ছবি সংগৃহীত
সুরা আল-আনআমের শানে নুজুল
আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩, ১৭:৩১
নামকরণ, নাযিলের সময়-কাল, ঐতিহাসিক পটভূমি, বিষয়বস্তু ও শানে নুজুল নামকরণ পৌত্তলিক কাফেররা মূর্তি-পূজার সাথে যে সকল অনুষ্ঠানে অদ্বিতীয় আল্লাহ্র শরীক নির্ধারণ করে থাকে, তন্মধ্যে আল্লাহ্র সৃষ্ট জীব-জন্তু তাদের কল্পিত দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ অথবা বলিদান করা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুতরাং এই সূরার ‘আন‘আম’ নামকরণ যে বিশেষ উপযোগী হয়েছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ফযীলত সূরা আনআমই একমাত্র এমন একটি সূরা যা আদ্যপান্ত এক সাথে একই সময়ে নাযিল হয়। এটি রাতের বেলা নাযিল হয়। তখন সত্তর হাজার ফেরেশতা আসমানের প্রান্তভাগে সমবেত অবস্থায় নানান স্তুতি যপে লিপ্ত ছিলেন যার কলরবে চতুর্দিক মুখরিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাদের সঙ্গে দুবার উচ্চারণ করে সেজদায় পতিত হন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি এই সূরা পাঠ করে তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা রাত-দিন দোয়া করতে থাকেন। আয়াতভিত্তিক শানেনুজুল এই পবিত্র সূরা মক্কায় নাযিল হয়। তফ্সীরকাররা মদিনায় অবতারিত সূরা বাকারা, সূরা নিসা ও সূরা মায়েদার পূর্বে এবং হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর মক্কা অবস্থানের শেষ বছরে এই সূরার অবতারণকাল নির্দেশ করেছেন। তাঁরা আরও নির্দেশ করেছেন যে, এই সূরার সমস্ত অংশ একবারে এবং একই সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। ( তাফসিরে ইবনে আব্বাস ও কবির)। আয়াত- ৬ : ইবনে হারেছ, নওফল ইবনে খোয়াইলিদ এবং ইবনে উমাইয়া মাখযুমী রাসূল (সা.) কে বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা ঈমান আনব না যাবত তোমার নিকট প্রকাশ্যে কোন ফেরেশতা আগমন না করে, আর তাঁর নিকট এমর্মে কোন লিপিকারও থাকতে হবে যে, তুমি সত্যই আল্লাহর রাসূল এবং এ মর্মে তাদেরকে সাক্ষ্যও প্রদান করতে হবে । তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আয়াত-২৪ : কতিপয় মুফাস্সিরের মতে যারা মিথ্যা কসম খেয়ে তাদের শিরক করাকে অস্বীকার করবে, তারা হল সেসব লোক যারা সরাসরি সৃষ্ট জীবকে আল্লাহ বা আল্লাহর প্রতিনিধি করে নি। তবে তারা আল্লাহর সব ক্ষমতা সৃষ্ট জীবে বণ্টন করে দিয়েছে। (বাহারে মুহীত) আয়াত- ২৫ : হযরত ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, আবুসুফিয়ান ইবনে হরব, অলীদ ইবনে মুগীরা, নযর ইবনে হারছ, ওতবা ও শায়বা ইবনে রবীয়া এবং উমাইয়া ও উবাই ইবনে খলফ্ রাসূল (সা.)-এর কুরআন পাঠ শুনে সকলেই নযরকে জিজ্ঞেস করল তুমি কি বুঝলে? সে বলল, এসব কিছুতে কেবল মুহাম্মদের ঠোঁট নাড়ানো ব্যতীত অন্য কিছু বুঝা যায় না, মনে হয় পুরানো কিছু গল্প বলছে যেমন আমি বলে থাকি। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। আয়াত-৩১ : হাদীসে আছে, ক্বিয়ামতের দিনে সৎ লোকদের আ’মল তাদের বাহন হবে। পক্ষান্তরে অসৎ লোকদের কাজ-কর্ম ভারী বোঝার আকারে তাদের মাথায় চাপিয়ে দেয়া হবে। (মারেফুল কোরান) আয়াত-৩২ : এখানে পার্থিব জীবনকেই খেলা-ধূলার বস্তু বলা উদ্দেশ্য নয়, বরং যে সকল কার্যকলাপ পরকালের সহায় নয় শুধু সেগুলোকেই খেলা-ধূলার বস্তু বলা হয়েছে। (বয়ানুল কোরান) আয়াত-৩৪ : ইমাম সুদ্দী (রঃ) হতে বর্ণিত একবার দু’জন কাফের সর্দার আখনাস ইবনে শুরাইক ও আবূ জাহেলের মধ্যে সাক্ষাত হলে আখনাস আবূ জাহেলকে জিজ্ঞাসা করল, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সম্পর্কে আপনার সঠিক ধারণা কি? আবূ জাহল আল্লাহর কসম খেয়ে বলল, মুহাম্মদ (সা.) সত্যবাদী। কিন্তু কোরাইশ গোত্রের একটি শাখা ‘বনী কুসাই’ এসব গৌরব ও মহত্বের একচ্ছত্র অধিকারী হবে, একথা আমরা মেনে নিতে পারি না। তখন আয়াতটি নাযিল হয়। (তাফসিরে মাজহারি) আয়াত-৪৫ : হযরত উবাদাহ ইবনে ছামেত (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতিকে যখন টিকিয়ে রাখতে ও উন্নত করতে চান, তখন তার মধ্যে দুটি গুণ সৃষ্টি করে দেন। এক : প্রত্যেক কাজে মমতা ও মধ্যবর্তীতা। দুইঃ সাধুতা ও পবিত্রতা। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চান, তাদের জন্য বিশ্বাস ভঙ্গ ও আÍসাতের দ্বার খুলে দেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমরা দেখ যে, কোন ব্যক্তির উপর নেয়ামত ও ধন-দৌলতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে অথচ সে গুনাহ ও অবাধ্যতায় অটল, তখন বুঝে নিবে যে, তাকে ঢিল দেয়া হয়েছে। তার এই ভোগ-বিলাস কঠোর আযাবে গ্রেফতার হওয়ারই পূর্বাভাস। আয়াত-৫৪ : একদা কতিপয় মুসলমান রাসূল (সা.) এর নিকট বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা বড় গুনাহ্গার আমাদের তওবার উপায় কি বলুন। তখন রাসূল (সা.) কিছুক্ষণ অহীর অপেক্ষা করলেন এবং তৎপর আশার বাণী নিয়ে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আয়াত-৫৯ : রাসূলুল্লাহ (সা.) সমস্ত গুপ্ত বিষয়ের ভাণ্ডার শব্দের ব্যাখ্যায় পাঁচটি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। ১। ক্বিয়ামত কখন হবে। ২। বৃষ্টি কখন বর্ষিবে। ৩। গর্ভবতীর পেটে কি সন্তান আছে। ৪। মানুষ আগামীকাল কি অর্জন করবে এবং ৫। কোন্ মাটিতে সে মৃত্যুবরণ করবে। (সূরা লুকমান ৩৪ আয়াত) হাদীসে আছে গায়েবী ইলমের কোন কোন বিষয় আল্লাহ নবীদেরকে অহী দ্বারা এবং অলীদেরকে ইলহাম দ্বারা জানিয়ে দেন। যেমন নবীরা কবরের আযাব, হাশরের ভয়াবহ অবস্থা, দোযখের আযাব এবং জান্নাতের শান্তির বিষয় যা ইলমে গায়েবের পর্যায়ভূক্ত পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন। মুলকথা হল, কোরআনের পরিভাষায় যাকে গায়েব বলা হয় তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউই জানে না। (মারেফুল কোরান) আয়াত- ৬৫ : এখানে তিন প্রকারের শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। ১। যা উপরের দিক হতে