পার্থ বড়ুয়া এবং মেহের আফরোজ শাওনের ছবি সংগৃহীত। চঞ্চল চৌধুরী, তাহসান, মিথিলা ও আগুনের ছবি তুলেছেন শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

অভিনয় কিংবা গান, দুদিকেই তারা আসেন আর যান...

শিবলী আহমেদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৩৭
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৩৭

(প্রিয়.কম) ‘দ্বিগুণ’ শব্দটি বলতে আমরা মূলত দুই দিয়ে গুণন করাকেই বুঝি। ‘দ্বিগুণ’ বলতে কি দুটি গুণের মিশেলকে বোঝান যায়? যাক কিংবা না যাক, আমাদের দেশে কজন বরেণ্য ব্যক্তি রয়েছেন যাদের গুণ শুধু একটি কলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা গুণ সমৃদ্ধ করেছে শিল্পের একাধিক কলাকে। অভিনয়ও করেছেন আবার গানও করেছেন, এমন অলরাউন্ডারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কজন শিল্পী হচ্ছেন- পার্থ বড়ুয়া, তাহসান, মিথিলা,  চঞ্চল চৌধুরী, আগুন, মেহের আফরোজ শাওন ছাড়াও রয়েছে আরও অনেকেই।

যাদের নাম বললাম, তাদের মধ্যে কারো কাছে অভিনয়টিই হচ্ছে মূল, কারো আবার গানই প্রধান। তাদের মধ্যে থেকেই কজন কণ্ঠশিল্পী যেমন অভিনয় শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন, তেমনি অভিনয় শিল্পীদের মধ্য থেকেও অনেকে অবদান রেখেছেন সঙ্গীত ভুবনে। বর্তমান সময়ের নাট্যাঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকেও তার কিছু কিছু নাটকে গান গাইতে দেখা যায়। তার কণ্ঠে সেসব গান কিছু মোটেও বেসুরা শোনায় না, বরং শ্রুতিমধুরই ঠেকে।

পার্থ বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত।

দেশের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু সম্পন্ন ব্যান্ড ‘সোলস’ এর ভোকাল হিসেবে রয়েছেন তিনি পার্থ বড়ুয়া।। গায়কিতে বেশ সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। গিটার হাতে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ানো ছাড়াও পার্থ বড়ুয়াকে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু নাটকে এবং কিছু সংখ্যক সিনেমায়। জীবন থেকে ত্রিশটি বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর পার্থ বের করেছিলেন তার নিজের গানের অ্যালবাম, নাম- মুখোশ। ‘হাজার বর্ষা রাত’ ও ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’এর মতো জনপ্রিয় গানগুলো পার্থ বড়ুয়ারই গাওয়া। ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সিনেমা জগতে পদার্পণ করলেও, অভিনয়শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন এর অনেক আগে থেকেই, নাটক ও টেলিফিল্মের মাধ্যমে। ‘ছায়াচোখ জলছাপ’, ‘সাদা আলো সাদা কালো’, ‘আলো’, 'অবাক ভালোবাসা', ‘শ্রাবণের বৃষ্টি’, ‘ইচ্ছেঘুড়ি’ ও ‘খুঁটিনাটি খুনসুটি’সহ আরও বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন পার্থ বড়ুয়া।

তাহসান। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

পুরো নাম তাহসান রহমান খান। ১৯৯৯ সালে গঠিত ব্ল্যাক ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাহসান। পরবর্তীতে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ব্ল্যাক ছাড়েন তিনি। তবে গান ছাড়েননি। নিজেকে বিস্তৃত করেছেন সঙ্গীত ও শিল্পের বিভিন্ন শাখায়। তাহসান একাধারে গীতিকার, সুরকার, গিটার বাদক, কী-বোর্ড বাদক, পরিচালক, অভিনেতা, মডেল এবং উপস্থাপক। তার একক অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘কথোপকথন’, ‘ক্রীতদাসের নির্বাণ’, ‘ইচ্ছে’, ‘নেই’, ‘প্রত্যাবর্তন’, ‘উদ্দ্যেশ্য নেই’, ও ‘মন কারিগর’। সম্প্রতি তিনি বাজারে এনেছেন ‘অভিমান আমার’ নামে একটি অ্যালবাম। এছাড়াও ব্ল্যাক ব্যান্ডের সদস্য থাকাকালীন তাহসানের রয়েছে দুটি গানের অ্যালবাম, নাম- ‘আমার পৃথিবী’ ও ‘উৎসবের পর’। তার মিশ্র ও অন্যান্য গানের সংখ্যা অগুনতি। ঠিক তেমনি, তাহসান অভিনীত নাটকের সংখ্যাও অসংখ্য। তাহসান এ যাবত যতগুলো নাটক কিংবা টেলিফিল্ম করেছেন, সেগুলোর নাম হচ্ছে- কাছের মানুষ, অফবিট, মধুরেণ সমাপয়েত, অন্তর্গতা, হিট উইকেট, আমাদের গল্প, সময় চুরি, মনফড়িং এর গল্প, রিভিশন, মনসুবা জংশন, দ্বিতীয় মাত্রা, ফায়ারফ্লাই, মনের মত মন, এক্লিপস, নীল পরী নীলাঞ্জনা, এলিয়েন ও রুম্পার গল্প, অন্য রকম পরীর গল্প, স্পর্শের বাইরে তুমি, ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম, লাভলেইন, অল অ্যাবাউট আস, কথাবন্ধু মিথিলা, অপেক্ষা, সম্পর্কের গল্প, ওল্ড ইজ গোল্ড, রিটার্ন, অবাক কাণ্ড, চিনিগুঁড়া প্রেম, উদ্দেশ্য নেই, হি এন্ড শি, লাভ এন্ড ওয়্যার, হঠাৎ তোমার জন্য, আজ শুভদিন, এংরি বার্ডস, তোমায় ভালোবেসে, তাই তোমাকে, তোমায় ভেবে লেখা, সেই মেয়েটা, কথোপকথন, অনামিকা, সেই রাতে বৃষ্টি ছিল, রূপকথা এখন আর হয় না, তিতির, ক তে কাজী খ তে খেলা, দৃষ্টির বাইরে, তোমায় ভালোবেসে, এই পথ যদি না শেষ হয়, মিস্টার এন্ড মিসেস, ভালোবাসার পঙ্কতিমালা, আমার গল্পে তুমি, তোমার পিছু পিছু, বর্ষা, শুনতে কি পাও, দূরবীন, ও বিভেদ।

