ছবিটি রূপক, Photo Source: www.parentmap.com
(প্রিয়.কম)- সুস্থ জীবনের জন্য জেনে রাখা জরুরী এমন একটি বিষয় হলো যৌনরোগ। অনেকেই বিরক্ত হয়ে ভাববেন, আমি জেনে কী করবো? আমার তো কখনো এমন রোগ হবেইনা! বাস্তবতা কিন্তু অনেক কঠিন। আর তাই এসব রোগ সম্পর্কে জেনে রাখাটাও ভীষণ জরুরী। এ ব্যাপারে প্রিয়.কমকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন ময়মসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার লুৎফুন্নাহার নিবিড়।
প্রথমেই জেনে রাখা প্রয়োজন স্ক্যাবিস ঠিক যৌনরোগ নয়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌনাঙ্গের আশেপাশে অনেক সময়েই এর লক্ষণ দেখা যায় বলে একে যৌন রোগের কাতারে ফেলা হয়। এছাড়াও ত্বকের সংস্পর্শ থেকে ছড়ায় বলে শারীরিক সম্পর্কের সময়েও সহজে এটি ছড়াতে পারে। অনেকেই এ কারণে লজ্জাবোধ করেন ও ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। বাংলাদেশে স্ক্যাবিস রোগী প্রচুর দেখা যায়, বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে। ছোট এক ধরণের মাকড় বা “মাইট” ত্বকের নিচে ঢুকে পড়লে এর প্রতিক্রিয়ায় শরীরে অ্যালার্জি দেখা দেয়, যা থেকে হয় স্ক্যাবিস। বর্ষাকালে স্ক্যাবিস বেশি হয়।
কী করে বোঝা যাবে স্ক্যাবিস হয়েছে?
- মূলত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে র্যাশ, ছোট ছোট ফুসকুড়িদেখা যায় ও ভীষণ চুলকানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে আঙ্গুলের ফাঁকে, হাতে এবং যৌনাঙ্গে র্যাশ হয়ে থাকে।
- রোগ সৃষ্টিকারী মাইটগুলো ত্বকের নিচ দিয়ে হাঁটতে থাকলে লম্বা লম্বা আঁচড়ের মতো র্যাশের দাগ দেখা যেতে পারে।
- চুলকানি শুরু হবার পর চিকিৎসা না নিলে এই রোগ ছড়াতে থাকবে। অনেকেই চুলকাতে গিয়ে ত্বক ছিলে ফেলেন, ফলে সেই ক্ষতের মাঝে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দেখা দেয় ও রোগের জটিলতা বাড়ে।
- বেশিদিন চিকিৎসা না করে থাকলে ক্ষতে পচন ধরে যাবার আশংকা থাকে।
- ছোট বাচ্চাদের এবং বৃদ্ধদের চুলকানি বেশি হয়।
- বাচ্চাদের মাথা, ঘাড় এবং মুখেও র্যাশ দেখা দিতে পারে।
ডাক্তার নিবিড় প্রিয়.কমকে বলেন, স্ক্যাবিসের নিরাময়ে চিকিৎসা যতো দ্রুত নেওয়া যায় তত ভালো। চিকিৎসা ছাড়া আরোগ্য হওয়া সম্ভব নয়। স্ক্যাবিসের র্যাশ যতো সম্ভব না চুলকানোই ভালো। সাধারণ র্যাশ থাকা অবস্থায় চিকিৎসা বেশ সহজ। এ সময়ে বেনজল বেনজয়েড নামক একটি লোশন দেওয়া হয়। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।
স্ক্যাবিস এড়ানোর উপায় কী?
স্ক্যাবিস খুব সহজে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বক এমনকি পোশাকের মাধ্যমে এই রোগ সৃষ্টিকারী মাইট ছড়াতে পারে। কারও এই রোগ হয়েছে তা ধারণা করলে অন্যদের স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তার পোশাক অন্য কেউ যেন না পরে এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা জরুরী। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তার পোশাক এবং বিছানাপত্র গরম পানিতে সিদ্ধ করে, ধুয়ে কড়া রৌদ্রে শুকিয়ে তারপরেই ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চাদের থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা জরুরী, কারণ বাচ্চারা এই রোগে খুব কষ্ট পায়। স্ক্যাবিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্কের ফলে খুব সহজে ছড়ায়, তাই জীবনসঙ্গী ব্যতীত অন্য কারও সাথে অন্তরঙ্গ না হওয়াটাই ভালো। অনেক সময়ে পরিবারের একজনের হলে প্রায় সবারই হয় তাই যথাযথ চিকিৎসা করাটা জরুরী।