ছবি সংগৃহীত
ভালোবাসায় অমর : নেপোলিয়ন- জোসেফাইন!
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০৬:০৮
ফটোসোর্স- www.extravaganzi.com
(প্রিয়.কম)- ভালোবাসায় যেমন আছে স্বর্গীয় আনন্দ, তেমনি আছে বিষের চাইতেও অনেকটা তিক্ত আর কষ্টকর অনুভূতি। কিন্তু তবুও মানুষ ভালোবাসে। অমৃত আর গরল- দুটোরই স্বাদ নেয়। কষ্ট পায়। দুঃখকে সঙ্গী করে নেয়। কিন্তু তবুও থেমে থাকেনা ভালোবাসার জয়গান। সামনে ভালোবাসা দিবস। আর তাই ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আজ রইল এমনই কিছু ইতিহাসখ্যাত ভালোবাসার গল্পের একটি- নেপোলিয়ন- জোসেফাইনের অমর প্রেমের গল্প। যার কথা মানুষ মনে রেখেছে যুগে যুগে। করে তুলেছে অমর।
সাল- ১৮০০। ফ্রান্সের চারপাশ তোলপাড় করে জেগে উঠল নতুন এক ভালোবাসার গল্প। নেপোলিয়ান আর জোসেফাইনের ভালোবাসার গল্প। প্রথম দেখাতেই অপরূপ সুন্দরী জোসেফাইনকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন নেপোলিয়ন। এরপর মাত্র এক বছরেই বিশ্ববিজয়ী এই মানুষটি জয় করে নেন জোসেফাইনের মন। তারপর? প্রচন্ড এক ভালোবাসায় মোড়া প্রেমের গল্পের শুরু।
প্রথমদিকে জোসেফাইন অবশ্য রাজী ছিলেন না বিয়েতে। এই তরুণ জেনারেলের আকুতিভরা চোখের দিকে তাকিয়েও নিজেকে অটল রেখেছিলেন তিনি। কারণটা আর কিছু না, কারণ ছিল জোসেফাইনের অতীত। এর আগে আলেক্সান্ডান্ডার নামের এক ভদ্রলোকের সাথে বিয়ে হয় জোসেফাইনের। সেখানে দুজন সন্তানের জন্মদান করেন জোসেফাইন। প্রথমদিকে খুব একটা সম্ভ্রান্ত মহিলা না হলেও ধীরে ধীরে স্বামীর সাথে সাথে সবটা শিখতে শুরু করেন তিনি। অবশ্য কিছুদিনের ভেতরেই জোসেফাইন বুঝতে পারেন যে তার স্বামী অন্য কারো সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছে এবং সে পক্ষের সন্তানদেরকেও আবিষ্কার করেন তিনি। তখন এমনটা খুব একটা অবাক করার মতন ব্যাপার ছিলনা। তবে জোসেফাইন থমকে গেলেন। আর খুব দ্রুত আলেক্সান্ডারকে বিচ্ছেদ দিয়ে দিলেন।
এরপর বেশ কয়েকবার এ দুজনের মিল হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও শেষ অব্দি সেটা হয়নি। ১৭৯৪ সালে যুদ্ধাপরাধী হবার দরুন ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করেন আলেক্সান্ডার ( অল ওমেন্স টক )। জোসেফাইনকেও চার মাস জেল খাটতে হয় তখন। তখনো অন্যকারো সাথে জোসেফাইনের সম্পর্ক ছিল বলে মনে করেন অনেকে। এরপর বারাসের সাথে সম্পর্কে জড়ান জোসেফাইন। সেখান থেকেই তার পরিচয় হয় তখনকার জাতীয় বীর নেপোলিয়নের সাথে। প্রথম দেখাতেই জোসেফাইনের ভালোবাসায় পাগল হযে পড়েন নেপোলিয়ন। জেলে বন্দী থাকবার সময়েও বেশ কিছু চিঠি পাওয়া যায় তাদের ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে। ১৭৯৫ সালেই নিজেকে পুরোপুরিভাবে জোসেফাইনের কাছে মেলে ধরেন নেপোলিয়ন। তবে নেপোলিয়নের সমস্ত চিঠির ভেতরে একটি কথাই বেশি স্পষ্ট। আর সেটি হচ্ছে- অভিমান। অবহেলার অভিমান।
