ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর ভূমি অফিস ঘুষ দুর্নীতির খোলাবাজার (যুগান্তর)

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৪, ০৩:৩৯
আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৪, ০৩:৩৯

ঘুষ-দুর্নীতির হাট বসেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভূমি অফিসগুলোয়। কোনো রাখঢাক ছাড়া প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ লেনদেন। এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। নড়ে না ফাইল। টানা দুদিন নগরীর কয়েকটি ভূমি অফিসে সরেজমিন অবস্থান করে দেখা গেছে, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ চিত্র। সব ভূমি অফিস দালাল পরিবেষ্টিত। তাদের কাছে কোনো কাজই অসাধ্য নয়। জমির বৈধ মালিক যেই হোক, চাহিদামতো টাকা এবং দাগ খতিয়ান নম্বর দিলেই তা হয়ে যায় অন্যের। আবার বৈধ কোনো কাজে গিয়েও প্রকৃত ভূমি মালিকদের হতে হয় হয়রানির শিকার। নামজারির জন্য যেখানে সরকার নির্ধারিত ফি ২৫০ টাকা, সেখানে ১৫ হাজার টাকার নিচে কোনো কাজে হাতই দেয় না কেউ। প্রত্যেকটা ভূমি অফিসে দালালের উৎপাতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। দালাল-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে গড়ে তুলেছে বিরাট সিন্ডিকেট। কোনো লুকোচুরি নেই, কোনো লাজলজ্জা, ভয়ভীতির বালাই নেই। এমনভাবে ঘুষের দরদাম করা হয় যেন এ তাদের ন্যায্য পাওনা। ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ৩ মার্চ নগরীর একাধিক ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করে ঘুষের হাটের ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাসান। ঘুষখোর ১ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত এবং ২ জনকে শোকজ ও শাস্তিমূলক বদলি করেন। কিন্তু তারপরও অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনিয়ম-দুর্র্নীতির ব্যাপারে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন্ত্রী কঠোরভাবে সতর্ক করলেও নগরীর তিন সার্কেলের অধীনে থাকা ৯ ভূমি অফিসের কোনোটিরই চিত্র পাল্টায়নি। যথারীতি আগের মতোই চলছে ঘুষের মহোৎসব। ষোলশহর ভূমি অফিস : পাঁচতলা অফিস কমপ্লেক্সের নিচতলায় বসেন তহশিলদার নিজাম উদ্দিন আহমদ, দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার মোকছেদুর রহমান, তৃতীয় তলায় আগ্রাবাদ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হাশেম এবং ৪র্থ তলায় চান্দগাঁও সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রেজাউর রহমান। পঞ্চম তলায় রেকর্ড রুম। ২ মার্চ রোববার সকাল ১০টা। দ্বিতীয় তলা ছাড়া প্রতি তলাতেই গিজগিজ করছে লোকজন। পাঠানপাড়া থেকে আসা জাকির হোসেন গোমড়া মুখে এ কক্ষ থেকে ও কক্ষে ঘুরছিলেন। কাকুতি-মিনতি করছিলেন তার কাজ করে দেয়ার জন্য। তিনি জানান, তার ৯ শতক জমি অন্য এক লোক নিজের নামে নামজারি করে ফেলেছে। তিনি নারাজি দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্টের জন্য দাবি মতো ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তবুও কাজ না করে চার মাস ধরে ঘোরাচ্ছে। অপরপক্ষ দেড় লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পক্ষে কাজ করছে। বিবিরহাট থেকে আসা আবদুল মালেক জানান, তার চাচা চান্দগাঁও এলাকায় ১৬ শতক জমি কিনেছেন। বছরে