ছবি সংগৃহীত

স্পর্শিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয়র আড্ডা

mithu haldar
লেখক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১০:১৮
আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১০:১৮

ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) বন্ধুত্ব, শুধু তিনটি অক্ষর নয়। যার মধ্যে লুকিয়ে আছে আরও অনেক কিছু। বন্ধু শব্দটি উচ্চারণ করার মধ্যেই এক ধরনের স্বস্তিবোধ কাজ করে। প্রাণ ফিরে পাওয়া যায়। বিষণ্ন মনকে আন্দোলিত করে তোলে। যেখানে কোনো বয়স কিংবা সময়ের বেড়াজালে আটকে থাকার কোনো বাধা নেই। যার মধ্যে হাজারও বিশ্লেষন থাকলেও এর কোনো শেষ নেই। সময়ের গতির ছকেও একে আটকে রাখা দায়। জীবনে চলার পথে শুধু এই বন্ধুত্ব শব্দটার তুলনা আর কিছু সঙ্গেই হয় না। ছায়াবিথীর মতো যেন যেন সর্বদাই পাশে থাকে।

প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় বন্ধু দিবস। বিশেষ এই দিনকে ঘিরে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া শোনালেন বন্ধুত্বের গল্প, বন্ধুদের গল্প। স্পর্শিয়া স্কুলের চার দেয়াল পেরিয়েছেন বহু আগেই। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠও চুকিয়েছেন। কিন্তু স্কুলজীবনেরে বন্ধু চিন্ময় সরকারের কথা না বললেই নয়। ওর সঙ্গে বন্ধুত্বটা একটুও ফিকে হয়ে যায়নি। যেন সেই পুরনো চেহারায় যারা নিজেদেরকে ফিরে পান ক্ষণে ক্ষণেই। আর আবিষ্কার করেন নতুনভাবে।

‘চিন্ময়ের সাথে তো অনেক ছোটবেলা থেকেই আমার পরিচয়, যখন আমরা একসাথে স্কুলে পড়তাম। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে উঠে। যার আসলে কোনো ব্যাখা নেই। যদিও স্কুলের অনেকেরই সাথে কোনো ধরনের যোগযোগ নেই। কিন্তু চিন্ময়ের সাথে আমার বন্ধুত্বটা ঠিক কেমন? তা মাঝেমাঝে আমি নিজেও বুঝি না। কারণ ওকে আমার ভাল-মন্দ কিংবা যে কোন বিষয়ে সব সময়ই পাশে পাই।’ দীর্ঘ দিনের বন্ধু চিন্ময় সরকার সম্পর্কে কথাগুলো বললেন অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া।

চিন্ময় ছিলেন পাশেই। তিনি জানান,`স্পর্শিয়া আগে থেকেই চঞ্চল, ভীষণ ড্যাম কেয়ার, সবার সাথে মেশে। এটা স্পর্শিয়ার একটা গুণ। স্পর্শিয়াকে তো আমরা মেয়ে হিসেবে দেখি না। ওকে সবাই ছেলের চোখেই দেখে। ওর সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক। ওর কথা বলতে গেলে ও আমার একটা ছেলে বন্ধু! কারণ ওর মধ্যে মেয়েলি কোন আচারণ কখনও খুঁজে পাওয়া যায় না।’ বলেই হাসতে থাকেন চিন্ময়।

স্পর্শিয়া জানান, স্কুল ও কলেজ পেরিযে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পা রেখে অনেকটাই অবাক হয়ে যান তিনি। কেননা এখানে কেউ তার সাথে কথা বলে না। এমন কি অনেকে দূর থেকে দেখলেও হেঁটে চলে যান। ‘প্রথম দুই সপ্তাহ বলতে গেলে দোজখে ছিলাম। আমি আর আমার একটা বন্ধু শুধু ইংরেজি মাধ্যমের ছিলাম। তখন তো মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছি। যার কারণে কেউ আমাদের সাথে কথা বলত না। আমিই যখন অনেকের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, তখন তারা বুঝতে পারল আসলে আমি ভাব ধরা মেয়ে না। এই সময় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে চৈতির সঙ্গে’। বলতে থাকেন স্পর্শিয়া।

