ছবি সংগৃহীত

নবি-রাসুলকোষ : শব্দ-০২ : রাসুল

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৫:৪৭
আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ০৫:৪৭

রাসুল আরবি শব্দ (رسول)। আরবি ‘রিসালাতুন’ মূলধাতু থেকে নির্গত। বাংলা অর্থ “বার্তাবাহক”, বহুবচন রুসুল। পারিভাষিক অর্থে রাসুল হলেন অল্লাহ্ প্রেরিত স্বতন্ত্র কিতাব প্রাপ্ত বার্তাবাহী ব্যক্তিত্ব। রাসূল বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়, যারা আল্লাহর কাছ থেকে কিতাব-স্বতন্ত্র পুস্তক বা পৃথক শরিয়ত-বিধানাবলী প্রাপ্ত হয়েছেন। আবু উমামা থেকে বর্ণিত সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) বলেছেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবিগণের সংখ্যা কত? রাসুল (সা.) উত্তরে বললেন, তাঁদের (নবিদের) সংখ্যা এক লাখ চব্বিশ হাজার, তন্মধ্যে রাসুল ছিলেন ৩১৫ (মতান্তরে ৩১৩জন) জন। [আহমদ শরিফ, মিশকাত] একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, কিতাব বা সহিফা প্রাপ্ত রাসুলের সংখ্যা ৮ জন বাকি ৩০৫ জন রাসুলের প্রতি স্বতন্ত্র কোনো কিতাব নাজিল হয় নাই। রাসুল হচ্ছেন এমন প্রেরিত পুরুষ যিনি তার সম্প্রদায়ের কাছে নতুন শরিয়তের বার্তা প্রচার করেছেন। রাসুলের প্রচারিত শরিয়ত খোদ রাসুলের জন্য নতুন হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যেমন, তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল ও কোরান প্রভৃতি আসমানি কিতাবগুলি রাসুল ও সম্প্রদায় উভয়ের জন্যই নতুন ছিলো। পক্ষান্তরে হজরত ইসমাইল [আ.] প্রচারিত শরিয়ত তাঁর জন্য নতুন ছিলো না কিন্তু জুরহুম সম্প্রদায়ের জন্য নতুন ছিলো। কারণ জুরহুম সম্প্রদায়ের কাছে আগে কখনো ঐ শরিয়ত পৌছেনি। [মারেফুল কোরান, ৬ষ্ঠ খন্ড, পুষ্ঠা : ৪২] উল্লেখ্য হজরত ইসমাইল [আ.]-এর রাসুল হওয়ার বিষয়টি পবিত্র কোরান থেকে স্বীকৃত। পবিত্র কোরানে আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন, ‘স্মরণ করো, এই কিতাবে ইসমাইলের কথা; সে তো ছিলো প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং সে ছিলো রাসুল নবি’ [সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৫৪] যদিও সকল ‘রাসুল’ গণই ‘নবি’, কিন্তু সকল ‘নবি’ গণ ‘রাসুল’ নন। অর্থাৎ সকল রাসূলই নবি কিন্তু সকল নবি রাসূল ছিলেন না। যাঁর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাজিল হয়েছে, নতুন শরিয়ত প্রাপ্ত হয়েছেন যে সব নবিগণ; তাদেকেই রাসুল বলা হয় পক্ষান্তরে নবির জন্য কিতাব বা শরিয়ত শর্ত না। আল্লাহ্ মানবজাতির নিকট বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে পঁচিশ (মতান্তরে ছাব্বিশ জন) জনের নাম পবিত্র কোরানে উল্লেখ আছে। কোরানে উল্লেখিত ২৫ জন নবি-রাসুলদের মধ্যকার চার জনকে আমরা রাসুল হিসবে জানি এবং জানি তাঁদের কার উপরে কি কি আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছিলো। আর এই সূত্রটিই সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ এবং প্রচলিত। নাজিলকৃত আসমানি কিতাবের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে ১০৪। হজরত মুসা [আ.] -এর উপর তাওরাত, হজরত দাউদ [আ.]-এর উপর জাবুর, হজরত ইসা [আ.]-এর উপর ইঞ্জিল এবং হজরত মুহাম্মাদ (সা.) -এর উপর কোরান প্রধান প্রধান আসমানি কিতাব হিসেবে নাজিল হয়েছে। বাকি ১০০ খানা সহিফার মধ্যে ১০ খানা নাজিল হয়েছে হজরত আদম [আ.] -এর উপর। ৫০ খানা নাজিল হয়েছে হজরত শীছ [আ.] -এর উপর। ৩০ খানা নাজিল হয়েছে হজরত ইদরিস [আ.] -এর উপর এবং ১০ খানা নাজিল হয়েছে হজরত ইবরাহিম [আ.]-র উপর। [সিরাত বিশ্বকোষ, প্রথম খ-, পৃষ্ঠা : ১২৮] মাওলানা মিরাজ রহমান প্রধান নির্বাহী, নবি-রাসুল রিসার্চ ইন্সটিটিউট