ছবি সংগৃহীত

জীবনে কতজন শয্যাসঙ্গী থাকা স্বাভাবিক?

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৫, ১৩:১৪
আপডেট: ০৬ জুন ২০১৫, ১৩:১৪

(প্রিয়.কম) যৌনজীবন প্রত্যেকেরেই একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়। তবুও প্রায়ই অনেকে এটা নিয়ে বিষন্ন থাকেন যে তাদের শয্যাসঙ্গী কতজন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কিংবা কোনো থেরাপি’র সময় অনেকেই এ ব্যাপারে লজ্জিত বোধ করেন যে তাদের জীবনে অন্যদের তুলনায় শয্যাসঙ্গী কম। অনেকেই তাদের জীবনসঙ্গীর সাঙ্গে এই ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। কারণ এতে তিনি অনভিজ্ঞ কিংবা খারাপ চরিত্রের বলেও গণ্য হতে পারেন। কিন্তু এর কি কোনো মানদণ্ড আছে যে ঠিক কতজন শয্যাসঙ্গী থাকা একজন মানুষের জীবনে থাকা স্বাভাবিক। অর্থাৎ কতজনের সঙ্গে সেক্স করলে ব্যাপারটি আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। এ ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। এবং স্বাভাবিকভাবেই এর ফলাফলেও রয়েছে ভিন্নতা। কোন তরকারিতে ঠিক কতটুকু লবণ দিতে হবে এর যেমন নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ নেই, একইভাবে জীবনে একজন শয্যাসঙ্গী থাকাই ভালো নাকি বেশি থাকাও স্বাভাবিক সে ব্যাপারেও কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। অনেকেই মজা করে বলে থাকেন একজন নারী তার জীবনের শয্যাসঙ্গীর ব্যাপারে যে সংখ্যার কথা বলেন সেটা তিন দিয়ে গুণ করলে প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যাবে। আবার একজন পুরুষ যে সংখ্যা দাবি করেন, তাকে তিন দিয়ে ভাগ করলে প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যাবে। কারণ স্বাভাবিকভা্বেই আমাদের সমাজে বেশি মেয়ের সঙ্গে সেক্স করা পুরুষকে স্মার্ট ও আধুনিক বলে ধরে নেয়া হয়, একই ভাবে বেশি পুরুষের সঙ্গে সেক্স করা নারীকে বলা হয় ‘বাজে মেয়ে’। দম্পতিরা যখন কাউন্সিলিং রুমে তাদের যৌনজীবন নিয়ে আলোচনা করেন, তখন এর দুটিই কারণ থাকতে পারে। তাদের যৌন সুস্থতা এবং আরেকটি হতে পারে সঙ্গীর ব্যাপারে নিরাপত্তাহীনতা। সেক্স থেরাপির সময় অনেককেই দেখা যায় যারা মনে করেন তারা সেক্স এর ব্যাপারে পারদর্শী নয় কারণ তারা বেশি মানুষের সঙ্গে সেক্স করেন নি। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণই ভুল। আপনার জীবনে শয্যাসঙ্গীর সংখ্যা বেশি থাকলেই যে আপনি আপনার সঙ্গীকে তৃপ্ত করতে পারবেন এ ধারণাটি ঠিক নয়। আপনি ৪০ বছর একই মানুষের সঙ্গে থেকেও আপনার যৌনজীবন উপভোগ করতে পারেন। এটি নির্ভর করে আপনার সঙ্গীর বা সঙ্গীনীর প্রতি আপনার ভালোবাসার উপর। তাহলে প্রশ্ন থাকতে পারে শয্যাসঙ্গীর গড় সংখ্যা কত হতে পারে। গাণিতিকভাবে এটার একটি সংখ্যা অবশ্যই এটা আছে। কিন্তু এটি পরিবেশ, সমাজ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হবে। ২০১০ সালের ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানের মতে পরুষদের জন্য এ সংখ্যা ৯.৩ এবং নারীদের জন্য ৪.৭। আবার ২০১৩ সালে ন্যাশনাল সার্ভে অফ সেক্সুয়াল এটিটিউড এন্ড লাইফস্টাইলস এর মতে পুরুষদের জন্য এ সংখ্যা ১১.৭ এবং নারীদের ৭.৭। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ‘দ্য ওয়ে উই আর’ এর একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয় ৩১ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ শতাংশ নারী তাদের জীবনে ১০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে সেক্স করেছেন। ৩৫-৪৪ বছরের নারী-পুরুষের উপর এ গবেষণা চালানো হয়। ৬৫ এর বেশি বয়সী মাত্র ৯ শতাংশ মানুষই বলেছেন তারা ২০ জনের বেশি সঙ্গীর সঙ্গে সেক্স করেছেন। অর্থাৎ সময়ে ভেদে এ সংখ্যা পরিবর্তন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সময়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ কিছুদিন আগেও হোটেলগুলো বিবাহিত দম্পতি ছাড়া রুম ভাড়া দিতে চাইতো না, বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক ছিলো খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বর্তমান সময়েও এটি নিষিদ্ধ হলেও আগের চেয়ে অবস্থা অনেকটাই শিথিল । হোটেলগুলোও এখন অবিবাহিত যুগলদের ভাড়া দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন বিয়ের আগে ‘লিভ টুগেদার’ করাও আইনত অনুমতি রয়েছে তবে সংস্কৃতিভেদে এই বৈষম্য থাকলেও ৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন তারা জীবনে কখনই যৌন সম্পর্কে জড়ান নি। ১৭ শতাংশের মানুষ জানায় তাদের জীবনে একজনই শয্যাসঙ্গী ছিলো। তবে ২০ জনের বেশি শয্যাসঙ্গী ছিলো এমন পুরুষের সংখ্যা ১৬ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ৮ শতাংশ। তাই শয্যাসঙ্গীর সংখ্যার ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট গড় বা স্বাভাবিক সংখ্যা নেই। যা একজনের কাছে স্বাভাবিক বা কম, আরেকজনের কাছে সে সংখ্যা অনেক বেশি। তাই আপনার জীবনের শয্যাসঙ্গীর সংখ্যা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটি নিয়ে হতাশা কিংবা উচ্ছাস প্রকাশের কিছু নেই। এটি কোনো প্রতিযোগিতা বা খেলা নয়। বন্ধু কিংবা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে তুলনারও বিষয় নয়। সংখ্যা যা’ই হোক না কেন, আপনি আপনার জীবন নিয়ে সুখী কিনা এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।