৩৫ রকম পিঠার অসাধারণ স্বাদে চিতই পিঠা খাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। ছবি: লেখক।

একটি দুটি নয়, ৩৫ রকমের ভর্তার সাথে চিতই পিঠা! 

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪০
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪০

(প্রিয়.কম) সুপ্রিয় পাঠকেরা, প্রিয় লাইফে আপনাদের স্বাগতম। আপনাদের জীবনকে আরও একটু সহজ করতে, নানান রকম পণ্য ও সেবার রিভিউ ও খোঁজ-খবর তুলে ধরতে এখন থেকে আমাদের নিয়মিত আয়োজন থাকবে  "প্রিয় রিভিউ"। আমাদের আজকের রিভিউয়ের বিষয় হলো "৩৫ রকমের ভর্তার সাথে চিতই পিঠা”। একজন খাদ্যপ্রেমীর দৃষ্টিকোণ থেকে দারুণ এই খাবারটির নানান দিক তুলে ধরার চেষ্টা রইলো।

পিঠা ও ভর্তা ৭

অন্যান্য বছরে শীত আসে খুব ধীরেসুস্থ। সবাই কে জানিয়ে। ব্যতিক্রম হলো এই বছরে এসে। কাউকে বুঝতে না দিয়ে, কিছু না জানিয়ে ধুপ করেই শীতটা পড়ে গেলো যেন! তোরজোর করে গায়ে দেওয়ার পাতলা কম্বল বা পাতলা সোয়েটারটা বের করতে হচ্ছে সকলকে। শীতের আগাম প্রস্তুতি যেন এবার আর নেওয়ার কোন সুযোগই নেই। কারণ শীত তো পড়েই গেছে! এই শীতের প্রস্তুতি বলতে কী শুধুই গরম কাপড়চোপড় বের করা বোঝায়? মোটেই নয়! শীতকাল মানেই নানান ধরণের ও স্বাদের পিঠা। মুখরোচক বিভিন্ন ধরণের পিঠা তৈরির জন্য নতুন চালের গুঁড়ো তৈরি করা হয় সব বাসাতে। কারোর বাসাতে গেলে, নিজের বাসাতে মেহমান এলে আপ্যায়নের জন্য সবার প্রথমে থাকা চাই পিঠা।

পিঠা ও ভর্তা ১

বিভিন্ন ধরণের পিঠার নাম বলা শুরু করলে যেন শেষ হবেই না। তবে কোন পিঠার নাম জানতে চাইলে সবার প্রথমে যে পিঠাটির নাম মনে আসবে সেটি হলো, চিতই পিঠা! গরম ভাপ ওঠা নরম তুলতুলে চিতই পিঠা প্রচণ্ড ঝাল দিয়ে বানানো শুঁটকি ভর্তার সাথে খাওয়ার আনন্দ অন্য কোন কিছুর সাথে তুলনীয় নয় যেন! রাস্তায় কুয়াশার অস্তিত্ব দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রাস্তার মোড়ে দেখা দিতে শুরু করে পিঠার টং দোকান। আর সেই সকল পিঠার টং দোকানে পিঠা হাতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

পিঠা ও ভর্তা ২

এমনই এক দারুণ পিঠার টং দোকানের খোঁজ পাই কিছুদিন আগে। অফিসের কাজে ফার্মগেইটের ওদিকে যাওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে আনন্দ সিনেমা হলের বিপরীত পাশে পরপর বেশ কয়েকটা পিঠার টং দোকান চোখে পড়ল। অবশ্যই সবগুলোতেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। দেখতে দেখতে একদম প্রথম পিঠার টং দোকান "পাগলা পিঠা" এর সামনে এসেই দাঁড়িয়ে গেলাম। বেশ বড়সড় একটা ভ্যানের উপরের থাকে অনেকগুলো বাটি সাজিয়ে রাখা। প্রতিটি বাটিতেই মুখরোচক বিভিন্ন ধরণের ভর্তা। তার অপর পাশে একজন একইসাথে ছয়টি চুলায় বানচ্ছেন চিতই পিঠা! যিনি পিঠা বানাচ্ছেন, তিনি পিঠা বানিয়েই কূলকিনারা পাচ্ছেন না। পিঠা চুলা থেকে তুলতে দেরী, শেষ হতে এক মুহূর্ত সময়ও লাগছে না! আর গরম গরম পিঠার সাথে রয়েছে মোট ৩৫ ধরণের ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ভর্তা!

