ছবি সংগৃহীত
সোনালী ব্যাংক থেকে রহস্যজনকভাবে চুরি হলো ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা
আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৪, ১১:২৭
সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ প্রধান শাখার ভল্ট থেকে এবার রহস্যজনকভাবে অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ সুড়ঙ্গ কেটে ভল্টের ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা এ অর্থ চুরি করেছে। চুরি যাওয়া অর্থের পরিমাণ ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার অথবা শনিবার রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। সাধারণত ব্যাংকের টাকা থাকার নিয়ম ভল্টের ভেতরে সিন্দুক ও আলমারিতে। কিন্তু শাখাটি থেকে যে অর্থ চুরি হয়েছে, তা ছিল টেবিলের ওপর, যা রহস্যজনক। হল-মার্ক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রতি যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছিল, তার সঙ্গে যুক্ত হলো রোমহর্ষক আরেকটি ঘটনা। স্থানীয় পুলিশ, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গতকাল বেলা ৩টার দিকে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তা মহসিনুল হক ভল্ট খুলে টাকা আনতে যান। তিনি দেখতে পান, ভল্টের ভেতরে টাকা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ সময় মেঝেতে একটি সুড়ঙ্গ চোখে পড়ে তার। পরে শাখা ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানালে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ভল্টকক্ষে প্রবেশ করে সুড়ঙ্গের উত্পত্তিস্থল খোঁজ করে। ব্যাংকসংলগ্ন একটি ভবনের ছোট একটি কক্ষে এর উত্পত্তিস্থল খুঁজে পায় পুলিশ। উত্পত্তিস্থল থেকে ভল্ট পর্যন্ত সুড়ঙ্গপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট। সুমন মিয়া নামে এক ব্যক্তি ওই কক্ষে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর থেকে সুমন পলাতক। বাড়িটির মালিক ঢাকায় থাকেন। পুলিশের ধারণা, সুড়ঙ্গটি তৈরি করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে। শুক্র অথবা শনিবার রাতের কোনো এক সময় চোরেরা ওই সুড়ঙ্গপথে ভল্টে ঢুকে টাকা নিয়ে গেছে। তবে ভল্টের আলমারি ও সিন্দুকে যে টাকা ছিল, সেগুলো চুরি হয়নি। সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহানশাহ জানান, বাড়ির আরেকটি ঘরে মার্জিয়া আক্তার নামের এক নারী তার দুই মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন। ঘটনার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। মার্জিয়া আক্তার জানান, তার স্বামী সৌদি প্রবাসী। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবীর ভুইঞা জানান, ভল্ট থেকে ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। যে বাড়ি থেকে সুড়ঙ্গের উত্পত্তি, সেখান থেকে ভল্টের দূরত্ব ১০০ ফুট হবে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ব্যাংকসংলগ্ন এলাকাবাসীকে। এছাড়া নজর রাখা হচ্ছে স্থানীয় চিহ্নিত চোরদের ওপরও। এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান জানান, ভল্টের ভেতরে টেবিলের ওপর রাখা হয়েছিল। সিঁধ কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা টেবিলের ওপর রাখা টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাখাটিতে কর্মরত আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর সোনালী ব্যাংকও তদন্তে উদ্যোগী হয়েছে। গতকাল রাতেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক হাসান ইকবাল, ব্যাংকের ভিজিল্যান্স ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপকের একটি দল কিশোরগঞ্জে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। হাসান ইকবাল বলেন, তদন্ত শেষ করার পরই জানা যাবে, কারা এ ঘটনার জন্য দায়ী। বাংলাদেশ ব্যাংকও ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ভল্টে ভেতরে নির্ধারিত স্থানে টাকা না রাখার জন্য কারা দায়ী, তা বের করার চেষ্টা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার বলেন, পুলিশ প্রশাসন, সোনালী ব্যাংকের প্রধান ও আঞ্চলিক কার্যালয় এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। সোমবার (আজ) তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। প্রয়োজনে আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হবে। এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, অনেক সময় ভল্টের ভেতরে আলমারিতে জায়গা না হলে টেবিলের ওপর টাকা রাখা হয়। এক্ষেত্রে তা-ই হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষেই জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের এ শাখা থেকে জেলার আরো ১৬টি শাখায় অর্থ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া জেলার বড় ব্যাংক হিসেবে বেসরকারি ব্যাংকও শাখাটি থেকে অর্থ ধার করে। এ কারণে শাখাটির ভল্টে সবসময় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা থাকে। সূত্র: বণিক বার্তা
- ট্যাগ:
- ব্যবসা