আসে, যেমন- প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি, প্রস্তর বৃষ্টি ইত্যাদি। ২। যা নিচের দিক হতে আসে, যেমন- ভূমিকম্প, ভূমি ধসিয়ে দেয়া ইত্যাদি। ৩। জাতি বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পরস্পরে মুখোমুখী হবে এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। (মারেফুল কোরান) আয়াত-৬৮ : কাফেররা মুসলমানদের মজলিসে বসে কুরআন ও ইসলামের সমালোচনা ও ঠাট্টা করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা মজলিস থেকে উঠে যাও। সাহাবীরা বললেন, কা’বার তাওয়াফ ও মসজিদে হারামে অবস্থান আমাদের জরুরী কাজ। তারা কোরআনের ঠাট্টা করলেও আমরা এ সমস্ত ই’বাদত ত্যাগ করতে পারি না। আমরা কি এতে গুনাহ্গার হব? তখন এই আয়াতগুলো নাযিল হল। (মুঃ কোঃ) . আয়াত-৭৬ : আল্লাহপাক হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে একটি উচ্চ পাথরের উপর দাঁড় করিয়ে আরশের কার্নিশ হতে পাতাল পর্যন্ত সমস্ত আসমান-যমীন দেখালেন। এটি দেখে ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর অসীম কুদরতে বিশ্বাস স্থাপন করলেন (মুঃ কোঃ) আয়াত-৯১ : ইহুদী মালেক ইবনে সাইফ হুযুর (সা.) এর নিকট এসে কিছু দ্বীনী আলোচনার এক ফাঁকে গর্বের সাথে বলল, আল্লাহ্ তা‘আলা কোন মানুষের প্রতি কোন কিতাব নাযিল করেন নি। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়। বর্ণিত আছে যে, এ ঔদ্ধত্য ও গর্ব দম্ভের হেতু হল, হুযুর (সা.) ঐ ইহুদীকে যখন বললেন, হে মালেক! তুমি ঐ রবের নামে শপথ করে বল যে, মূসা (আঃ)-এর নিকট প্রেরিত তাওরাতে কি এটা উল্লেখ নেই যে, মোটা ও নাদুসনুদুস্ দেহধারী মানুষকে আল্লাহ ভালবাসেন না ? তখন সে অগ্নিশর্মা হয়ে উক্ত মন্তব্যটি করছিল। মোটা দেহধারীর মর্মার্থ হল যাদের নিকট আখেরাতের কোন চিন্তা নেই তারা কেবল আপন শরীরের যত্ন নেয়, আত্মিক উন্নতির এবং পরকালীন কল্যাণের কোন তোয়াক্কা করে না। এটাও ইহদীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। তৌরাতের মধ্যে নবী করীম (সা.) এর আগমন এবং তাঁর শরীয়ত সম্বন্ধীয় যে সব ভবিষ্যদ্বাণী ছিল তারা এবং তাদের পূর্ব-পুরুষরা তা সঠিকরূপে উপলব্ধি করতে পারে নি এবং পারত না, কিন্তু এখন রাসূল (সা.)-এর পবিত্র শুভাগমনের পর ঐ ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের বাস্তবতা তাদেরকে জানানো হল অথবা এও হতে পারে যে, এটা আরবদের বলা হয়েছে যে, তোমাদের এবং তোমাদের বাপ-দাদা সকলেই মূর্খ ছিল। অনন্তর এ শরীয়ত-জ্ঞান ও একত্ববাদ এবং হাশর নশরের জ্ঞান ইত্যাদি আল্লাহ্র পাঠানো কিতাব ‘কোরআন মজীদ’ অবতরণ হেতু তোমাদের জ্ঞাতব্য হল। এরপরও বলছ, আল্লাহ্ তা’আলা কিছুই অবতরণ করেন নি। অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ্র যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন কর নি। আয়াত-১০৮ : এক বর্ণনায় আছে যে, মুসলমানরা কাফেরদের সম্মুখে তাদের দেব-দেবীকে গালি দিত। আল্লাহ তা’আলা বলেন, যারা গালির যোগ্য তাদেরকেও গালি দিও না। (মুঃ কোঃ) ব্যাখ্যা : এটা হতে এ আদেশই নিঃসৃত হয় যে, বৈধ কার্যকলাপ কোন হারাম কার্যের উপকরণ ঐ বৈধ কার্যও অবৈধ হয়ে যায়। কারণ মূর্তির সমালোচনা করা মূলতঃ বৈধ, কিন্তু যেহেতু তা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের শানে বে-আদবী হওয়ার উপাদান হল তখন তা হতে বিরত থাকতে বলা হল। বলা বাহুল্য যে, তাওহীদ ও রেসালতের বিবরণেও কাফেররা আল্লাহর শানে বে-আদবী করার কারণে এটির প্রচারণা ও প্রকাশনা কার্যে বারণ করা হবে না। এ বিষয়টি প্রতিমা গালির বিষয়ের উপর তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ তাওহীদ রিসালতের তবলীগ ও প্রচার কার্য হল ওয়াজিব; আর প্রতিমা সম্বন্ধে সমালোচনা করা হল একটি মোবাহ বিষয়। (বয়ানুল কোরান) আয়াত-১০৯ : ইবনে জারীরের বর্ণনানুযায়ী মুশরিক সর্দাররা রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম কে বলল যে, আপনি যদি সাফা পাহাড়কে স্বর্ণে পরিণত করতে পারেন তবে আমরা আপনার নবূওয়্যত মেনে নিব এবং মুসলমান হয়ে যাব। এতে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আল্লাহর নিকট দোয়া করতে উদ্দত হলে জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম এসে বললেন, আপনার দোয়া অনুযায়ী সাফা পাহাড় স্বর্ণে পরিণত হওয়ার পরও যদি তারা ঈমান না আনে তবে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। এতে রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম দোয়া করা হতে বিরত রইলেন। এ মর্মে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়েছে। (বয়ানুল কোরান) আয়াত-১১৫ : এর দ্বারা কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। কোরআনের গোটা বিষয়বস্তু দু প্রকার। কোরআনের এ দু প্রকার বিষয়বস্তু সম্পর্কে দু অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোরআনে যেসব ঘটনা, ওয়াদা, অবস্থা, ভীতি বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো সবই সত্য ও নির্ভুল। আর খোদায়ী বিধান সুবিচার ও সমতার উপর নির্ভরশীল। এতে কারো প্রতি অবিচার নেই এবং এমন কোন কঠোরতাও নেই যা মানুষ সহ্য করতে পারে না। তাছাড়া আল্লাহর কালামের কোন পরিবর্তনকারী নেই। না ভুল প্রমাণিত হওয়ার কারণে এর কোন পরিবর্তন হয়েছে আর না জোর করে কেউ এর কোন পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এই কোরআন রহিত বা বিকৃত হওয়ার কোন আশংকা নেই। (মারেফুল কোরান) আয়াত- ১২২ : একদা হুযুর (সা.) এর প্রতি আবুজাহ্লে গরুর মল নিক্ষেপ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ছ)-এর চাচা হযরত হামযা (রা.), তখনও মুসলমান হন নি; তাঁর এক দাসী তাকে আবূ জাহেলের উক্ত অসদাচরণের সংবাদ দিয়েছিল। তিনি অগ্নিশর্মা হয়ে আবূ জাহেলকে ধনুক দিয়ে মারলেন আবূ জাহেল তখন মিনতি করে বলতে লাগল, হে আবূ ‘আলা আপনি জানেন, মুহাম্মদ কিরূপ আশ্চর্য কথা বলে, যদ্দ¦ারা আমাদের বিবেক পর্যন্ত অকর্মণ্য হয়ে যায় এবং সে আমাদের মা’বুদ সমূহের সমালোচনা করে এবং আমাদের পূর্ব পুরুষদের