ছবি সংগৃহীত

সঙ্গী যখন ব্যাগ

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৩, ১৫:০৬
আপডেট: ০৬ জুন ২০১৩, ১৫:০৬

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন মানুষ ভ্রমণে বের হবার আগে কাপড়ে পুঁটুলি বেঁধে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে নিত! এমনকি এই পুঁটুলি বেঁধে জিনিস নেবার জন্য এক ধরনের নকশী কাঁথাও তৈরি হতো যার নাম 'পোটলা কাঁথা'! বহনের সুবিধার্থে পরবর্তীতে তৈরা হয় ঝোলা ব্যাগ। এই ব্যাগ ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই ব্যবহার করত। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের চরিত্রদের কাঁধে এই ব্যাগের দেখা মিলত বলে এই ব্যাগের নামই হয়ে যায় 'রাবীন্দ্রিক ব্যাগ'। সময়ের সাথে সাথে নানান কাজের প্রয়োজনে বাড়তে থাকে ব্যাগের চাহিদা। ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা ব্যাগ। বর্তমান সময়ে মেয়েদের ব্যাগে করা হচ্ছে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। উপকরণে তো বটেই, ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। চারকোনা, আয়তকার, গোলাকার, অর্ধগোলাকার, থলের মতো, ছোট, বড়, মাঝারি ইত্যাদি নানা আকারের ব্যাগ ব্যবহার করে এখনকার মেয়েরা।

হাল ফ্যাশনে ব্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ব্যাগ ছাড়া নারীদের ফ্যাশন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফ্যাশনের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রয়োজনটাও গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়। কলেজ, ভার্সিটি, অফিস, অনুষ্ঠান বা যেকোনো প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে বেছে নেয়া হচ্ছে ব্যাগ তৈরির উপকরণ ও করা হচ্ছে এর ডিজাইন। এর সাথে পোশাক ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তো রয়েইছে। প্রাচ্যদেশীয় পোশাকের সাথে মিলিয়ে নেয়ার জন্য যেমন ব্যাগ পাওয়া যায়, তেমনি পাশ্চাত্য স্টাইলের সাথে মিলিয়ে নেয়ার জন্যও ব্যাগ পাওয়া যায়। মোটকথা, যেমনটা প্রয়োজন ঠিক তেমনই ব্যাগ সরবরাহ করতে প্রস্তুত এখনকার ডিজাইনাররা। চামড়া, কৃত্রিম চামড়া, রেক্সিন, প্লাস্টিক ইত্যাদি উপকরণের ব্যাগ তো ছিলই বর্তমানে ব্যাগ তৈরি উপকরণেও এসেছে নতুনত্ব। ব্যবহার হচ্ছে নানা ধরনের কাপড়, পাট, চট, পুঁতি, পাথর, লেইস, বেত ইত্যাদি। বিশেষ করে দেশীয় বুটিক হাউজগুলো এ সময়ের প্রয়োজনকে মাথায় রেখে তৈরি করছে দৃষ্টিনন্দন সব ব্যাগ। এখানে যেমন পাওয়া যাবে নকশাদার ক্লাচ ব্যাগ, তেমনি পাওয়া যাবে অফিসকর্মীদের ব্যাগও। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহারের জন্য একটু বড় আকারের ব্যাগ তৈরি করা হয় যাতে বইখাতার পাশাপাশি ল্যাপটপও নেয়া যেতে পারে। প্রত্যেক ফ্যাশন হাউজই তাঁদের নিজস্ব চিন্তাধারা কাজে লাগিয়ে ব্যাগগুলো তৈরি করছেন। কেউ পাটের ওপর চামড়া দিয়ে নকশা করছেন, কেউ পাটের ওপর প্রিন্ট করছেন, কেউ লেইস, পুঁতি ও নানা রকম উপকরণ ব্যবহার করছেন আবার কেউ এমব্রয়ডারির কাজ করছেন। অনেকে বাটিক, টাইডাই, ব্লক বা স্ক্রিনছাপার কাপড়ের ব্যাগ তৈরিতে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এছাড়াও ধুপিয়ান, সিল্ক, ভেলভেট, জামদানী, কাতান এবং বেনারসী কাপড়েও তৈরি হচ্ছে ব্যাগ। ডিজাইনের ক্ষেত্রে দেশীয় মোটিফ প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন কলকা, ফুল, লতাপাতা, নকশীকাঁথার নানা মোটিফ, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি।
ক্লাস বা অফিস ব্যাগের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে নানা রকম পার্টি ব্যাগও। এগুলো আকারে বেশ ছোট তবে বেশ বৈচিত্র্যময়। এসব ব্যাগ মেটাল ফ্রেবিকের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে কাতান বা বেনারসী কাপড়েও। এগুলোর হাতলেও রয়েছে অভিনবত্ব। কোনোটির হাতল বৃত্তাকার, চারকোনা আবার কোনোটির লম্বাটে। এছাড়া ক্লাচ ব্যাগ তো আছেই! শুধু ফ্যাশন হাউজগুলো নয় দেশের মার্কেটে এখন পাওয়া যাচ্ছে চায়না, থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের আমদানি করা ব্যাগ। তবে বাজারের বেশির ভাগ জায়গা দখল করে আছে চায়না হ্যান্ডব্যাগ। কৃত্রিম চামড়া ও রেক্সিনের তৈরি এসব ব্যাগ খুব বেশি টেকসই না হলেও দেখতে আকর্ষণীয় ও দাম কম হওয়ায় তা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। তবে আমাদের দেশীয় ব্যাগগুলো টেকসই ও অভিজাত হওয়ায় ধীরে ধীরে এগুলোও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
ক্লাসের জন্য বেছে নিতে পারেন কাপড়ের তৈরা ঝোলা ব্যাগ। বাটিক, টাইডাই, ব্লক বা লেইসের ডিজাইন করা ব্যাগগুলো যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি ওজনে একেবারে হালকা। একাধিক চেম্বার থাকায় বইখাতা নিতেও সুবিধা। সাধারণ ব্যবহারের জন্য নিতে পারেন ভেলভেট বা ধুপিয়ানের ব্যাগ। একটু ভারী কাজের ব্যাগও মানিয়ে যাবে সালোয়ার-কামিজ বা ফতুয়ার সাথে। অফিসের জন্য একটু শক্ত এবং মাঝারি আকারের ব্যাগই ভালো। এতে সহজেই এঁটে যাবে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস। পাট বা কাপড়ের তৈরি ব্যাগ এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে। অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিন ছোট আকারের পার্টি ব্যাগ। হতে পারে সেটা ক্লাচ ব্যাগও। কাতান বা বেনারসীর তৈরি এসব ব্যাগ আপনাকে করে তুলবে আভিজাত্যময়। ব্যাগের রঙের ক্ষেত্রে কালো, মেরুন, চকলেটের বদলে এবার জনপ্রিয়তা পেয়েছে একটু ভিন্নধর্মী রং। নীল, সবুজ, বেগুনী, লেমন, লাল, কালো, গোলাপি, ধূসর ইত্যাদি রং প্রাধান্য পাচ্ছে এখনকার ব্যাগে। বেছে নিন আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই ব্যাগ আর হয়ে উঠুন ফ্যাশনেবল!