ভ্রমণবিলাসীরা ঘুরে আসতে পারেন প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে।
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:০১
(প্রিয়.কম) যেকোনো দেশেই বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাবেন যারা আধুনিক যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তি গড়তে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী হাজার হাজার বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সবারই ইচ্ছে থাকে স্বপ্নের মতো কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের। জ্ঞানের সাধনায় অনেকে পাড়ি জমান দেশের বাইরেও। প্রত্যেকের মধ্যেই পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস ও পটভূমি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে। তাদের জন্যই আজকের এই আয়োজন। জেনে নিন পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে- 
বলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমা বিশ্বের প্রথম বড় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
১। ইউনিভার্সিটি অফ বলোগনাঃ
১০৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইতালির এই বিশ্ববিদ্যালয়টিই পশ্চিমা বিশ্বের প্রথম বড় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর প্রাচীন ও বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনামের সাথে এখনও এটি চালু রয়েছে। বিশ্বের এই প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস একদম অন্যরকম। এটি প্রথমে কিছু বিদেশী শিক্ষার্থীদের গ্রুপ আকারে প্রতিষ্ঠিত হয়, যাদেরকে একসাথে 'দেশ' নামে অভিহিত করা হতো। এই বিদেশী ছাত্ররা একসাথে থাকতো যাতে তাদের জাতিগত অপরাধের জন্য শাস্তি এড়াতে পারে। ধীরে ধীরে জাতিসমূহের এই গ্রুপগুলি হয়ে যায় 'বিশ্ববিদ্যালয়' যা পরবর্তীতে তাদের জন্য আরও সুরক্ষিত হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ২৩টি স্কুলের অধীনে প্রায় ৮৫ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করে। বর্তমানে দেশের মধ্যে রাভিনা, ইমোলা, ফোরলি, রিমিনি ও চেজনা এবং দেশের বাইরে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ারসে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা রয়েছে।

আল কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।
২। আল কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়ঃ
ইউনেস্কোর ঘোষণা মতে ৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মরক্কোর আল কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মধ্যযুগে মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও জ্ঞান বিনিময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছিল মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম একটি আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাবিষয়ক কেন্দ্র। এটি মূলত ইসলাম শিক্ষাবিষয়ক ধর্মভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফাতিমা আল ফিহরি নামের এক মুসলিম নারী বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। মানচিত্রকার মোহাম্মদ আল ইদ্রিসী এখানকার ছাত্র ছিলেন, যার মানচিত্র রেনেসাঁর সময় ইউরোপিয়ানদের গবেষণা করতে সাহায্য করেছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবী পড়ালেখা করেছিলেন যাদের কারণে মুসলিম ও ইহুদি বিশ্ব ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।
কারাওইনে অন্যান্য বিষয়ের সাথে পড়ানো হতো কোরআন ও ফিকহ, ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, গণিত, রসায়ন, ইতিহাস, ভূগোল এবং সঙ্গীতবিদ্যা। ১৯৬৩ সাল থেকে কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় মরক্কোর আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হয়। 
প্রাচীন অক্সফোর্ড ক্যাম্পাসের আবেদন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে আছে এখনও।
৩। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডঃ
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সঠিক তারিখ সম্পর্কে জানা যায় না তবে ধারণা করা হয় যে ১০৯৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১১৬৭ সাল থেকে। সে সময় ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি ২ তার দেশের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য প্যারিসে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং তাদেরকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা বাধ্যতামূলক করেন। বর্তমানে ৩৯ টি কলেজ নিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের কাছে এই ক্যাম্পাসের আবেদন আর উৎসাহ ছড়িয়ে আছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি পৃথিবীর তৃতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।
৪। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজঃ
ইংরেজী ভাষাভাষী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এর স্থান দ্বিতীয় এবং পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি তৃতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ প্রতিষ্ঠিত হয় মূলত ১২০৯ সালে। সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অনুসরণীয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তর্গত ৩১টি কলেজ, ফ্যাকাল্টি এবং অনুষদগুলো শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মোট ৯০ জন নোবেল বিজয়ী এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন।
জানা যায়, ১২০৯ সালে অক্সফোর্ডের কিছু পণ্ডিত ব্যক্তি স্থানীয় লোকদের সাথে বিবাদের জের ধরে শহর ছেড়ে চলে যান এবং ক্যামব্রিজ শহরে এসে নিজেদের সংগঠন গড়ে তোলেন। পরে এটিই ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন অনেক তরুণের কাছেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়।
ভাষা ও মানবিক শিক্ষার জন্য সালামানকা বিশ্ববিদ্যালয়টি আজও সুপরিচিত।
৫। ইউনিভার্সিটি অব সালামানকাঃ
১২১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সালামানকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি স্বীকৃতি পায় ১২২৫ খ্রিস্টাব্দে। লিওনিজ রাজা আলফানসো ৯ তার দেশের ছেলেমেয়েরা যাতে শিক্ষালাভের জন্য কষ্ট করে বাইরে না যায় তার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা এবং মানবিক শিক্ষার জন্য আজও বিশ্ববিদ্যালয়টি সুপরিচিত। এটি বিদেশিদের জন্য স্প্যানিশ ভাষা শেখার একটি উপযুক্ত স্থান। পশ্চিম স্পেনের এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুদৃশ্য স্থাপনা যা যেকোনো শিক্ষার্থীর কিংবা দর্শনার্থীর নজর কাড়ে।
পড়াশুনার পাট হয়তো চুকে গিয়েছে কিন্তু তাই বলে কি স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজের চোখে দেখবেন না তা কি করে হয়। তাই সময় সুযোগ বুঝে পৃথিবীর প্রাচীন ক্যাম্পাস থেকে ঢুঁ মেরে আসুন।
সম্পাদনাঃ ড. জিনিয়া রহমান
প্রিয় ট্রাভেল সম্পর্কে আমাদের লেখা পড়তে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে। যে কোনো তথ্য জানতে মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। ভ্রমণ বিষয়ক আপনার যেকোনো লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন এই লিংকে - https://www.priyo.com/post।