সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা। সংগৃহীত ছবি

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ‘সংরক্ষণে’ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গাফিলতি!

আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০১৭, ১২:৪৯
আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৭, ১২:৪৯

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, সব ব্যাংক শাখায় কমপক্ষে এক বছরের সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। জানা গেছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পালনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর গাফিলতি রয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তা মেনে চলছে। বণিক বার্তা’র এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্রণী ব্যাংকের ঠাটারি বাজার শাখায় ছয়টি সিসি ক্যামেরার ৯০ দিনের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সোনালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখায় ১৬টি সিসি ক্যামেরা, জনতা ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় পাঁচটি ক্যামেরা, রূপালী ব্যাংকের পাটুয়াটুলি শাখায় আটটি ক্যামেরা এবং কৃষি ব্যাংকের শনির আখড়া শাখায় চারটি ক্যামেরার মাত্র ৩০ দিনের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের শতাধিক শাখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে ডিজি ট্রেড। রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কাজ করে ডিজিটাল সিকিউরিটি সলিউশনস। অন্যদিকে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এনআরবি ব্যাংকের প্রায় ১০০টি শাখায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করেছে জার্মানি কম্পিউটার। 

জার্মানি কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তি পরিবর্তনের ফলে আবার নতুন ক্যামেরা স্থাপন করলে আগের থেকে বেশি স্টোরেজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু হার্ড ডিস্কের ক্যাপাসিটি অপরিবর্তিত থাকায় ক্ষেত্রবিশেষে ১০ মাস থেকে ১১ মাসের ফুটেজ সংরক্ষণে থাকছে।’

ব্যাংকের কোনো শাখায় দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ এক বছরের সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৫ সালে জারিকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) এক সার্কুলারে (নং-৭-এর ১) বলা হয়, ব্যাংক স্থাপনায় ধারণকৃত সব সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ ধারণ হওয়ার পর ন্যূনতম এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, হাইটেক সিকিউরিটির কাজে ব্যবহৃত আইপি ক্যামেরার বর্তমান মূল্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এনালগ ক্যামেরার মূল্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে পোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডিভিআরের (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) দাম ১০ হাজার হতে ৫০ হাজার টাকা এবং এনভিআরের (নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার) মূল্য ১৫ হাজার হতে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর হার্ড ডিস্ক ড্রাইভের মূল্য ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ৪ হাজার হতে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত অর্থ খরচ হলেও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান। তিনি বলেন, ‘অনেক জালিয়াতি তিন মাস পর ধরা পড়ে। তাই ব্যাংকের নিজের স্বার্থেই ন্যূনতম এক বছরের ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে ব্যাংকগুলো বাধ্য। কোনো ব্যাংক যদি তা না মানে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