ছবি সংগৃহীত

মাত্র ৫৫৫ টাকায় ডিজিটাল ব্লু বুক চালু করলো যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

এম. মিজানুর রহমান সোহেল
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১৪:০৮
আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৪, ১৪:০৮

(প্রিয় টেক) গাড়ি চুরি বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে গাড়ির মালিকানা নির্ধারণে কাগুজে বইয়ের পরিবর্তে দেয়া হচ্ছে মেশিন রিডেবল ডিজিটাল ব্লু বুক বা ভেহিকল ওনারশিপ কার্ড। চলতি মাস থেকে এ কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মাত্র ৫৫৫ টাকার বিনিময়েই পাওয়া যাবে এ ডিজিটাল ব্লু বুক। বিআরটিএর তথ্যমতে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো দেখতে ডিজিটাল ব্লু বুকে থাকবে গাড়ির মালিকের ছবি, স্বাক্ষর ও বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ। গাড়ির সংক্ষিপ্ত বিবরণের পাশাপাশি এক্সেল লোডও লেখা থাকবে ডিজিটাল ব্লু বুকে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো সহজে বহনযোগ্য এ স্মার্ট কার্ডই গাড়ির মালিকানার সপক্ষে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট হিসেবে গণ্য হবে। ডিজিটাল এ ব্লু বুকে বারকোড ও মালিকের সেলফোন নম্বর উল্লেখ থাকবে। মেশিন রিডেবল কার্ডটিতে একটি চিপ যুক্ত থাকবে; যা এর তথ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় কাজ করবে। গাড়ির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর, মালিকানাসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত জানতে বা মালিকানা পরীক্ষা করতে এ কার্ড মেশিনে ঢুকালেই চলবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে মোটরযানের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা, গাড়ি চুরি রোধ ও ব্লু বুকের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাগুজে লাইসেন্সের পরিবর্তে এ ডিজিটাল ব্লু বুক চালু করা হচ্ছে। মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের প্রায় ২০ লাখ মোটরযান মালিককে ডিজিটাল ব্লু বুক দেবে বিআরটিএ। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) ও মেশিন রিডেবল ডিজিটাল ব্লু বুক প্রকল্পের পরিচালক মো. সাইফুল হক বলেন, মেশিন রিডেবল ব্লু বুক তৈরির প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সহজে বহনযোগ্য এ ব্লু বুক গাড়ির মালিকানা প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। গাড়ি চুরি করে বিক্রির প্রবণতা বন্ধেও এ কার্ড উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। জানা গেছে, মেশিন রিডেবল ব্লু বুক সংগ্রহের জন্য গাড়ির মালিককে বিআরটিএর অফিসের নির্দিষ্ট কাউন্টার বা ব্যাংকে ৫৫৫ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। এ-সংক্রান্ত মানি রিসিটের কপি বিআরটিএ অফিসে জমা দেয়ার পর অফিসের নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ির মালিকের ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর নেয়া হবে। কার্ডে স্থাপিত চিপসে গাড়ি ও এর মালিকের বিস্তারিত তথ্য দেয়া থাকবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের গাড়ির ক্ষেত্রে এসব তথ্য প্রয়োজন হবে না। শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার মাধ্যমেই এ কার্ড সংগ্রহ করা হবে। ডিজিটাল কার্ডটি পেতে গাড়ির মালিকদের কাগজের ব্লু বুক জমা দিতে হবে। নতুন কেনা গাড়ির মালিকদের ও পুরনো গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের সময় মেশিন রিডেবল এ ব্লু বুক সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। তবে পুরনো গাড়ির মালিক যেকোনো সময় এ ডিজিটাল ব্লু বুক সংগ্রহ করতে পারবেন। পুরনো ব্লু বুকধারী ব্যক্তিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন ব্লু বুক তৈরি হলে তা বিআরটিএ থেকে সংগ্রহের জন্য গাড়ির মালিককে এসএমএস দেয়া হবে। সব গাড়ির মালিককে ডিজিটাল ব্লু বুক দেয়ার লক্ষ্যে বিআরটিএ এরই মধ্যে সারা দেশে ৬২টি জেলা সার্কেল অফিসের মাধ্যমে গত ১ অক্টোবর থেকে তথ্য গ্রহণ শুরু করেছে। এক্ষেত্রে বিআরটিএর সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) এসব ব্লু বুক তৈরি করবে। এজন্য ২০১২ সালে বিআরটিএ ও বিএমটিএফের মধ্যে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গাড়ি চুরি বন্ধে ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করতে ২০১২ সাল থেকে কাজ করছে বিআরটিএ। প্রথম পর্যায়ে মোটরযানে রেট্রো-রিফ্লেক্টিং নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংযোজন করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে মেশিন রিডেবল ব্লু বুকও তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সহায়তা করছে বিএমটিএফ। সৌজন্যে: বণিক বার্তা