রাহনুমা তাবাসসুম চৈতি তখন স্পর্শিয়ার পাশে বসেই হাসছিলেন। স্পর্শিয়ার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে তিনি বললেন, ‘ক্লাসেই আমাদের প্রথম পরিচয়। তখন স্পর্শিয়া মোটামুটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে গেছে। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও বিজ্ঞাপনের একটি বিলবোর্ড ছিল, যেটির মডেল ছিল সে। ক্লাসে প্রথম যেদিন স্পর্শিয়াকে দেখি একটু চেনা চেনা লাগছিল। কিন্তু কোথায় দেখেছি, সেটি মনে করতে পারছিলাম না’।

চৈতি বলেন, ‘এরপর আমার এক বন্ধু নাম তিথি সে মনে করিয়ে দিল এয়ারটেলের জনপ্রিয় একটি বিজ্ঞাপনের মেয়েটাই হলো স্পর্শিয়া। যদিও প্রথমে ওর সাথে সেরকম মিশতাম না। কিন্তু স্পর্শিয়াই আমার সাথে মেশার উদ্যোগ নিয়েছে। এরপর ভালো বন্ধু হয়ে গেলে যা হয় আর কি, একসাথে ঘোরাঘুরি, শপিং করা নিজেদের মত করে সময়টাকে উপভোগ করা।’

পড়াশোনা শেষে পেশাগত কারণে এখন ব্যস্ততা আরও বেড়েছে। ফলে বন্ধুদের মাঝে দেখা-সাক্ষাতের পরিমাণও কমে এসেছে। এখন হয়ত মাসে একবার কিংবা সর্বোচ্চ দুইবার দেখা হয়। কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের মাঝে ভালোবাসার কোনো কমতি নেই বলে জানান স্পর্শিয়া।

সামনা-সামনি দেখা না হলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় নিয়মিত দেখা হয়! স্পর্শিয়া বললেন, ‘শোবিজে আমার কোনো ভাল বন্ধু নেই। তাই পরিবারের পর ওরাই আমার সব। যাদের সঙ্গে আমি আমার মনের কথাগুলো সরাসরি বলতে পারি। আর তৌসিফ কিন্তু শোবিজে আসার আগ থেকেই আমার বন্ধু। যদিও ওর সাথে আমার শোবিজে আসার আগে থেকেই পরিচয় ছিল।’

চিন্ময় বলেন, ‘স্পর্শিয়া জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী, ওকে দেখলে এখনও মনে হয় না। ও তো সব সময়ই সাধারণভাবে চলাফেরা করে। ওর একটা স্বভাব বলতে পারি ও মানুষ ভালো এক্সপেরিমেন্ট করতে পারে। এটা ওর কাছে ভালোও লাগে। এটা আমি সব সময় দেখছি। ও যাকে খারাপ বলছে ও আবার তার সাথে গিয়েই মিশবে। দেখবে আসলে ঘটনাটা কি? ওর কথা সঙ্গে একমত পোষণ করলেন চৈতিও।

স্পর্শিয়াও দ্বি-মত পোষণ করলেন না। কথার সাথে তাল মিলিয়েই বললেন, ‘আমি কারও সাথে না পারতে বাজে আচরণ করি না। আমার বন্ধু কিংবা পরিচিতজন যে হোক না কেন? সবার সাথে একই আচরণ করি। আমার কোন ভক্ত এসে যদি বলে আমি আপনার সাথে একটি ছবি তুলতে চাই, তা আমি অনায়াসেই তুলি। আর কেউ যদি আমার বন্ধু হতে না পারে সেটা তাদের ব্যর্থতা। আমার যত বন্ধু আছে, তার মধ্যে এরা দুজন একটু আলাদাই। এরা আমার জানে না এমন কিছু নাই। আমি ওদের কাছে খোলা একটি বইয়ের মতো।’

