জাহিদ হাসান এমিলি। ছবি: সংগৃহীত

‘চেষ্টা থাকলে গ্রামের ছেলেরাও শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে পারে’

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪৫
আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪৫

(প্রিয়.কম) ফুটবলট মাঠে যাওয়া শুরু হয়েছিল ভাই-বন্ধুদের সঙ্গে। আর আনুষ্ঠানিক শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে। এর পর ক্লাব ফুটবলের পথচলা শুরু ব্রাদার্স ইউনিয়ন দিয়ে। আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধার মতো বড় বড় সব ক্লাবেই তিনি রেখেছেন প্রতিভার ছাপ। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন জাহিদ হাসান এমিলির কথা।

পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের উদয়কাঠিতে বেড়ে উঠা এমিলির। ইদ্রিস সরদার ও রত্নগর্ভা হাওয়া বেগমের পাঁচ সন্তান লিটন খান, শাকিল আহমেদ, জাহিদ হাসান এমিলি, ফয়সাল আহমেদ এমেকা আর সাব্বির খান। পাঁচজনই ঢাকার ফুটবলে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন কেবল এমিলি ও শাকিল। অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৯ দলে ছিলেন সাব্বির। এমিলি আর সাব্বির বিকেএসপি থেকে উঠে আসলেও বাকি তিন ভাই অবশ্য পরিশ্রম আর নিজেদের যোগ্যতায় দেশের ফুটবলে জায়গা করে নিয়েছেন।

কারো কারো মতে, দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোল এমিলিরই! তবে এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। দেশসেরা এই স্ট্রাইকারের ভাষ্য, বাংলাদেশের সব ঘরোয়া ফুটবল লিগ মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৮৭টি। আর মাত্র ১৩টি গোল হলেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগে ১০০ গোল করা খেলোয়াড়দের এলিট ক্লাবে নাম লেখাবেন এমিলি। 

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগে ১০০ গোল করা ফুটবলারের সংখ্যা মাত্র চারজন। তারা হলেন – কাজী সালাহ্উদ্দিন, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব এবং আলফাজ আহমেদ। এই চারজনের মধ্যে ১৭৭ গোল করে শীর্ষে আছেন আসলাম। এই তালিকাতেই নিজের নামটি লিপিবদ্ধ করে স্মরণীয় কীর্তি গড়তে চান দেশসেরা এই স্ট্রাইকার।

এ প্রসঙ্গে ৩০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার প্রিয়.কমকে বললেন, ‘আমার হিসাব মতে এখন পর্যন্ত ৮৭টি গোল করেছি। যদি আরো পরিষ্কার করে জানতে চান, তাহলে কাগজপত্র ঘেঁটে, দেখে বলতে পারব। তার জন্য আমাকে সময় দিতে হবে। তবে আমি তো হিসাব রাখি। আর সেই হিসাব মতে, আর ১৩টি গোল দরকার। যদি আর কোনো ইনজুরিতে না পড়ি, তাহলে অবশ্যই এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারব।’

ঘরোয়া লিগে খেলা সব বড় ক্লাবেই এমিলি রেখেছেন প্রতিভার ছাপ। ছবি: সংগৃহীত

ঘরোয়া লিগে খেলা সব বড় ক্লাবেই এমিলি রেখেছেন প্রতিভার ছাপ। ছবি: সংগৃহীত

এক সময়ের দেশসেরা এই স্ট্রাইকার গত কয়েক বছর ধরেই অফ ফর্মে। সেই সঙ্গে ভুগছেন গোলখরায়। বর্তমানে এমিলি খেলছেন ঢাকা মোহামেডানের হয়ে। গত মৌসুমে শেখ রাসেলের জার্সিতে কোনো গোলই করতে পারেননি তিনি।

ইনজুরির কারণে গত মৌসুমের অধিকাংশ সময় বাইরে কাটাতে হয়েছে এমিলিকে। চলতি মৌসুমেও ছিল তার রেশ। বিপিএলের চলতি মৌসুমে ২০ ম্যাচে একাদশে ছিলেন ১২টিতে। তবে মাঠে নামলেও গোল পোস্টের ঠিকানাই যেন ভুলে গিয়েছিলেন এমিলি। লিগে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২০ মে গোল করেছিলেন তিনি। অবশেষে দুই মৌসুম পর চলতি বছরের শুরুর দিন আরামবাগের বিপক্ষে ম্যাচে কাটে তার গোলের বন্ধ্যাত্ব।

সময়ের হিসাবে ঘরোয়া লিগে দুই বছর সাত মাস ১২ দিন পর গোলের দেখা পান এই স্ট্রাইকার। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স এমিলির নামের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। এর কারণটা জানাতে গিয়ে ঢাকা মোহামেডানের এই অধিনায়ক বলেন, ‘আগের মৌসুমে আমার হাঁটুতে অপারেশন হয়েছিল, তাই মাঠে নামতে পারিনি। অপারেশনের আগে রাসেলের হয়ে ৩-৪টি ম্যাচ খেলি, তা-ও বদলি হিসেবে। ম্যাচগুলো খেলি নিজের আগ্রহেই এবং জোর করে। এর পর হাঁটুর ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে অনেক সময় লেগে যায় আমার। এখন আমি পুরোপুরি ফিট। আশা করছি খুব দ্রুতই ফর্মে ফিরতে পারব।’ 

মামুনুল ইসলামের সঙ্গে এমিলি। ছবি: সংগৃহীত

মামুনুল ইসলামের সঙ্গে এমিলি। ছবি: সংগৃহীত

দুই মৌসুম পর গোলের দেখা পেলেন। এটাকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে এমিলি বলেন, ‘আসলে আমাকে একবারে শূন্য থেকে সব কিছু শুরু করতে হয়েছে। তা ছাড়া ভাগ্য বলেও একটা কিছু আছে। সেটাই সহায় হচ্ছিল না আমার। তবে আরামবাগের বিপক্ষে গোল করে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। বলা যায়, আমি এখন অনেক নির্ভার। আশা করি সামনের ম্যাচগুলোতে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারব।’

একই সঙ্গে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্নও বুকে লালন করছেন এমিলি। তিনি বলেন, ‘লিগের শেষ দুই ম্যাচ আর স্বাধীনতা কাপে ভালো করলে হয়তো জাতীয় দলে সুযোগ পাব। এখানে ফেরার হয়তো আমার এটাই শেষ সুযোগ। এটা কাজে লাগাতে আপ্রাণ চেষ্টা করব। অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড সবার খেলাই দেখছেন। তিনি আমাকে আরও পরিশ্রম করে খেলতে বলেছেন। আমি আবারও জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি।’

পুরো পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

পুরো পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

এমিলি মনে করেন, চেষ্টা আর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো পর্যায় থেকেই শীর্ষ পর্যায়ে যাওয়া যায়। এর প্রমাণ হিসেবে পাঁচ ভাইয়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত গ্রামেই বড় হয়েছি। অন্য আর দশজনের মতো আমাদের সবকিছুই গ্রামে। সেখান থেকে ঢাকার ফুটবলে পাঁচ ভাইয়ের খেলাটা অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। চেষ্টা আর পরিশ্রম থাকলে গ্রামের ছেলেরাও যে শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে পারে, আমাদের পাঁচ ভাইয়ের সাফল্যই এর প্রমাণ।’