ছবি সংগৃহীত

উইনস্টন চার্চিল এর অজানা কিছু তথ্য

সাবেরা খাতুন
লেখক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:০৩
আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:০৩

ফটো সোর্স : www.geni.com

(প্রিয়.কম)- একবিংশ শতাব্দীর এজন সম্মানিত ও দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ ছিলেন উইনস্টন চার্চিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৮৭৪ সালের ৩০ নভেম্বর ইংল্যান্ডের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন উইনস্টন চার্চিল। ইতিহাসের সফলতম এই রাষ্ট্রনায়ক ছাত্র হিসেবে সাফল্য লাভ করেননি। স্কুলের গন্ডি পেরুতে তাকে ৩টি স্কুল বদলাতে হয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি স্বাধীনচেতা ও বিদ্রোহী স্বভাবের ছিলেন। সামরিক জীবনে প্রবেশ করতে পরীক্ষায় পাশ করেন তিনবারের প্রচেষ্টায়। অথচ তিনিই একসময় ওয়াশিংটন পোষ্টের মত পত্রিকার রিপোর্টার হয়েছিলেন। তিনিই একমাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ১৯৫৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। সফল রাজনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদ চার্চিল চল্লিশটির বেশি বই রচনা করেছেন। ১৯৪০-১৯৪৫ ও ১৯৫১-১৯৫৫ এই দুই মেয়াদে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯০৮ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর ক্লেমেন্টাইন হোজিয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন উইনস্টন চার্চিল। দাম্পত্য জীবনে তারা পাঁচ সন্তানের জনক জননী। নানা বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।  খ্যাতিমান এই রাজনীতিবিদের অনেক মজার ঘটনা আছে যেমন :  

১। ইন্ডিয়া ভ্রমণের পর থেকে তিনি হুইস্কি খাওয়ার প্রতি আসক্ত হন

উইনস্টন চার্চিল এর বিখ্যাত উক্তি ছিল, “খাওয়ার মাঝখানে মদ্যপ পানীয় পান পান করবো না এটাই আমার জীবনের নিয়ম করে নিয়েছিলাম”। তিনি ভারত ভ্রমণের আগ পর্যন্ত হুইস্কি অপছন্দ করতেন। তিনি ভারত ভ্রমণে এসে শিখেছিলেন কিভাবে সঠিক ভাবে হুইস্কি পান করতে হয়। এখানে তিনি জনি ওয়াকার হুইস্কি সোডার সাথে পান করতেন।  

২। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে চমকে দিয়েছিলেন

অন্যরা কি ভাবছে তা তিনি মোটেই গ্রাহ্য করতেননা, এমনকি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে ও না। তিনি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের সামনেই হঠাৎ করে স্নানের তোয়ালে খুলে ফেলে বলেছিলেন, “লুকানোর কিছু নেই”।  

৩। তিনি পশুদের পছন্দ করতেন

অনেকেই ব্রিটিশ বুলডগকে চার্চিলের পছন্দের মনে করতেন। কিন্তু এই রাজনীতিবিদের পছন্দের ছিলো বিড়াল, বিশেষ করে জক নামের বিড়াল যার কমলা রঙের দেহে সাদা দাগ ছিলো। যার নামকরণ করা হয়েছিলো চার্চিলের ব্যক্তিগত সচিব স্যার জন জক কলভিল এর নামে।

৪। তিনি সিনেমা দেখতে পছন্দ করতেন

তিনি পরিবারের সদস্য, মেহমান ও কর্মচারীদের নিয়ে নিয়মিত সিনেমা দেখতেন। তার পছন্দের চলচ্চিত্র ছিলো “দ্যাট হেমিল্টন ওমেন”। তিনি সঙ্গীত পছন্দ করতেন।  

৫। তাঁর মা তাকে ধূমপান পরিহারের জন্য প্রলুব্ধ করতে ঘুষ দিয়েছিলেন  

চার্চিলের বয়স যখন ১৫ বছর তখন তাঁর মা ছেলেকে শর্ত দিয়েছিলেন, যদি চার্চিল আগামী ছয় মাস ধূমপান না করে থাকতে পারে তাহলে তাকে একটি বন্দুক ও একটি টাট্টু ঘোড়া উপহার দিবেন। তিনি এতে সফল হয়েছিলেন তবে সেটা সব সময়ের জন্য নয়।

৬। তিনি তাঁর মেয়ের জামাইকে পছন্দ করতেন না

চার্চিলের মেয়ে সারা যে ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন তাকে তিনি দুচোখে দেখতে পারতেন না। একদিন দুজনে হাঁটতে বেরিয়েছেন। এ সময় মেয়ে জামাই প্রশ্ন করল, যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন এমন কেউ আছেন কি? চার্চিল প্রায় গর্জন করে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, একজন আছেন, মুসোলিনি। তিনিই একমাত্র লোক যে কিনা নিজের মেয়ে-জামাইকে গুলি করে মারার সাহস দেখিয়েছিলেন”।

আরো কিছু তথ্য : তিনি ছিলেন একজন ফ্যাশন সচেতন মানুষ, তিনি সময় নষ্ট করতেন না, তিনি ক্রিম স্যুপের পরিবর্তে স্বচ্ছ স্যুপ পছন্দ করতেন, তিনি একমাত্র ব্রিটিশ যাকে প্রথম সম্মানসূচক আমেরিকার নাগরিকত্ব দেয়া হয়, ১৯৪৩ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে দুর্ভিক্ষের জন্য তার নীতিমালা দায়ী ছিলো বলে মনে করা হয়, দুই আঙ্গুলে ভি চিহ্ন দেখিয়ে বিশ্বে সাড়া ফেলেছিলেন তিনি, তিনি ১৯৬৫ সালে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ  করেন।

লিখেছেন-

সাবেরা খাতুন

ফিচার রাইটার, প্রিয় লাইফ

প্রিয়.কম