নেপোলিয়নের চিঠি- “ আমি তোমাকে ভালোবাসি না, মোটেই না: অন্যভাবে বলতে গেলে, আমি তোমাকে ঘৃণা করি। তুমি এক দুষ্ট, কদাকার, বোকা সিন্ডারেলা। তুমি কখনো আমাকে লেখোনা; তুমি তোমার স্বামীকে ভালোবাস না: তুমি জান তোমার চিঠিগুলো তাকে কতটা আনন্দ দেয়, এবং তাও তুমি তাকে ছয়টা ছত্রও লেখনা। সেই অসাধারন প্রাণী, সেই নতুন প্রেমিক ঠিক কেমন হতে পারে যে কিনা দিনের পর দিন তোমাকে অবশ করে রাখে এবং তোমার স্বামীর প্রতি দেওয়ার সবটা মনযোগকে আটকে রাখে? কোন এক রাতে দরজা ভেঙে যাবে, আর আমি তোমার কাছে থাকব। ( বিজনেস ইনসাইডার )“
প্রচন্ড ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে একটু অবহেলা পেলেও সেটা পাহাড় সমান মনে হয়। সেক্ষেত্রে জোসেফাইনের ব্যবহার অনেকটাই নেপোলিয়নকে নিজের ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবেই মনে করা হয়। একই সাথে বেশকিছু সম্পর্ক রেখে চলেন জোসেফাইন। একসময় অবশ্য নেপোলিয়ন বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাকে। জোসেফাইন প্রথমেই না করে দেন। না করেন তার পরিবারও। জোসেফাইন ছিলেন নেপোলিয়ানের চাইতে ৬ বছরের বড়। এছাড়াও তার দুটো সন্তান ছিল। তবে সেসবকে পরোয়া করেননি নেপোলিয়ন। জোসেফাইনের বাচ্চাদের সত্যিকারের বাবা হতে চেষ্টা করেন তিনি। চেষ্টা করেন জোসেফাইনকে সমস্তটা দেবার।
তবে কিছুতেই কিছু আসে যায়নি। জোসেফাইন নেপোলিয়নকে কতটা ভালোবাসত বা আদৌ ভালোবাসত সেটা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে এ ভালোবাসার গল্পে যতটা নেপোলিয়ন জোসেফাইনকে ভালোবেসেছেন সেটাই হয়তো একে অমর করে রাখার জন্যে যথেষ্ট। তবে একটা সময় অবহেলার তীরে বিদ্ধ হয়ে আর পরিবারের চাপে জোসেফাইনকে ত্যাগ করতে বাধ্য হন এই বীর। জোসেফাইন নেপোলিয়নের সন্তানের মা হতে আগ্রহ দেখাননি কখনো আর তাই নিজের উত্তরাধীকারীর জন্ম দিতে অন্য নারী আসে নেপোলিয়নের জীবনে।
বলা হয় জোসেফাইন পুরো ব্যাপারটায় প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিলেন। তার হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। আর নেপোলিয়নও অসম্ভব রকমের কষ্টে ছিলেন পরবর্তী জীবনে। জীবনের পরের দিনগুলোতে জোসেফাইনের স্মৃতিকে নিজের বুকের কাছে ঝুলিয়ে রেখেছেন তিনি সবসময়।
রোমিও-জুলিয়েট, শিরি-ফরহাদ, রাধা-কৃষ্ণের কথা আমরা সকলেই জানি। তবে তাদের থেকে বাস্তবে নেপোলিয়ন আর জোসেফাইনের এই ভালোবাসার কাহিনীও কিন্তু কম আকর্ষণীয় নয়!
লিখেছেন-
সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি
ফিচার রাইটার, প্রিয়লাইফ
প্রিয়.কম