ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞান প্রতিদিন- বাড়িতেই তৈরি করুন নিজের মনের মতো কাগজ!

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৪:০৬
আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৪:০৬

কাগজ এমন একটি উপকরণ যা আমরা সবাই কমবেশি ব্যবহার করে থাকি। একটি বিশেষ ধরণের কাগজ হলো হ্যান্ডমেড পেপার যা আমরা প্রিয়জনকে চিঠি লিখতে, কোনো উৎসবের ইনভিটেশন কার্ড তৈরিতে এমনকি র‍্যাপিং পেপার হিসেবেও ব্যবহার করে থাকি। বেশ দামি এই কাগজ যদি নিজের মনের মতো করে তৈরি করা যেত বাড়িতে? হ্যান্ডমেড পেপার শুনেই বোঝা যায় এটা তৈরিতে তেমন কোনো জটিল যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে না। আর আসলেও এটা কিন্তু একেবারে সহজে বাড়িতেই তৈরি করে ফেলা যায়! বিজ্ঞান মানেই কি কেবল ভারী ভারী বইয়ের মাঝে থাকা দুর্বোধ্য সব নিয়মনীতি? নাকি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা মানেই শুধু ফিটফাট ল্যাবরেটরি আর বোতলে বোতলে ভরা সব রাসায়নিক? কোনটাই নয়! একদম সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে আপনি নিজেই তৈরি করতে পারবেন মজাদার একেকটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। আর এই কাজ টি করার জন্য কোনও ল্যাবরেটরি প্রয়োজন হবে না, আপনার নিজের রান্নাঘরটিই যথেষ্ট! টুকিটাকি কিছু উপাদান দিয়ে নিজেই তৈরি করে নিন একদম নিজের মনের মতো হ্যান্ডমেড কাগজ।

যা যা লাগবে

১) বিভিন্ন ধরণের কাগজ। পত্রিকা (ম্যাগাজিন কভারের চকচকে কাগজ না নেওয়ার চেষ্টা করুন), খাম, লিফলেট, পুরনো বিল ইত্যাদি থেকে কাগজ সংগ্রহ করতে পারেন। ২) ব্লেন্ডার। ৩) একটা পুরনো চারকোণা ছবির ফ্রেম। শক্ত এবং একটু ভারী হলে ভালো হয়। ফ্রেমের আকৃতির ওপর আপনার কাগজের আকৃতি নির্ভর করবে। ৪) এক টুকরো তারের জাল/ঝাঁঝরি। বাড়ির জানালায় যেসব নেট ব্যবহার করা হয় তেমন হলে ভালো। এই জাল/ঝাঁঝরির মাঝে ফুটোগুলো যেন বেশি বড় বড় না হয়। ৫) ফেল্ট বা ফ্লানেলের কাপড় যাতে কাগজ শুকাতে হবে। ৬) হেয়ার ড্রায়ার। ৭) প্লাস্টিকের বালতি। ৮) ভালো টেপ, যাতে পানি লাগলে সহজে উঠে না যায়। ৯) স্পঞ্জ।

যা করতে হবে

১)কাগজের ফ্রেম তৈরি ছবির ফ্রেমের চাইতে একটু ছোট করে কেটে নিন তারের জাল। ফ্রেমের এক পাশে সেই জাল লাগিয়ে নিন টেপ দিয়ে। ২) কাগজের মন্ড তৈরি - কাগজ টুকরো করে ছিঁড়ে ব্লেন্ডারে দিন। হালকা গরম পানি দিয়ে ব্লেন্ডার চালিয়ে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত মোটামুটি মিহি একটা মণ্ড তৈরি নিয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন। - এরপর ইচ্ছে হলে দিতে ফুলের পাপড়ি, এসেন্স, সুতো, গ্লিটার ইত্যাদি দিয়ে আবারও একটু ব্লেন্ড করে নিন। - আপনার ছবির ফ্রেম যেন ডুবে যায় এমনভাবে বালতি ভর্তি করুন পানিতে। এর পর ব্লেন্ডারের জগ থেকে কাগজের মণ্ড ঢেলে দিন তাতে। দুই বা তিন জগ পরিমাণ মণ্ড যোগ করুন বালতির পানিতে। এরপর পানি আর মণ্ড ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পানিতে যোগ করতে পারেন দুই টেবিল চামচ স্টার্চ। ৩) মণ্ড থেকে কাগজ তৈরি - আপনার তৈরি করা ছবির ফ্রেমটা নিয়ে ছাঁকনির মতো করে মণ্ড তুলে নিন জালের ওপরে। এরপর ফ্রেমটাকে উল্টো করে একটুকরো ফ্লানেল কাপড়ের ওপর রাখুন ও সাবধানে কাগজের প্রলেপটাকে কাপড়ের ওপরে রেখে ফ্রেমটা তুলে নিন। অতিরিক্ত পানি স্পঞ্জ দিয়ে শুষে নিতে পারেন। - অনেকের জন্য কাপড়ের ওপরে কাগজের মণ্ড রাখার ব্যাপারটা কঠিন মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্রেমের ওপরে রেখে ফ্রেমের নিচে একটা টাওয়েল বিছিয়েই শুকিয়ে নিতে নিতে পারেন কাগজটির এপিঠ-ওপিঠ। দ্রুত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে ১০ মিনিটের মাঝে শুকিয়ে নিতে পারেন কাগজটিকে। ইচ্ছে করলে একে রোদে রেখেও শুকাতে পারেন তবে সময় লাগবে ২৪ ঘণ্টা বা আরেকটু বেশি।
ব্যাস তৈরি হয়ে গেলো আপনার নিজের হাতে তৈরি কাগজ! এখন একে ব্যবহার করতে পারেন যেভাবে খুশি। কাগজে নিজের পছন্দমতো ফ্লেভার আনার জন্য মণ্ড তৈরির সময়ে ব্যবহার করতে পারেন ভ্যানিলা এসেন্স, ল্যাভেন্ডার এসেন্স ইত্যাদি। পুদিনা পাতা শুকনো করে তার গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে, এতে সুন্দর ফোঁটা ফোঁটা নকশা হয় কাগজে এবং সুগন্ধও পাওয়া যায়। কাগজ যখন একটু শুকিয়ে আসছে তখন বইয়ের ভাঁজে শুকিয়ে রাখা সুন্দর পাতা বা ফুল কাজে লাগিয়ে সুন্দর করে তুলতে পারেন তাকে। কাগজের মণ্ড তৈরি করার সময়ে গোলাপের পাপড়ি দিলে তা শুকানোর সময়ে নিজে থেকেই চমৎকার সব নকশা তৈরি করবে। আর গাঁদাফুলের পাপড়ি দিলে রঙটা হবে একটু পুরনো ধরণের কাগজের মতো হলদেটে, যার সাবেকি ভাবটা অনেকেই পছন্দ করেন। এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন টুকরো করা রঙিন সুতো, গ্লিটার ইত্যাদি।