ছবি সংগৃহীত

জানা অজানার কুমির!

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ০৬:০৯
আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ০৬:০৯

কুমির - জলের এই প্রাণীটির মতো ভয়ানক প্রাণী খুব কমই আছে! কুমির আসলে বৃহদাকার এক ধরনের জলজ সরীসৃপ। আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকাগুলোতে কুমিরের দেখা মেলে। কুমির সাধারণত মিঠাপানির হ্রদ, জলাভূমি, নদীতে বাস করে। তবে কিছু কিছু প্রজাতির কুমির লোনা পানিতেও বাস করে। ডাইনোসরদের সময় থেকেই পৃথিবীতে কুমির প্রজাতির বিচরণ রয়েছে। তবে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কুমির টিকে আছে বহাল তবিয়তে! সারা বিশ্বে ২৩টি প্রজাতির কুমির রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্রোকোডাইল, ক্যাইম্যান ও গাভিয়ালিডে। ক্রোকোডিলিয়া বর্গের অন্তর্গত সব প্রাণীকে সাধারণভাবে কুমির নামে ডাকা হয়। বাংলা কুমির শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'কুম্ভীর' থেকে। 'কুম্ভ' শব্দের অর্থ ঘড়িয়ালের নাকের ডগার ঘড়ার মতো অংশটা। সে অর্থে 'কুম্ভীর' মানে হলো ঘড়িয়াল। ভারতে কুমিরকে ডাকা হয় 'মাগারমাছ' নামে।

কুমিরের ইংরেজি নাম 'অ্যালিগেটর'। এই শব্দটি ইংরেজি ভাষায় এসেছে স্পেনীয় অভিযাত্রীদের কাছ থেকে। ওরা কুমিরকে 'এল লাগারতো' বলে ডাকত, যার অর্থ হলো 'গিরগিটি'! অ্যালিগেটর সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে এবং দক্ষিণ আমেরিকায়। কুমির প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হয় ক্রোকোডাইলরা। এরা লম্বায় ২০ ফুট পর্যন্ত হয়। কুমির প্রজাতির প্রাণীদের মধ্য আরেকটি হলো 'ক্যাইমান'। কুমিরের মতো দেখতে এই প্রাণীটাকে পাওয়া যায় মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায়। একটা কুমির গড়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা হয় আর ওজন হয় ৪৪০ পাউন্ডের মতো। তবে কোনো কোনো কুমির দৈর্ঘ্যে ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রগৈতিহাসিক যুগে কিছু কিছু প্রজাতির কুমির ৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতো! এমনিতে কুমিরের ৮০টার মতো দাঁত থাকে, কিন্তু এদের সবসময় নতুন দাঁত গজাতেই থাকে আর পুরোনো দাঁতগুলো খসে পড়ে যায়! সারাজীবনে একটা কুমিরের প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি দাঁত গজায়! হরেক রকম পাখি, পোকামাকড়, স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই কুমিরের আসল খাবার। তবে কুমির নাগালের মধ্যে যা পায় তা-ই খায়! কুমিরেরা তাদের শিকারকে ছিন্নভিন্ন করে না, চিবিয়েই গিলে খায়। বন্য পরিবেশে কুমির ৪০ থেকে ৫০ বছর বাঁচে। অথচ বন্দি অবস্থায় বাঁচে ৮০ বছরেরও বেশি!
কুমির বেশ ভয়ানক প্রাণী হলেও এর চাহিদা কিন্তু প্রচুর! এর চামড়া তো বটেই দাঁত, হাড়, মাংস সবকিছুরই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কুমিরের দাঁত দিয়ে দামি অলংকার তৈরি হয়। এর হাড় পারফিউম তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। কুমিরের চামড়া খুবই দামি, বিশেষ করে পেটের চামড়া। কুমিরের চামড়া দিয়ে জুতা, ব্যাগ, কোট, বেল্ট, পার্স, মানিব্যাগ ইত্যাদি তৈরি করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে কুমিরের মাংস উপাদেয় খাবার হিসেবে খাওয়া হয়। সারা বিশ্বে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের কুমিরের মাংসের বাজার রয়েছে! বাংলাদেশেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কুমিরের খামার! ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কুমির চাষের প্রকল্প শুরু করা হয়। ২০০৪ সালে 'রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড' এই খামারটি প্রতিষ্ঠা করে। শুরুর দিকে খামারে কুমিরের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৫টি। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১ হাজার ২৫০টি কুমির রয়েছে। এখানে মূলত লোনাপানির কুমির চাষ করা হয়। বিদেশি মুদ্রা আয়ের উপায় হিসেবে কুমির চাষ একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। ২০১০ সালে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড জামার্নিতে ৬৭টি কুমির রপ্তানি করে ৭০ লাখ টাকায়! তারপর আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে আরো কয়েকটি কুমিরের খামার গড়ে উঠছে।