পিঠা ও ভর্তা ৩

ভাবলাম খেয়ে দেখা যাক। পিঠা চাইতেই দোকানের অন্য আরেকজন এক টুকরো কাগজের মাঝে দুইটি চিতই পিঠা বাড়িয়ে দিলেন। পিঠা হাতে নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলাম। এতো চমৎকার সকল ভর্তার মাঝে কোন ভর্তা খাবো আর কোনটা বাদ দেবো! এক চামচ কাঁচামরিচের ভর্তা, এক চামচ চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা, এক চামচ সরিষা ভর্তা, এক চামচ চিংড়ি শুঁটকি ভর্তা, এক চামচ চিংড়ি কুচো ভাজা দিয়ে পিঠা যাওয়ার পর খেয়াল হলো ঝালে দুই কান দিয়েই যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে! বলতেই হয়, আলাদা আলাদা করে প্রতিটি ভর্তা এতো চমৎকার যে, একবার খাওয়ার পর পুনারায় খেতে ইচ্ছা করবেই! বিশেষ করে যারা ঝাল খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য পুরো টং এর দোকানটাই যেন স্বর্গরাজ্য!

পিঠা ও ভর্তা ৪

খাওয়া শেষে দোকানের একজনের সাথে কথা বললাম। তিনি প্রতিদিন এই দোকানে না বসলেও চেষ্টা করেন নিয়মিত আসার। পাগলা পিঠা দোকানের মালিকের নাম অলি। চিতই পিঠার এই ব্যবসার বয়স ১০ বছরেরও বেশী। তার চিতই পিঠার দোকান রয়েছে মোট ৭ টি। যার মাঝে ২ টি রয়েছে ফার্মগেটে, বাকিগুলো বৌবাজারে। শীতকাল শুরুর আগে থেকে শুরু করে শীতকাল শেষের পরেও বেশ কিছুদিন ধরে পিঠার দোকান চালু থাকে। অর্থাৎ বছরের ছয়মাস পিঠার ব্যবসা করেন অলি। বাকি ছয়মাস আনারস বিক্রির ব্যবসা করেন তিনি।

পিঠা ও ভর্তা ৫

জানা গেলো মোট ৩৫ ধরণের ভর্তা দিয়ে সাজানো হয় প্রতিদিনের আয়োজন। যার মাঝে একদম সাধারণ আলু ভর্তা, দুই ধরণের ডাল ভর্তা, দুই ধরণের সরিষা ভর্তা, কাঁচামরিচ ভর্তা সহ রয়েছে নাম জানা এবং অজানা বিভিন্ন ধরণের শুঁটকির ভর্তা। সাথে রয়েছে বড়ই এবং জলপাই এর টক-মিষ্টি-ঝাল আচার। ঝাল ভর্তা দিয়ে পিঠা খেতে গিয়ে অতিরিক্ত ঝাল লেগে গেলে একটা করে বড়ই কিংবা জলপাই খেয়ে নেন সকলে। সাথে মজার আরো একটি তথ্য জানা গেলো। একসাথে মোট বিশটি পিঠা যিনি খেতে পারবেন তাকে একদম ফ্রিতে দেওয়া হবে দারুণ করে রান্না করা একটি মুরগীর রান!

পিঠা ও ভর্তা ৬

পিঠা খেয়ে গল্প করতে করতে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে যাচ্ছিল। বিল পরিশোধ করতে গিয়ে আরেকটা চমক। প্রতিটা মূল্য মাত্র পাঁচ টাকা। হ্যাঁ, অন্যান্য সকল পিঠার টং দকানেও চিতই পিঠার মূল্য পাঁচ টাকা করেই রাখা হয়। কিন্তু ৩৫ ধরণের ভর্তা ও আচার দিয়ে মন ভরে পিঠা খাবার পরে মূল্যটা খুব কম মনে হতে থাকে! সপ্তাহে সাতদিন দুপুর তিনটা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই পাগলা পিঠাঘর। ফার্মগেইট এলাকায় কোন কাজে গেলে একবার ডু মেরে আসতে পারেন এই পাগলা পিঠা ঘরের ৩৫ ধরণের ভর্তার মেলায়। শীতের আমেজে গরম পিঠা আর ঝাল ভর্তার সমন্বয় কিন্তু খুব দারুণ!

প্রিয় লাইফ/ কে এন দেয়া