ছবি সংগৃহীত
জোর করে কাউকে মুসলমান বানানোর ব্যাপারে ইসলাম কী বলে
আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০৬:০১
শান্তির ধর্ম ইসলাম। সম্প্রীতির ধর্ম ইসলাম। ইসলামে কোনো জবরদস্তি বা জোরাজুরি নেই। কোনো ব্যাপারে ইসলাম কাউকে জোর-জবরদস্তি করার কোনো নির্দেশ প্রদান করেনি। কেবল জবরদস্তিই নয়, কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘনকেও ইসলাম সমর্থন করে না। প্রত্যেকটি কাজের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমারেখা বাতিয়ে দিয়েছে ইসলাম। ইসলাম মানুষকে সুন্দর জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে সুন্দর নীতিমালা প্রদান করেছে। ইসলাম যে কাজটিকে যেভাবে করার নির্দেশ দিয়েছে, মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত ঠিক সেভাবেই কাজটি করা। মনগড়াভাবে কাজ করা কিংবা নিজস্ব নীতিমালার আলোকে জীবনযাপন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। আর ইসলামের এই দিকনিদের্শনা মেনে জীবনযাপন করার মাঝেই বান্দা হওয়ার সার্থকতা। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা প্রয়োজন, ইসলামে কোনো প্রকার কোনো জোরাজুরি নেই। কাউকে মুসলমান হওয়ার ব্যাপারে কিংবা ইসলামী দিকনির্দেশনা মানার ক্ষেত্রে জোরাজুরি করা যাবে না। মূল কথা হলো একজন মুসলমান হিসেবে ইসলামের বাতানো নীতিমালার বাইরে কিছুই করা যাবে না। ইসলামপ্রদত্ত নীতিমালার সীমানার মাঝে থেকে সব কিছু করতে হবে। আর ইসলামের নীতিমালাগত সীমানা হচ্ছে পবিত্র কোরান ও নবিজির [সা.] হাদিস বা সুন্নাত। আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হলেন হজরত মোহাম্মাদ [সা.]। মানবজীবনের এমন কোনো দিক বা বিষয় নেই, যে ব্যাপারে তিনি সুষ্ঠু কোনো সমাধান বা দিকনির্দেশনা প্রদান করেননি। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তিনিই সর্বোত্তম আদর্শ। প্রত্যেকটি মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের জীবন-মৃত্যু একটি চিরসত্য বিষয়। এই সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাই আমাদের সবার উচিত সময় থাকতে মৃত্যুর জন্য এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এই পৃথিবী আমাদের জন্য প্রস্তুতিঘর। আখেরাতের জীবনের জন্য এখান থেকেই প্রস্তুত হয়ে যেতে হবে আমাদের। কবরে যাওয়ার আগেই কবরের প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে। সারাজীবন যদি ইসলামহীন আদর্শে কাটে, কবরে দাফনের সময় কেবল আলা মিল্লাতে রাসুল বললেই সব মাফ হয়ে যাবে না। পারলৌকিক মুক্তির জন্য এবং রাসুলের সুপারিশ পাওয়ার জন্য সারাজীবন তাঁর আদর্শ মেনে চলতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবিজির [সা.] আদর্শ গ্রহণ করে জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন। মাওলানা মিরাজ রহমান