ধর্মের বিরোধিতা করে। তখন হযরত হামযা বলে উঠলেন, তোমাদের অপেক্ষা অথর্ব ও অধিক বোকা কে আছে? আয়াত-১৪১ : ইব্নে কাছীর (রঃ) স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ আয়াতটি মক্কায় অবতীর্ণ হোক অথবা মদীনায় হোক, উভয় অবস্থায়ই এই আয়াত হতে শস্যক্ষেতের যাকাত অর্থাৎ ওশর অর্থ নেওয়া যেতে পারে। মোটকথা ফসল কাটা ও ফসল নামানোর সময় যে সব গরীব-মিসকীন সেখানে উপস্থিত থাকত তাদেরকেও কিছু দান করা হত। কোন বিশেষ পরিমাণ নির্ধারণ ছিল না। ইসলাম পুর্বককালেও এ নিয়ম ছিল। (মারেফুল কোরান) আয়াত-১৪২ : তাত্তাবিউ.... শাইতোয়ান, অর্থাৎ আল্লাহ্ প্রদত্ত প্রত্যেক প্রকারের ছোট-বড় জীব-জন্ত যা শরীয়তে হালাল তা খাও। নিজেদের পক্ষ হতে ওগুলো হারাম সাব্যস্ত করে শয়তানের অনুসারী হয়ো না। শয়তান তোমাদের স্পষ্ট শত্র“। এরূপ স্পষ্ট প্রমাণ সত্ত্বেও কি তোমরা বিপথগামী হবে? বড় জীব উট, গরু, মহিষ ইত্যাদি; আর ছোট জীব ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি। আয়াত-১৪৮ : কাফেররা বলত, আমরা যে দেব-দেবীর পুজা করছি এবং কতিপয় বস্তুকে হারামরূপে গণ্য করেছি, তা যদি আল্লাহর অপছন্দনীয় হত, তবে তিনি আমাদেরকে এ কাজ করতে দিতেন না। (মুঃ কোঃ) আয়াত-১৪৯ : এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে যে, আল্লাহ চাইলে সকলকে পথ-প্রদর্শন করতে পারতেন। আর যেহেতু আল্লাহ চান নি সেহেতু সকলে সরল পথপ্রাপ্ত হয় নি। সুতরাং তাদেরকক নবী রাসূল দ্বারা ভয় দেখানোর কারণ কি? আর তারা শাস্তিই বা পাবে কেন? প্রথম জওয়াব হল, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সকলকে হেদায়েত করতে পারতেন তবে কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোর করে সৎ পথে আনা আল্লাহর রীতি নয়। দ্বিতীয় উত্তর হল, যেই আল্লাহর ইচ্ছায় তারা বিপথগামী হয়েছে সেই আল্লাহর ইচ্ছায়ই তাদেরকে ভয় দেখানো এবং আযাব দেয়া হবে। (তাফঃ মাহঃ হাঃ) আয়াত-১৫৮ : অর্থাৎ তারা কি বিশ্বাস স্থাপনের ব্যাপারে এজন্য অপেক্ষা করছে যে, মৃত্যুর ফেরেশতা তাদের কাছে পৌঁছবে নাকি হাশরের ময়দানের অপেক্ষা করছে যেখানে প্রতিদান ও শাস্তির ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ স্বয়ং আগমন করবেন। (মারেফুল কোরান) ২। নবী (সা.) বলেছেন, ক্বিয়ামতের সর্বশেষ নিদর্শন হিসাবে যখন সূর্র্য পূর্বদিকের পরিবর্তে পশ্চিমদিকে উদিত হবে, তখনকার ঈমান ও তাওবাহ গ্রহণীয় হবে না। (ইমাম বাগভী) আয়াত-১৬০ : বুখারী, মুসলিম, নাসায়ী ও মুসনাদ আহমাদে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের রব অত্যন্ত দয়ালু। সৎ কাজের নিয়ত করলে একটি নেক, কার্য সম্পাদনের পর দশটি নেক লিখা হয়। পক্ষান্তরে পাপ কার্যের নিয়ত করে তা না করলে একটি নেক আর কার্যে পরিণত করার পর গুনাহ তার আ’মলনামায় লিখিত হয় কিংবা তাও মিটিয়ে দেয়া হয়। (ইব্. কাঃ) গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান
- ট্যাগ:
- ইসলাম
- কোরান
- শানে নুজুল
- শানে নুজুল
- সুরা আল আনআম