ছবি সংগৃহীত

কেঁচো যখন বনভূমি ধ্বংসের কারণ!

প্রিয় লাইফ
লেখক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ০৮:২৮
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ০৮:২৮

সাধারণভাবে যারা বাগান করেন কিংবা কৃষিকাজ করেন তাদের জন্য কেঁচো খুবই উপকারী একটি প্রাণী। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এরা খুবই গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু গ্রেট হ্রদ বা লেকের কাছেই অবস্থিত বনের কেঁচোগুলো ভয়াবহ। আর তাই এদেরকে নাম দেয়া হয়েছে ‘এলিয়েন ইনভেডার’ কিংবা ভিন্ন গ্রহের আক্রমণকারী! উত্তর আমেরিকার উত্তর দিকের বনাঞ্চলগুলোতে এক সময়ে কেঁচোর অস্তিত্ব ছিল না। কারণ বরফ যুগের তীব্র তুষারপাত এই অঞ্চলের মাটিকে কেঁচো-মুক্ত রেখেছিল। কিন্তু যখনই ইউরোপ থেকে দলে দলে মানুষ এসে আমেরিকাতে বসতি স্থাপন শুরু করলো, তখন তাদের সাথে ১৫ প্রজাতির কেঁচোরও আগমন ঘটলো আমেরিকার মিনেসোটাতে। আর সেগুলোরই কিছু মারাত্মক প্রজাতি স্থানীয় বনের অনেক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। গবেষকরা এরকমটাই মনে করছেন।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও soil biogeochemist কিট রেজনার বলেন, যখন থেকে এই ১৫ প্রজাতির কেঁচো ছড়িয়ে পড়েছে, তখন থেকে বনের গাছগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। কেঁচোগুলো বনের মাটির সেই স্তর খেয়ে ফেলে, যাতে স্যালামান্ডার ও ওভেনবার্ড বসবাস করে। গত ২৭ অক্টোবর Geological Society of America-র বার্ষিক সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। রেজনার বলেন, গ্রেট লেকের কাছেই অবস্থিত সুগার ম্যাপল গাছের বনের মাটিতে থাকা কেঁচোগুলো মাটিকে ঝুরঝুরে করার পরিবর্তে অনেক শক্ত করে ফেলে। সবার ধারণা, বনের সর্বত্র মাটির গঠন একই রকম। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। কৃষিকাজের জন্য যে মাটি ব্যবহার করা হয়, সেখানে মাটি শক্ত হয়ে গেলে কেঁচো সেই মাটিকে খুঁড়ে বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেয় ও মাটি নরম হয়ে যায়। কিন্তু বনের মাটির গঠন পুরোপুরিই ভিন্ন। আর এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেঁচোগুলো মাটি নরম করার পরিবর্তে আরো শক্ত করে দিচ্ছে।
কেঁচোর এই কাজের ফলে মাটির ভেতরে পানি প্রবেশ করতে পারে না। মাটির উপরের স্তর শুকিয়ে যায়। এছাড়া কেঁচোগুলো মাটিতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে মাটির রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত করে দেয়। এর ফলে বড় বড় গাছগুলোর মাঝামাঝি স্থানে জন্মানো ছোট ছোট ফার্ন জাতীয় গাছ ও বন্যফুল গাছগুলো হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়া অনেক ছোট ছোট প্রাণীর বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যায়।