ছবি সংগৃহীত

লন্ড্রি সার্ভিসের আদ্যোপান্ত

Mahmud Ullah
লেখক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০১৫, ১৩:৪১
আপডেট: ২৬ জুলাই ২০১৫, ১৩:৪১

(প্রিয়.কম) কাপড়ে দাগ লেগেছে? লন্ড্রি। ইস্ত্রি করতে হবে? লন্ড্রি। রিফু করতে হবে? লন্ড্রি। কাপড়ের দেখভাল ও যত্নে লন্ড্রির বিকল্প নেই। আর হাতে কাছে ভালো লন্ড্রির খোঁজ খবরটা ও সেবা ব্যবস্থা তাই জেনে রাখা জরুরী। পাড়ার মোড়ে মোড়ে কাপড়ের লন্ড্রি থাকেই। এইসব দোকানগুলোতে হাতে কাপড় ইস্ত্রি করা হয়। ঢাকায় প্রায় ২৫০০০ টি এমন লন্ড্রি রয়েছে। কাপড় ধুতে দিলেও হাতেই ধোয়া হয়। ঢাকার বেশিরভাগ কাপড় ধোয়া হয় বুড়িগঙ্গা নদীতে। নদীর পাড়ে গেলেই দেখা যায় বিশাল লম্বা কাপড়ের শুকানোর সারি। এগুলো কি আদৌ স্বাস্থসম্মত? অবশ্যই না। এগুলোতে রোগ জীবানু থাকার সম্ভাবনা অনেক। তবে ঢাকায় অনেক বছর ধরেই বেশ কিছু লন্ড্রি সার্ভিস তাদের সেবা দিয়ে নাগরিকদের কাপড় পরিস্কারের দায়িত্ব নিয়ে সেবা দিয়ে আসছে। এদের মধ্যে ব্যান্ড বক্স, ক্যালকাটা ক্লিনার্স, টপ ক্লিন অন্যতম। এরা মূলত পোশাক ধোয় হয় ওয়াশিং মেশিন ও ড্রাই মেশিনে। সাধারনত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে কাপড় ডেলিভারি দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান।

১৯৮৮ সালে ঢাকার সর্ব প্রথম লন্ড্রি ক্যালকাটা ড্রাই ক্লিনার্স গাউসিয়ায় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে রয়েছে ১২ টি শাখা। এরপরের বছরই ১৯৮৯ সালে আসে ব্যান্ড বক্স নামের ড্রাই ক্লিনার্স। সারা ঢাকায় এখন ৩২টি শাখায় সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এরাই মূলত ড্রাই ওয়াশের প্রধান বাজারটি ধরে রেখেছে। উচ্চবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ ব্যান্ডবক্সের মূল ভোক্তা। তাছাড়া কর্পোরেট চাকরীজীবিদের বিশাল অংশও তাদের নিয়মিত কাস্টোমার। এছাড়া টপ ক্লিন নামের আর একটি ড্রাই ক্লিনার্স রয়েছে যারা হোম ডেলেভারি দিয়ে থাকে। গুলশান বনানী এলাকায় তারা এই সার্ভিস চালু করেছে। কর্পোরেট ব্যক্তিবর্গ খুব তাড়াতাড়ি কাপড় ডেলেভারি চায়। আর সেই লক্ষ্যে টপক্লিন তাদের মোটো চালু করেছে ২৪ ঘন্টায় কাপড় ডেলেভারি দেয়ার নিয়ম। প্রিয় টিমের সঙ্গে কথা হয় সবচেয়ে পুরাতন ড্রাই ক্লিনার্স কোম্পানী ক্যালকাটা ক্লিনার্সের রিফু করার কারিগর শাজাহান সাজুর সঙ্গে। তিনি রিফিু নিয়ে তার জীবনের একটি গল্প বললেন। তিনি নিজেকেই এখন সবচেয়ে পুরাতন রিফু কারিগর বলে জানান। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজে যুক্ত। প্রায় ১২/১৩ বছর আগে তার এখানে ইংল্যান্ডের রানীর কাপড়ের স্যাম্পল আসে রিফু করার জন্য। রিফু করার কারিগর শাজাহান সাজুই সেই স্যাম্পলটি রিফু করে দেয়। কিন্তু কাপড়টি ছিল টেম্পারলেস। ফলে একটু টান দিলেই ছিড়ে যেত। এরপর সেই মূল কাপড়ের রিফুর জন্য তাকে সেই সময়ে ৩০ হাজার টাকা অফার করা হলেও সে নেয়নি। কারণ টেম্পারলেস কাপড় আবার কাজের সময় যদি আরো ছিড়ে যায় তাহলে সে ঝামেলায় পড়ে যাবে। কাপড় ও ছেড়ার ভিত্তিতে ১০০ টাকা থেকে রিফুর বিল হয়ে থাকে। এছাড়া ওয়াশও ৫০ থেকে ৫০০ টাকা হয়ে থাকে। মূলত শীতের সময়ই এই কাপড়ের ক্লিনার্স ব্যবসা জমে উঠে। এছাড়া সারা বছরও কম বেশি চলে। বিভিন্ন ধররনর কেমিকেল, পেট্রোল দিয়ে ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ওয়াশ হয়ে বের হয়ে বের হলে বয়লার স্টিম দিয়ে কাপড়টিকে আয়রন করা হয়। এই পদ্ধতিতে কাপড় ওয়াশ করলে বা আয়রন করলে কাপড়ে রোগ জীবানু থাকেনা। ফলে ১০০ ভাগ স্বাস্থসম্মত থাকে। লন্ড্রি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এত কিছুর পরেও এই ব্যবসার ক্লায়েন্ট তেমন বাড়ছে না। সরকারকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান ও কাপড় ডেলেভারির সঙ্গে পলি কভার ও হ্যাঙ্গার দেয়ার কারনে তাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। এসব কারণে ব্যবসা আর আগের মতোও নেই। ফলে এর ভবিষ্যতও খুব ভাল নয়। টপ ক্লিন এর মার্কেটিং ম্যানেজার এক দাস বলেন, 'আমাদের কাপড় ওয়াশসহ আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ার কারনে বিলও আরো অনেক বেশি বাড়ানো উচিত। এবছর আমরা সরকারকে প্রায় ১ কোটি টাকা ভ্যাট দিয়েছি। আমাদের ভ্যাটও যদি কিছু কমানো হতো তাহলে অনেক ভাল হতো।'