাস্ট্রিক এসিড বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়। তবে কি দুধ খাওয়া উচিত নয়? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই দুধ খাওয়া উচিত। কারণ, দুধ প্রোটিন আর ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। কিন্তু দিনে কয় গ্লাস দুধ আমাদের জন্য উপকারী? ১৯৮০ সালে নরওয়ের ট্রমসো শহরে ২১,০০০ প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিকে এই পরীক্ষার জন্য আহবান জানানো হয় ও তাদেরকে বলা হয়, গবেষকরা পরবর্তী সাত বছর তাদের খাদ্যাভ্যাস পর্যবেক্ষণ করবেন। দেখা গেল, যারা অনেক বেশি পরিমাণে দুধ খান (দিনে দুই-তিন গ্লাস), তাদের আলসারে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। তাই গবেষকদের মতে, দুধ খাওয়ার ব্যপারটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিহার করাই ভালো।