ছবি সংগৃহীত

প্রিয় গন্তব্য: টেকের-ঘাট চুনা পাথরের লেক, আকাশ আর পানি যেখানে এক রঙে রাঙ্গানো

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০১৭, ১০:৩২
আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৭, ১০:৩২

সুন্দরের এই লীলাভূমি আমাদের দেশেই, ভাবা যায় না! ছবি: আফসানা সুমী


(প্রিয়.কম):
সুনামগঞ্জ জায়গাটির নাম শুনলেই মনে হয় টাঙ্গুয়ার হাওর এর কথা। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এই সুনামগঞ্জেই আরও কত সুন্দর সব জায়গা আছে যার সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করতে পারে। টেকের-ঘাটের লাইম-স্টোন বা চুনা পাথরের লেক এরকম একটি স্থান।

কোথায়: সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় এই টেকের-ঘাট চুনাপাথরের খনি অবস্থিত। এটা থেকে লাইম-স্টোন বা চুনাপাথর আপাতত উত্তোলন বন্ধ আছে।
 
অপরূপ টেকেরঘাট। ছবি আফসানা সুমী।
 
কিভাবে: ঢাকা থেকে শ্যামলী / মামুন / এনা বাস যায় সুনামগঞ্জ পর্যন্ত। ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০। সুনামগঞ্জ থেকে নতুন ব্রিজ পার হয়ে মোটর সাইকেলে যাওয়া ভাল হবে। টেকের-ঘাট পর্যন্ত সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ নেয়াই সুবিধাজনক। এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা নিতে পারে। যাবার পথে পড়বে যাদুকাটা নদী, সেটা পার হতে জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৫ টাকা আর মোটর সাইকেল এর ভাড়া নেবে ২০ টাকা।
 
এছাড়া আপনি সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়ের-গড় পর্যন্ত মোটর সাইকেলে করে যেতে পারেন ভাড়া ২০০ টাকা তারপর যাদুকাটা নদী পাড় হয়ে বারেক টিলা থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় টেকের-ঘাট যেতে পারবেন। মোটরসাইকেলে চালক এর পরে দুজন চড়তে পারে। ভাড়া নিয়ে দরাদরি করলে কমে পেতে পারেন।
 
বর্ষাকালে শহরের সাহেব বাড়ি নৌকা ঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট বা স্পীড বোট যোগে সরাসরি টেকের-ঘাট যাওয়া যায়। ইঞ্জিন বোটে ৫ ঘণ্টায় এবং স্পীড বোটে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন বোটে খরচ হয় ২,০০০/- থেকে ২,৫০০/- টাকা পক্ষান্তরে স্পীড রোডে খরচ হয় ৭,৫০০/- থেকে ৮,০০০/- টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই তবে সরকারী ব্যবস্থাপনায় টেকের-ঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়।
 
পাহাড়ের প্রতিবিম্ব লেককে করেছে সবুজস্নাত। ছবি: আফসানা সুমী।
 
কী দেখবেন: টেকের-ঘাট লাইম-স্টোন লেক জায়গাটি জনমানুষের মুখে মুখে বাংলাদেশের কাশ্মীর নামে পরিচিত। এছাড়া কেয়ারী লেক, আবার অনেকে নীলাদ্রি নামে ডেকে থাকেন নীল পানির কারণে। কেয়ারী –লাইম-স্টোন লেক এর অবস্থান সুনামগঞ্জের টেকের-ঘাট এ। টেকের-ঘাট চুনাপাথরের পরিত্যক্ত খনির খাদ থেকে এই লাইম-স্টোন লেক বা টেকের-ঘাট চুনাপাথরের লেক এর সৃষ্টি। নিজ চোখে না দেখলে হয় বিশ্বাসই করা কঠিন পানির রঙ এতটা নীল হতে পারে আর প্রকৃতির রূপ এত মায়াবী হতে পারে। মাঝের টিলা গুলা আর ওপাড়ের পাহাড়ের নিচের অংশটুকু বাংলাদেশ এর শেষ সীমানা। বড় উচু পাহাড়টিতেই সীমানা কাটা তারের বেড়া দেওয়া আছে। এই লেকটি এক সময় চুনা পাথরের কারখানার কাঁচামাল চুনা পাথরের সাপ্লাই ভাণ্ডার ছিল যা এখন নিঃশেষ হয়ে গেছে।
 
সীমান্ত এলাকা তাই সাবধানে থাকুন, চেষ্টা করবেন সীমানার খুব কাছাকাছি না যাওয়ার। আর লেকের পানিতে সাঁতার না জানলে না নামাই ভালো, নামলেও বেশি দূরে যাবেন না। কারণ এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে চুনা পাথর উঠানো হত, যার ফলে লেক অত্যন্ত গভীর। চুনা পাথরের একটি পরিত্যক্ত ফ্যাক্টরি রয়েছে এখানে, সেখানে যেতে পারেন। সাথেই আছে ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ে সিস্টেম। মনে চাইলে লেকের পাশে ক্যাম্পিং করতে পারেন বিজিবি এর অনুমতি সহকারে।
 
সম্পাদনা: প্রিয় ট্রাভেল/ ড. জিনিয়া রহমান।
 
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।