মিথিলা। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

মূলত মডেলিং ও অভিনয়ই হচ্ছে তার মূল ট্র্যাক। তবে কণ্ঠে সুর থাকার কারণে গানের ভুবনেও জায়গা করে নিতে পেরেছেন মিথিলা। গানের হাতেখড়ি হয়েছিল 'হিন্দোল' একাডেমিতে। মিথিলার গাওয়া ‘রোদেলা দুপুরে’, ‘পাগলা ঘুড়ি’ ও ‘ঘুমখোয়ারে’ গানগুলো বেশ প্রশংসিত হয়েছে শ্রোতামহলে। মিথিলার একক অ্যালবামের নাম-মিথিলার প্রথম একক অ্যালবাম 'অপারগতা'। গান গাওয়ার পাশাপাশি কিছু গানও রচনা করেছেন তিনি। বেশ কিছু টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সেগুলো হচ্ছে- মধুরেণ সমাপয়েত, শুনছেন একজন রেডিও জকির গল্প, হাউসফুল, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ঘুম, এক্স-ফ্যাক্টর, ছাইয়্যা ছাইয়্যা, একজন বস এবং ওরা দুজন, তোর জন্য প্রিয়তা, নুনের মতো ভালোবাসা, দেনমোহর, প্রুফ রিডার, কনেপক্ষ, অনিকেত ভালোবাসা, এই জীবন, ধান্ধা, বাহুলতা, অনুরাধাকে বলা হলো না, হিট উইকেট, সময় চুরি, ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম, প্রমিজ, মিস্টার এন্ড মিসেস, হি এন্ড শি, আমার গল্পে তুমি। মিথিলার পুরো নাম রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা।

খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

অভিনয় এবং গান- এ দুয়ের সম্মিলন ঘটিয়ে যিনি পথ চলছেন, তিনি হলেন খান আসিফুর রহমান আগুন। কণ্ঠশিল্পী আগুন নামেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত। তার সঙ্গীত জীবনের সূচনা ১৯৮৮ সালে 'সাডেন' ব্যান্ডের ভোকাল হিসেবে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় গান গাওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার অভিষেক ঘটে তার। অতঃপর তিনি সিনেমা ও নাটকে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। আগুনের গানের অ্যালবামগুলো হচ্ছে- ‘ওগো প্রেয়সী’, ‘কি যে কান্না পেয়েছিল’, ‘এই কথাটি মনে রেখ’ ও ‘কাঁচের দেয়াল’। আগুন প্রায় ৬২ চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক সিঙ্গার। চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেও দেখা গিয়েছে তাকে। সেগুলো হচ্ছে- ‘এখনো অনেক রাত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘৭১ এর মা জননী’, এবং ‘আমি ও আইসক্রিমওয়ালা’। টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। আগুন অভিনীত টিভি নাটকগুলো হচ্ছে- ‘অজানা সৈকতে’, ‘রঙের মানুষ’, ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’, ‘বাজী’, ‘বালির গল্প’, এবং ‘শ্রাবণ এসেছিল গান হয়ে’।