চৈতি বললেন, ‘ওকে যখন থেকে বন্ধু হিসেবে নিয়েছি তখন থেকে ‘স্টারিজ ফিলিংস’টা আর কাজ করেনি। ওর বাসায় আমি অনেক থেকেছি, অনেকটা সময় কাটিয়েছি। আন্টির সাথেও (স্পর্শিয়ার মা) বেশ ভাল সম্পর্ক। এরকমও হয় ওর সাথে কথা না হলেও আন্টির সাথে কথা হয়। স্টারডম ওই ফিলিংসটা আর কখনও ওভাবে কাজ করে না।’

‘আমাদের বন্ধুত্ব হচ্ছে আজ যেখানে শেষ হবে, কাল আবার সেখান থেকে শুরু হবে। তবে স্পর্শিয়ার অনেক ধৈর্য আছে। ও সহজে রাগে না, বলতে পারা যায় সব সময় ঠান্ডা মেজাজের, কিন্তু যখন রাগবে তখন আবার এক বছরের রাগ সব একসাথে ঝাড়বে। জমিয়ে রাখে। এরপর কান্না করবে। তারপর আবার ঠিক হয়ে যাবে।’ বললেন চিন্ময়।

চিন্ময়ের কথার সুর ধরে স্পর্শিয়া বললেন, ‘আমি চেয়েছিলাম শোবিজে আমার ভাল বন্ধু হোক। কিন্তু সেটি হয় নাই। কাছের বন্ধু তো এক কিংবা দুই জন। আর ওরা তো আমার জন্যে বিশেষ কিছু। বন্ধুত্বের অত ব্যাখা দিতে পারব না। ছোট একটি পরিবার যেমন হয় আমার বন্ধরাই ঠিক এমনই। সুখ, দুখ কিংবা অনেক অপরাধেরও স্বাক্ষী তারা।’

বন্ধুত্বের মধ্যে স্বার্থ এ বিষয়টা কখনও তারা অনুভব করেন না। যখন তাদের জীবনে বাজে সময় গিয়েছে, তখনই তাদের বেশি দেখা কিংবা আড্ডা হয়েছে। স্বার্থ বলতে যা ছিল, তা হচ্ছে একে অপরের পাশে থাকা। যদিও সময়ের সাথে আড্ডা কিংবা গল্প আর না হলে সময় কাটানোর ধরনটাও বদলে গেছে। চৈতির কথার সঙ্গে সহমত পোষণ করেন স্পর্শিয়া ও চিন্ময়।

আড্ডার মধ্যেই চিন্ময় জানালেন একটি ঘটনার কথা। তিনি বলেন, ‘একদিন হঠাৎ করেই আমি গাড়ি দুর্ঘটনায় কলাবাগানে গুরুতর আহত হলাম। তখন দুষ্টুমি করেই স্পর্শিয়াকে বলেছিলাম দেখবি তোরও এমন হবে। ঠিক এক সপ্তাহ পরে গিয়ে একই দিনে স্পর্শিয়াও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে। বিষয়টা হয়ত কো-ইনসিডেন্স ছাড়া আর কিছু নয়।’

তবে শত ব্যস্ততার মাঝেই এই তিন বন্ধু বছরের একটা সময় একত্রিত হন। কয়েক দিন বেশ ধুমধাম করে এক সঙ্গে কাটান। আর তা হচ্ছে দুর্গা পূজার সময়। কারণ তাদের তিনজনের মধ্যে চিন্ময় হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর এই সময়টার জন্যেই তারা অপেক্ষায় থাকেন। এই সময়টা তাদের দারুণ আনন্দে কাটে বলে জানান তিন বন্ধু।

 

Save

Save

Save