ছবি সংগৃহীত

বিচিত্র বর্ণের যত রক্ত!

Nibir
লেখক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৯:১২
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০৯:১২

রক্তের রঙ কী? জানতে চাইলে তার উত্তর একটা ছোট বাচ্চাও কোনো চিন্তা ভাবনা ছাড়াই দিতে পারবে। এক শব্দে বলবে, "লাল"। কিন্তু আসলেই কি তাই? আসলে আমাদের রক্তের রঙ কেমন হবে তা নির্ভর করে আমাদের বর্ণহীন প্লাজমা বা রক্তরসে ভাসমান কণিকাগুলোর রঙের উপর। মানুষের রক্তে অক্সিজেনবাহী লোহিত কণিকাগুলো লাল এবং এরাই সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে বলে এর রঙ লাল। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের শরীরে রক্তকণিকার রঙ অন্যরকম হলে আমাদের রক্তের রঙের অদল-বদল ঘটতো কি না! উত্তর হলো অবশ্যই ঘটতো, এবং প্রকৃতিতে এর উদাহরণও কম নয়। তেমন কয়েকটা প্রাণীর কথাই আজ বলছি-

১. তক্ষক/ গিরগিটিঃ

প্রায়ই সায়েন্স ফিকশন গল্প বা সিনেমাগুলোতে দেখান হয় যে ভীনগ্রহবাসীর রক্ত হয় প্যাঁচপ্যাঁচে সবুজ রঙের। ঠিক অতটা সবুজ না হলেও বেশ সবুজাভ রক্ত হয় কিছু প্রজাতির তক্ষক ও গিরগিটির। আমাদের অতি পরিচিত টিকটিকির এই ভ্রাতৃপ্রজাতির রক্তের এমন অদ্ভুত রঙের কারণ হলো পিত্তরঞ্জক কণিকার উপস্থিতি। এর উপস্থিতি শুধু তক্ষকের গায়ের রঙই বদলায় না বরং এই রক্ত একইসাথে এদের দেহের বর্জ্য ধারণ করে ও রক্তের বিষাক্ততা বাড়ায় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই বিষাক্ততা প্রাণীটির নিজের কোন ক্ষতি করে না; মরুভূমির অন্যান্য হিংস্র প্রাণী থেকে বাঁচতেই এর সাহায্য নেয় অনেক প্রজাতির মরু গিরগিটি।

২. গলদা চিংড়ি ও কাঁকড়াঃ

গলদা চিংড়ি, কাঁকড়া ও সমুদ্রে এদের কাছাকাছি যত প্রজাতির প্রাণী আছে তাদের প্রায় সবার রক্তের রঙ নীলচে সাদা। মানব শরীরে হিমগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন বন্ধন গঠন করে তৈরি করে অক্সি-হিমগ্লোবিন, যার রঙ লাল। কিন্তু এই সকল প্রানীর রক্তে যে কণিকাটি অক্সিজেন বহনের দায়িত্বে আছে তার নাম হিমোসায়ানিন- যা মূলত একটি কপার ভিত্তিক যৌগ। আর অক্সিজেন পরিবহনের সময় এই হিমোসায়ানিনই চিংড়িকে দেয় নীলচে সাদা রক্ত ! বেশ কিছু প্রজাতির অক্টোপাস ও স্কুইডে ঠিক একই কারণে নীলচে সাদা শেডের রক্ত দেখা যায়।

৩. গুবরে পোকাঃ

গুবরে পোকা বা এই জাতীয় সকল পোকা-মাকড়ের রক্তের রঙ হলো হলদেটে। আর ওদের রক্তের অক্সিজেন বহনকারী উপাদানটি, যার নাম হিমোলিম্ফ, তার জন্যই পোকাদের রক্ত অনেকটা হলদেটে। অবশ্য মানব রক্তের সাথে এর নালিকা, পরিবহন ব্যবস্থা ও উপাদানের এত অমিল যে, অনেক বিজ্ঞানীই একে রক্ত বলতে রাজি নন। কিন্তু যেহেতু হিমোলিম্ফ নামক এই তরল যোজক কলা অক্সিজেন পরিবহন ও বর্জ্য নিষ্কাশনের মত মৌলিক কাজগুলো করে, তাই অনেক বিজ্ঞানী আবার একে রক্তের স্বীকৃতি দিতে দ্বিধা করেননি।

৪. কেঁচো, শামুক ও অন্যান্যঃ

কেঁচো, শামুক, বিভিন্ন সামুদ্রিক লার্ভা ও কীটের রক্তের রঙ হয় লালচে সাদা। এদের রক্ত লাল হবার কারণ সেই হিমগ্লোবিন, যা কিনা মানুষের থাকে। তবে এদের সাথে মানুষের রক্তের পার্থক্য হলো- মানুষের হিমগ্লোবিন থাকে আলাদা করে লোহিত রক্ত কণিকায়, কিন্তু এসব প্রাণীর রক্তে হিমগ্লোবিন অনেকটা দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। আবার আর্থ্রোপোড জাতীয় প্রাণীদের রক্তের (হিমোলিম্ফ) সাথে এদের রক্তের কিছু সাদৃশ পাওয়া যায়। এইরকম আরও বিচিত্ররকম প্রাণী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমাদের খুব কাছেই। তাই রক্তের রঙ শুধুই লাল এমনটা বলার আগে একবার দেয়ালে ছুটন্ত টিকটিকি বা রান্নাঘরে উড়ন্ত তেলাপোকার কথা একবার করে অবশ্যই ভেবে- তারপর জবাব দেবেন।