প্রতীকী ছবি

তোমাকে নিজের করে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল

রহমান তামিম
ফ্রিল্যান্স লেখক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩১
আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩১

দিনরাত্রি প্রার্থনা ছিল, তোমার ভালো থাকার প্রার্থনা। একটা তুমি আর আমি মিলে আমরা হওয়ার প্রার্থনা। 

পৃথিবীর সবকিছু একদিকে রেখে অন্যদিকে আমরা সারা জীবন এক হয়ে থাকার প্রার্থনা। কোনো এক জ্যোৎস্না রাতে হাতে হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার প্রার্থনা। আমার মাতৃভূমির প্রাকৃতিক সবুজ সৌন্দর্যে তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার প্রার্থনা। 

আমার প্রার্থনাতে তোমাকে আমার স্বপ্নের নীলা বানিয়ে পুরো শহর রিকশায় চড়ে ঘুরবার ইচ্ছে ছিল। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে মধ্যরাতে তোমার হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল। প্রতি রাতে তোমার আমার লক্ষ্য স্বপ্ন পূরণের পথটায় লাখো প্রতিশ্রুতি ছিল। তোমাকে নিজের করে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছে ছিল।

যতদিন অতিবাহিত হতে লাগল, আমি বুঝতে শিখলাম তোমার প্রার্থনাতে অন্য কেউ ছিল। তোমার মনের গলি হয়ে অন্য কারো যাতায়াত ছিল। অন্য কারো বাস্তব জীবনের নীলা হয়ে আজ তুমি পুরো শহর ঘুরে বেড়াও।

অন্য কারো কাঁধে মাথা রেখে আজ তুমি স্বস্তির নিঃশ্বাস নাও। সমুদ্র সৈকতে আজ তোমার হাত ধরে অন্য কেউ হেঁটে যায়। বাস্তব জীবনে অন্য কারো হাতের মুঠোয় হাত রেখে তুমি স্বর্গসুখ খুঁজে পাও।

তোমার প্রতি থাকা দুর্বলতাগুলো আজকাল হার মেনেছে, না পাওয়া সব স্বপ্নের ভিড়ে অগ্রিম প্রতিশ্রুতিগুলো মৃত্যুবরণ করেছে।

স্বপ্নগুলো আজ লাশ হয়ে কাঁধে ঘুরে বেড়ায়, হারিয়ে ফেলা মালিকের ঠিকানাটা অনেক উড়ার পরও ছটফট করতে থাকা কবুতরটা আর খুঁজে পায় না। বিশ্বাসের শেকলে বাঁধা মস্তিষ্কটা অবিশ্বাসের শেকলে আজ কারাবন্দী। জানোই তো, প্রকৃতির নিয়মগুলো কতটা ভয়ানক? না জানলেও সমস্যা নেই, জেনে যাবে খুব শিগগিরই।

তোমার জন্য কোনো অভিশাপ নয়, মনের গভীর থেকে এটা তোমার প্রতি আমার আশীর্বাদ। প্রতিদিন না হোক, একদিন ঠিকই খুব বিভৎসভাবে ‘ধ্বংস হয়ে যাবে’। 

প্রিয় সাহিত্য/আজহার