ছবি সংগৃহীত
শেয়ারের ব্যবসার জাকাত আদায় করার পথ ও পদ্ধতি
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৬, ০৯:১৭
প্রশ্ন : আমি ও আমার ঘনিষ্ঠজনের অনেকেই বিভিন্ন সময় শেয়ার বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করে থাকি। আর যখন যাকাত আদায়ের সময় হয়, তখন তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকি। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হচ্ছে, শেয়ারের কোন্ কোন্ সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে এবং তার বিধান ও পদ্ধতি সমূহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন। উত্তর : কোনো কোম্পানি অথবা শেয়ার বাজার হতে ক্রয়কৃত শেয়ারের কোন সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে, তা জানার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয়ের বিবেচনায় শেয়ারের প্রকারভেদ নির্ণয় করতে হবে। বর্তমানে দু’টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শেয়ার ক্রয় করা হয়। যথা- ১. শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির অংশীদার হয়ে মুনাফা অর্জন করা। ২. শেয়ারে ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা তথা শেয়ারের দরপতন ও বৃদ্ধি লক্ষ্য করতঃ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা। উপরোল্লিখিত দ্বিতীয় প্রকার শেয়ার যা বেচা-কেনার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা হয়। তথা শেয়ারের দরপতন লক্ষ্য করে শেয়ার ক্রয় করা, আবার যখন উক্ত শেয়ারের দর বৃদ্ধি পায়, তখন তা বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করা। এ প্রকার শেয়ারের যাকাত আদায়ের পদ্ধতি হল, পূর্বের নিয়মানুসারে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার নির্দিষ্ট দিনে উক্ত শেয়ারের যা বাজার মূল্য হবে, তার যাকাত দিতে হবে। কোম্পানির বিনিয়োগের বিবেচনায় পূর্বোল্লিখিত প্রথম প্রকার শেয়ার আবার দু’ভাগে বিভক্ত। যথা- (ক) কোম্পানি ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে। যেমন- কোম্পানি কল-কারখানা স্থাপন করতঃ পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করে বাজারজাত ইত্যাদির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে।(খ) কোম্পানি ক্রয়-বিক্রয় এর মাধ্যমে ব্যবসা করে না, বরং ক্রয়কৃত পণ্যদ্রব্য ভাড়া দিয়ে তা থেকে মুনাফা অর্জন করে। নি¤েœ প্রথম প্রকার শেয়ারের প্রত্যেক প্রকারের যাকাত আদায়ের বিধান বিস্তারিত উল্লেখ করা হল। (ক) যে কোম্পানি ব্যবসার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে, যেমন কোম্পানি কল-কারখানার মাধ্যমে লোহা, সিমেন্ট বা দ্রব্য-সামগ্রী উৎপাদন করতঃ বাজারজাতের মাধ্যমে ব্যবসা করে। তাহলে এমন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে, যাকাতের বিধান হল, যে পরিমাণ অর্থ কল-কারখানা ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়েছে, তা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মূলধন, উৎপাদিত দ্রব্য ও অর্জিত মুনাফার যাকাত দিতে হবে। (খ) আর যে কোম্পানি শুধু ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে, তথা কোম্পানি মূলধন বিনিয়োগের মাধ্যমে কোনো পন্য ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে না, বরং ক্রয়কৃত পণ্য ইত্যাদি ভাড়া দিয়ে মুনাফা অর্জন করে। এমন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে, তার যাকাতের বিধান হল,শেয়ারের মূলধনের উপরে যাকাত আসবে না, বরং তা থেকে অর্জিত মুনাফার উপরে যাকাত আসবে। যেমন- কোম্পানির দোকান, ভবন, বাস-ট্রাক, সিএনজি টেক্সী ইত্যাদি ভাড়া দিয়ে মুনাফা অর্জন করে। এক্ষেত্রে এগুলিকে নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গন্য করা হবে এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফারই শুধু যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লিখিত প্রথম প্রকার শেয়ারের পদ্ধতিদ্বয়- (ক-খ) এর ক্ষেত্রে শেয়ার ক্রেতার অর্থ কল-কারখানা ইত্যাদিতে কি পরিমাণ ব্যবহার হয়েছে তা যদি জানা না যায়, তাহলে সতর্কতামূলক শেয়ারের যা বাজার মূল্য হবে, তার যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, যদি কোনো কোম্পানির প্রসপেক্টাস বা তার বাৎসরিক সভায় একথা উল্লেখ করে যে,কোম্পানি প্রতি বছর নেসাব পরিমাণ মালের মালিক এমন শেয়ার হোল্ডারের যাকাত নিজ উদ্যোগে আদায় করে দিবে। তাহলে কোম্পানি এ দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখে। আর যদি কোম্পানি যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা না করে। তাহলে শেয়ার হোল্ডারগণ প্রত্যেকেই নিজ অংশের যাকাত আদায় করে দিবেন। আর শেয়ারের মুনাফা বছরের যে কোনো সময় হস্তগত হোক না কেন যাকাত আদায়ের সময় নিজের অন্যান্য মালের সাথে মিলিয়ে উক্ত মুনাফার যে পরিমাণ অংশ হাতে অবশিষ্ট থাকবে, তারও যাকাত আদায় করতে হবে। এবং শেয়ার বা শেয়ার হতে প্রাপ্ত মুনাফার উপরে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হল, শেয়ার হোল্ডারের নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হতে হবে। অথবা শেয়ারের ব্যবসা করলে তার বাজার মূল্য বা শেয়ার থেকে প্রাপ্ত মুনাফা তার অন্য মালের সাথে মিলিয়ে নেসাব পরিমাণ হতে হবে। গ্রন্থনা ও সম্পদানা : মাওলানা মিরাজ রহমান সৌজন্যে : মাসিক মুঈনুল ইসলাম