চঞ্চল চৌধুরী। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

পাবনা জেলার সন্তান চঞ্চল চৌধুরী। অভিনয় দক্ষতায় দর্শক হৃদয়ে পাকাপোক্ত অবস্থান তার। বড়পর্দা কিংবা ছোটপর্দা, উভয় জগতেই রয়েছে তার পদচারণা। ‘রূপকথার গল্প’, ‘মনপুরা’, ‘মনের মানুষ’, ‘টেলিভিশন’ ও ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও অসংখ্য টিভি নাটকও করেছেন তিনি। চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত নাটকগুলো হচ্ছে- গ্রাস, সূর্যের হাসি, তালপাতার সিপাহী, নিখোঁজ সংবাদ, মা, ঘরকুটুম, ওয়ারেন, ভবের হাট, সার্ভিস হোল্ডার, ধান শালিকের গাঁও, স্বপ্নযাত্রা, পাত্রী চাই, অলসপুর, প্রতিশোধ, হাড় কিপটা, লংকা কাণ্ড, মন রঙিলা, বাঘা শের, রিয়ালিটি শো, ঈদের নাটক, সোনালি সকাল, ইডিয়ট, লাল খাম বনাম নীল খাম, মামা বাড়ির আবদার, সবুজ জলোচ্ছ্বাস, ওয়াইফ মানে স্ত্রী, সুজন ইতি ও একটি লাটিম, সন্তান, মফিজ বিএসসি, কপালে যদি থাকে হাড়, ফিফফাট ফুলবাবু, সব পাখি ঘরে ফিরে, শাপলা স্টুডিও, সবজান্তা ভালোবাসা, ইতি মির্জাফর, লাভ মানে ভালোবাসা, ইজম আনলিমিটেড, অশ্বডিম্ব, ওয়াও ফ্যান্টাসি, চাল্লু মামার চাল্লু ভাগ্নে, একজন জাদুকর, মানি ইজ প্রবলেম, মার্কামারা, কথা কম কাজ বেশি, ও পলাশ ফুলের নোলক। অভিনয় শৈলীর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও দক্ষ। কণ্ঠেও রয়েছে সুর। ভুপেন হাজারিকার গাওয়া গানগুলো তার কণ্ঠে বেশ ধরে। নাটক সিনেমার জন্য মাঝে মধ্যেই গান করেছেন তিনি। ‘মাঝি বাইয়া যাও রে’ এর মতো জনপ্রিয় পল্লীগীতিও ধারণ করেছেন নিজের কণ্ঠে। চঞ্চল চৌধুরীর মিশ্র ও একক গানের অ্যালবাম মিলিয়ে মোট অ্যালবামের সংখ্যা পাঁচটি। চারুকলায় পড়াকালীন সময় থেকেই গুনগুনিয়ে গান গাইতেন চঞ্চল। শখের বসেই তিনি বের করেছিলেন তার একক গানের অ্যালবাম ‘পালকী’। মনপুরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই দর্শকেরা আবিষ্কার করতে পারেন একজন কণ্ঠশিল্পী চঞ্চল চৌধুরীকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তিনি ‘পিতা’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গেয়েছেন শাওনের সঙ্গে। ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’ গানটিও চঞ্চল চৌধুরীর কণ্ঠে শ্রুতিমধুর শোনায়।

মেহের আফরোজ শাওন। ছবি: সংগৃহীত।

জনপ্রিয় ও তুখোড় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের অভিনয় জীবন বেশ দীর্ঘ। এমনকি নন্দিত কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত নাটক ‘আজ রবিবার’এও অভিনয় করেছেন তিনি। সেটি ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের অনেক নাটকেই উপস্থিতি ছিল শাওনের। ব্যতিক্রমী ঘরানার কিছু বাংলা চলচ্চিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন শাওন। তার অভিনীত সিনেমাগুলো হচ্ছে- ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’ ও ‘আমার আছে জল’। নাটকে অভিনয় করা ছাড়াও কিছু নাটকের পরিচালনাও করেছেন শাওন। এবার আসা যাক তার গানের কথায়। ‘জনম জনম তব তরে কাঁদিব’, ‘যদি মান কাঁদে তুমি চলে এসো’ ও ‘আমার আছে জল’, ‘যে থাকে আঁখি পল্লবে’, ‘আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা জোছনা’, ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদরও দিনে’ -এ জনপ্রিয় গানগুলো মেহের আফরোজ শাওনের গাওয়া।

যা হোক, এ কজন অভিনয় শিল্পীদের মতো আরও অনেকেই রয়েছেন, যারা অভিনয়ের পাশাপাশি গান কিংবা গানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মাঝে মধ্যেই। যেমন- ফজলুর রহমান বাবু, রাহুল আনন্দ, আরিফিন রুমি, হসান মাসুদ, তানযির তুহিন, সালমা আক্তারসহ আরও অনেক গুণী শিল্পীকেই দেখা গিয়েছে অভিনয় ও গানের অঙ্গনে। সংবাদের ব্যবহৃত তথ্যাদি ইন্টারনেটের বিভিন্ন কনটেন্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

 প্রিয় বিনোদন/গোরা