খাজনা আসে ২ হাজার টাকা। কিন্তু ভূমি অফিসের লোকজন দাবি করছে ওই দাগে যে কয়েকশ’ শতক জমি আছে সেসব জমিও হিসেবে ধরে প্রায় লাখ টাকা খাজনা দিতে হবে। দেন-দরবারের পর এখন বলছে সব ম্যানেজ করবে কিন্তু ৩০ হাজার টাকা লাগবে। ভূমি অফিসের বাইরে ঘুর ঘুর করছিলেন ফোরকান নামে এক দালাল। পরিচয় গোপন করে শুল্কবহরের একটি বিরোধপূর্ণ জমি নিজের নামে করা যাবে কিনা জানতে চাইলে সে জানায়, এটা কোনো ব্যাপার নয়। জমি যারই হোক, দলিল সঠিক হোক বা ভুয়া হোক, যে কারও নামে করে দেবে সে। টাকা লাগবে জমির ধরন বুঝে। উদাহরণ দিয়ে সে জানায়, মুরাদপুরে এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানার পাশে হাঁচি কলোনিতে এভাবেই সে সাতকানিয়ার এওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদুল হকের নামে নামজারি করে দিয়েছিল। ষোলশহরে ২০-২৫ দালাল সক্রিয় রয়েছে। ভূমি অফিসের ঠিক বিপরীত পাশে রাস্তার ওপারে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় ফ্যামিলি ফেয়ার অ্যান্ড ফাস্টফুড এবং আলভি ফুড সেন্টার নামে দুটি চা নাস্তার দোকানে দালালদের জটলা। জমিজমা সংক্রান্ত কাজে আসা লোকজনকে দালালরা ধরে এখানে নিয়ে আসে। চা নাস্তার ফাঁকে চলে লেনদেন। ভূমি অফ���সের ভেতরেও একটি চা দোকান রয়েছে। দোকানটি অবৈধভাবে বসিয়েছেন মুহুরি। সেখানেও দালাল এবং লোকজনের জমজমাট আড্ডা। লেনদেনও চলে। চা দোকানে বসা কিশোর সুমনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, জমির একটা কাজ করতে হবে। কাকে দিয়ে করালে ভালো হয়। সুমন জানায়, টাকা দিলে জসিম এবং দিদার নামে দুই দালাল সব কাজ করে দেবে। তাদের সঙ্গে এসি ল্যান্ড, তহশিলদারসহ সব স্যারের ভালো সম্পর্ক। এছাড়া ভূমি অফিসের এমএলএসএস লিয়াকতও এসব কাজ করে। ষাটোর্ধ্ব আবদুল মান্নান ও নজরুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসের দেয়ালও ঘুষ খায়। তহশিলদার ও কর্মচারীরা দিনে কয় লাখ টাকা যে ঘুষ নেয় আল্লাহ জানে। উপরের কর্মকর্তাদের কাছেও এর ভাগ যায়। নামজারি করাতে গেলে সরকার নির্ধারিত ফি ২৫০ টাকা। ষোলশহর ভূমি অফিসে দুদিন অবস্থান করে নামজারি করতে আসা প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সর্বনিু ১৫ হাজার টাকা এবং অনেকে এর চেয়েও বেশি দিয়েছেন। আরও বেশি হয়রানির ভয়ে এরা নাম প্রকাশে রাজি হননি। প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন এবং হয়রানি প্রসঙ্গে ষোলশহর ভূমি অফিসের তহশিলদার নিজাম উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি যোগ দেয়ার পর থেকে পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে। দালাল অনেক কমেছে। এর বাইরে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি এসি ল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউর রহমান জানান, কিছুদিন আগে ৪ দালালকে বের করে দিয়েছি। আবেদনকারী সরাসরি না আসলে কথা বলি না। আগে এক ডেটে ৪টির বেশি শুনানি হতো না, এখন ৬৭টি পর্যন্ত শুনানি করি। নতুন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান ভালো ফল দিচ্ছে। এখন কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সমস্যা হল জমি মালিকরা নিজেরা না এসে মুন্সিকে পাঠায়, মুন্সি গিয়ে তাকে বলে ২ লাখ টাকা লাগবে। আবার বাইরে দালালদের খপ্পরে পড়ছে অনেকে। ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আকস্মিক অভিযানের পর গিয়ে দেখা যায়, পরিস্থিতি আগের মতোই। যথারীতি ঘুষ লেনদেন চলছে। প্রতিমন্ত্রী নেমে যাওয়ার আধা ঘণ্টা না পেরুতেই তৃতীয় তলায় ছদ্মবেশে অবস্থান করে দেখা যায়, এমএলএসএস আজম গণহারে ঘুষ নিচ্ছেন। দুপুর সোয়া ১২টায় হালিশহর মৌজার ৩৮০৩নং খতিয়ানের দাগ সংশোধনের জন্য গোলজার বেগমের আবেদনের ফাইল প্রসেস করা বাবদ তিনি ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ভূমি অফিসে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১১টি ভূমি অফিস। এসব অফিসে পোস্টিং পেতে একজন তহশিলদারকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। পোস্টিং পেয়ে তারা সেই টাকা দু-তিন মাসের মধ্যে তুলে ফেলেন। দেখা যায়, নগরীতে কর্মরত তহশিলদাররা ঘুরেফিরে নগরীতেই থেকে যান। উপজেলায় বদলি ঠেকিয়ে দেন। বাকলিয়া ভূমি অফিস : ২ মার্চ রোববার সকাল ১০টা ২৩ মিনিট। সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশ তার চেয়ারে বসে আছেন। তার আশপাশে কর্মচারীরা টাকার লেনদেন আর দরকষাকষিতে ব্যস্ত। টাকা দিলে হয় না এমন কাজ নেই। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা লোকজনের সঙ্গে উত্তম দরকষাকষি করছিলেন। সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে সাতকানিয়া থেকে আসা আবু তাহেরের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিতে দেখা যায়। পরে আবু তাহের যুগান্তরকে জানান, তার ১০ শতক জমি নামজারি করার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন উত্তম কুমার দাশ। কিন্তু পরে দরকষাকষি করে একটু কমানো হয়। বেলা ১১টা ১৭ মিনিট। খয়েরি রঙের শার্ট পরা এক লোকের (নাম বলতে রাজি হননি) প্রবেশ। একটি মিস মামলার তদবির করতে এসেছেন তিনি। বললেন, ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে তার পক্ষে উত্তম কুমার মিস মামলার রিপোর্ট দেয়ার জন্য রাজি হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর লোকটি উত্তম কুমারকে ঘুষ হিসেবে তিনটি ১০০০ টাকার নোট দেন। বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে দালাল সামশুর প্রবেশ করলেন রুমে। আলমারির কয়েকটি বালাম বই ঘাঁটাঘাঁটি করে উত্তম কুমারকে একটি ১ হাজার নোট দিল সামশু। এরপর ১১টা ৫১ মিনিটে উত্তম কুমারকে তার ডেস্ক থেকে তিনটি টাকার বান্ডিল (১টি ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল ও দুটি ৫শ’ টাকার নোটের বান্ডিল) বের করে গুনতে দেখা যায়। ভূমি সংক্রান্ত কাজে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভূমি অফিসটিতে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। টাকা না দিলে নানা অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ লোকজনকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করা হয়। সরকারি নিয়োগকৃত কর্মচারীর চেয়ে বাইরের দালালের সংখ্যা বেশি। এসব দালালরা সরকারি বালামে ভুল ও মিথ্যা তথ্য সংযোজন করে। এ অফিসের ভেতরে অবস্থান করে দেখা যায়, প্রতিটি ডেস্কে রয়েছে টাকার হিসাব করার জন্য ক্যালকুলেটর। প্রত্যেক কর্মচারী ঘুষ লেনদেন করতে দেখা যায়। অত্র ভূমি অফিসের কর্মচারী জাহেদ, খোরশেদ ও আবদুল্লাহ আল হারুনসহ আরও কয়েকজন ঘুষের লেনদেন করতে দেখা গেছে। কর্মচারী জাহেদকে পুরো তিন ঘণ্টাই ঘুষ লেনদেন করতে দেখা যায়। একটি সূত্র জানায়, এখানকার তহশিলদার প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকার বেশি ঘুষের লেনদেন করে থাকে। এ টাকার ভাগ যায় উচ্চ পর্যায়েও। তিন ঘণ্টা সরেজমিন ঘুষের বাজার প্রত্যক্ষ করার পর যুগান্তর প্রতিবেদক বাকলিয়া ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাশের কাছে গিয়ে পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘ভূমি অফিসে একটু এ রকম লেনদেন হয়ে থাকে।’ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এভাবে ঘুষ লেনদেন কতটুকু যৌক্তিক জানতে চাইলে তিনি এসব নিয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আগ্রাবাদ ভূমি অফিস : ৩ মার্চ সোমবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিট। সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এম জয়নাল আবেদিন অফিসে আসেননি। কর্মচারী আনিস, মিনহাজ, কম্পিউটার ম্যান সুমন, তৌহিদ, আরিফ, রানা, আলমগীর ও সেলিম নিজ নিজ চেয়ারে বসে আছেন। প্রত্যেকের চেয়ারের সামনে ৩/৪ জন বসে আছেন। ভূমি সংক্রান্ত কাজে আসা প্রত্যেক লোকের হাতে ঘুষের টাকা। সবাই বিভিন্ন সমস্যার দেন-দরবার নিয়ে ব্যস্ত। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রধান সহকারী সেলিমের ফোনে একটি কল আসে। তিনি স্যার স্যার করে কথা বলতে থাকেন। কথা শেষ করে সবাইকে জানান আজ মন্ত্রী আসতে পারেন, বড় মিয়া (তহশিলদার) ফোন করেছিল। এরপর সবাই কিছুটা সতর্ক হয়ে যায়। শুরু হয় ফাইল গোছানোর কাজ। প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান : ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ৩ মার্চ সোমবার সকালে আকস্মিক অভিযানে যান ষোলশহর ভূমি অফিসে। তাকে গাড়ি থেকে নামতে দেখেই দালালরা ভোঁ দৌড় দিয়ে পালাতে থাকে। প্রতিমন্ত্রী একজনকে জাপটে ধরে ফেলেন। তবে দুর্ভাগ্য, জানা গেল সে ঝাড়–দার। এরপর প্রতিমন্ত্রী প্রত্যেক কক্ষে যান। ফাইল পরীক্ষা করেন। ভুক্তভোগী লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা প্রতিমন্ত্রীকে অকপটে জানান, লাখ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন, ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি হয়রানির কথা। এরপর প্রতিমন্ত্রী জাবেদ যান কাট্টলী ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে দেখেন আরও ভয়াবহ অবস্থা। অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ ও মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শফিক উদ্দিনকে বরখাস্ত করেন। একই অভিযোগে তহশিলদার আক্কাস আলী এবং উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এবিএম মাসুদকে শোকজ ও শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দেন। পরে প্রতিমন্ত্রী নগরীর চট্টেশ্বরী রোডে সদর সার্কেল ভূমি অফিসে গিয়েও সবাইকে সতর্ক করে দেন। ৯ ভূমি অফিসে পাল্টায়নি চিত্র : ষোলশহর, বাকলিয়া, সদরঘাট ছাড়াও নগরীতে ভূমি অফিস আছে আরও ৬টি। এগুলো হল নন্দনকানন, কাট্টলী, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও এবং চট্টেশ্বরী রোডে সদর ভূমি অফিস। গত এক সপ্তাহে প্রতিটি ভূমি অফিস সরেজমিন পরিদর্শনকালে কোথাও ভিন্ন চিত্র দেখা যায়নি। সব কটি অফিসেই চলছে ঘুষের প্রকাশ্য কারবার। দালাল এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপটে অসহায় সাধারণ মানুষ।