নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্রণ হতে পারে যে কারও। ছবি: সংগৃহীত
সিস্টিক অ্যাকনি সারিয়ে তুলুন ঘরোয়া উপায়ে
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৯:৪১
(প্রিয়.কম) নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্রণ হতে পারে যে কারও। বেশিরভাগ মানুষেরই ব্রণের প্রবণতা কমে যায় বয়ঃসন্ধিকাল পার হলে। তবে এক ধরনের অ্যাকনি বা ব্রণ আছে যা খুব বেশি যন্ত্রণাদায়ক, আর তা হলো সিস্টিক অ্যাকনি। এই ব্রণ ত্বকের ভেতরে থাকে যা দিনের পর দিন ব্যথা দেয়, সহজে দূর হয় না। এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে এসব ব্রণ।
সাধারণত ব্রণ দূর করার জন্য যেসব স্পট ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ত্বকের ওপরে থাকা ব্রণকে শুকিয়ে ফেলে। কিন্তু সিস্টিক অ্যাকনি দূর করতে এগুলো তেমন কাজে আসে না। তাহলে সিস্টিক অ্যাকনি দূর করতে কী করবেন? অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট দেখানোটা সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি। এর পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করে দেখতে পারেন-
১) অ্যাসপিরিন ফেস মাস্ক
একটি অ্যাসপিরিন গুঁড়া করুন ও তাতে কয়েক ফোঁটা পানি দিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। সিস্টিক অ্যাকনির ওপর এই পেস্ট মেখে নিন। ব্যথা ও প্রদাহ দূর করবে।
২) বরফ
যে কোনো ব্যথা আপনি বরফ দিয়ে উপশমের চেষ্টা করেন, তাহলে সিস্টিক অ্যাকনি কেন নয়? ব্রণের ফোল, লালচে ভাব, ব্যথা এমনকি চুলকানিও কমাতে পারে বরফ। আইস কিউব নিয়ে ব্রণের ওপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাসাক করুন। যতক্ষণ সহ্য করতে পারেন ততক্ষণ বরফ দিন। দিনে তিনবার বরফ দিতে পারেন।
৩) ভিনেগার ক্লিনজার
এক বাটি বিশুদ্ধ পানি নিন। ভিনেগারের বোতলের ক্যাপ ভর্তি দুই ক্যাপ ভিনেগার এতে দিন। মিশিয়ে দিনে দুইবার মুখ ধুয়ে নিন এই পানি দিয়ে।
৪) খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকুন
একেক জনের শরীর একেক রকমের হয়। কিন্তু সিস্টিক অ্যাকনি নিয়ে অনেকদিন ধরে ভুগতে থাকলে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন খাদ্যভ্যাসে, যেমন-
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য বাদ দিয়ে দিন
- প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড খাওয়া কমিয়ে দিন
- চিনি খাওয়া বাদ দিন বা কমিয়ে আনুন
- প্রোবায়োটিক খেতে পারেন যেমন দই, আচার, সবজি ও কিমচি (বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি এক ধরনের আচার)
৫) টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করে দেখতে পারেন
টি ট্রি অয়েলের অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তা ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া দূর করে ও ভবিষ্যতে ব্রণ হতে বাঁধা দেয়। এ কারণে দেখবেন অনেক ফেসওয়াশ ও ক্লিনজারে এই উপাদানটি ব্যবহার করা হয়।
৬) মেডিটেশন করুন
স্ট্রেসের সঙ্গে ব্রণ সরাসরি জড়িত। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক- সব ধরনের স্ট্রেস এতে দায়ী। এ কারণে স্ট্রেস কম রাখতে যা কাজে আসে সেটাই করুন। মেডিটেশন, ইয়োগা, ব্যায়াম এ সবই কাজে আসবে।
৭) হলুদের ফেসমাস্ক
কাঁচা হলুদ বাটা মুখে মেখে রাখতে পারেন ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুইবার দিতে পারেন। এ ছাড়া হলুদের ফেসপ্যাক কিনতে পাওয়া যায়, সেটাও ব্যবহার করতে পারেন।
এসব ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি ভালো মানের রেটিনয়েড ক্রিম বা হাইড্রোকর্টিসন ক্রিমও কাজে আসে।
সূত্র: ইয়াহু সায়েন্স
প্রিয় লাইফ/রুহুল