ছবি সংগৃহীত

টবেই ফুটুক উজ্জ্বল সূর্যমুখী

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০১৩, ০৮:৪৩
আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০১৩, ০৮:৪৩

সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ এবং সুখী জীবনের প্রতীক সূর্যমুখী। পুষ্টিগুণ সম্পন্ন বীজ ও তেলের জন্যে বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে এর যেমন কদর বাড়ছে তেমনই টবে লাগানোর জন্যে এর খর্বাকৃতির প্রকরণগুলোও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ছোট আকৃতির এসব সূর্যমুখী বারান্দার একটি টবে লাগালে এর উজ্জ্বল রঙের বাহারে আপনার ঘর দেখাবে প্রানবন্ত, এর আকর্ষণে ছুটে আসবে নানান রঙের প্রজাপতি ও পাখি। আবার ফুল শুকিয়ে যাবার পর এর পুষ্টিকর বীজগুলো আপনি খেতেও পারবেন। প্রিয়জনকে উপহারও দিতে পারেন ব্যতিক্রমধর্মী এই ফুলটি। যে কোন মৌসুমেই এটি বপন করা যায় তবে অতিরিক্ত শীত এড়িয়ে চলাই ভালো। আসুন জেনে নেওয়া যাক আপনার ঘরের স্বল্প পরিসরে কি করে ফোটাবেন এই ফুল।

১) প্রথমেই সংগ্রহ করুন সূর্যমুখীর বীজ। বেশিরভাগ নার্সারিতেই এখন সূর্যমুখীর বীজ পাওয়া যায়। তবে কেনার আগে অবশ্যই প্রশ্ন করে নিশ্চিত হয়ে নেবেন এগুলো খর্বাকৃতির(Dwarf) জাত কি না। নয়ত ভুল জাতের বীজ লাগালে দেখা যাবে ওগুলো লম্বা হতে হতে আপনার মাথা ছাড়িয়ে গেছে। ২) সূর্যমুখী বীজ বপনের জন্য প্রয়োজনীয় আকার-আকৃতির টব কিনুন। আপনার বাড়িতে পুরনো টব থাকলে সেটাকেই ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। একটি ফুলগাছের জন্যে ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের টবই যথেষ্ট। ৩) টবের নিচের অংশে প্রথমে খোয়াজাতীয় পদার্থের একটি স্তর তৈরি করুন। এতে পানি নিষ্কাশনে সুবিধে হবে এবং জলাবদ্ধতায় মারা যাবে না আপনার সাধের ফুলগাছটি।
এরপর মাটি এবং কম্পোস্টের মিশ্রণ তৈরি করে ভরে দিন টবটিকে। টবের ওপরের এক ইঞ্চি পরিমাণ স্থান খালি রাখুন। পানি দিয়ে ভালোভাবে ভিজিয়ে দিন মাটিকে। ৪) একটি টবে ২টি বা তার বেশি বীজ বপন করুন। টবের আকার বড় হলে বীজের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। ৫) ৩ থেকে ৮ দিনের মাঝে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটবে। এ সময়ে টবে প্রতিদিন পানি দিতে ভুলবেন না যেন। অঙ্কুরোদ্গমের পরে দুর্বল চারাগুলোকে উঠিয়ে ফেলুন এবং একটি টবে একটি চারা রাখুন, যে চারাটি দেখতে সবচেয়ে সুস্থ সবল। ৬) পর্যাপ্ত সূর্যালোকে রাখুন আপনার সূর্যমুখীর টবটিকে। সূর্য ছাড়া একেবারেই দুর্বল হয়ে যায় এ গাছটি। তাই ঘরের ভেতরে একে বেশিদিন রাখবেন না। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘণ্টা রোদ লাগে এর। বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটু একটু করে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। প্রতিদিন অবশ্যই পানি দিতে হবে। যদি দেখেন মাটি ফেটে যাচ্ছে অথবা পাতা কুঁচকে আসছে তবে আবারও পানি দিতে পারেন।
৭) এক মাসের মধ্যেই দেখবেন ফুলের কুঁড়ি তৈরি হওয়া শুরু হয়ে গেছে। এ সময়ে ইচ্ছে করলে সার প্রয়োগ করতে পারেন। তবে এমন একটি সার বেছে নিন যাতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কম রয়েছে। এভাবেই একদিন দেখবেন আপনার টবে মাথা দোলাচ্ছে হাসিখুশি একটি সূর্যমুখী ফুল। তেমন একটা পোকামাকড় হয় না এতে বা হলেও তেমন কোন ক্ষতি করে না। সারা বছর বাড়িতে গ্রীষ্মের আমেজ নিয়ে আসতে এর তুলনা নেই।