ছবি সংগৃহীত

কলাবাগানের ঐতিহ্যবাহী মামা হালিম

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৩, ১০:১৫
আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৩, ১০:১৫

আজ থেকে শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। সিয়াম সাধনার এই মাস নিজেকে সকল নেতিবাচক বিষয় থেকে নিজেতে বিরত রাখার শিক্ষা দেয় আমাদের। রোজা মূলত উত্‍সর্গমূলক হলেও ঈদের আনন্দের ছোঁয়া থাকে পুরো রোজার মাস জুড়েই। সেই আনন্দের রেশ থাকে ইফতারের টেবিলেও। নানান মুখরোচক খাবার তৈরি হয় ঘরে ঘরে এই সময়ে। শুধু কি ঘরের খাবার! ইফতার হিসেবে দোকানের খাবারও সমান প্রাধান্য পায়। আর খাবারটা যদি হয় বিখ্যাত কোনো কিছু তাহলে তো কথাই নেই! ঐতিহ্যবাহী মামা হালিম ছাড়া ঢাকাবাসীর ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শুধু ইফতারে নয়, কলাবাগানের মামা হালিমের কদর থাকে সারা বছর জুড়েই।

কুমিল্লা জেলার লাকসামের দিল মোহাম্মদ মনু এই বিখ্যাত খাবারটি প্রচলন করেন। স্বাধীনতার আগে মোহাম্মদপুরের বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পাশে এক বিহারির হোটেলে কাজ করতেন তিনি। এই হোটেলে তাঁর ওস্তাদ কালা,ধলার কাছেই তিনি শিখেছেন সুস্বাদু হালিম তৈরির কলাকৌশল। প্রায় ২৫ বছর আগে দিল মোহাম্মদ মনু ঢাকায় এসে কলাবাগানে হালিম বিক্রি শুরু করেন। খুব অল্প দিনের মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁর হালিম। সে সময় দোকানে জায়গা না পেয়ে বাইরে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়ে হালিম খেত। ব্যবসার সুবাদে মনু মামা নামেই সবার কাছে পরিচিত। এবং এ কারণেই তাঁর দোকানের হালিম মামা হালিম নাম পায়। সম্প্রতি উন্নয়ন কাজের জন্য কলাবাগানের মামা হালিমের দোকানটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। তবুও থেমে নেই এর বিক্রি! দোকানের বাইরে চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ পেতে বসতে দেয়া হচ্ছে ক্রেতাদের। রয়েছে পার্সেলের ব্যবস্থাও। মামা হালিম তৈরির মূল উপাদান হলো বিভিন্ন রকমের ডাল, গম ও মাংস। গরু, খাসি ও মুরগি তিন ধরনের মাংসের হালিম পাওয়া যায় এখানে। সঙ্গে ব্যবহার করা হয় নানা রকম মসলা। হালিমে ডাল-মসলার সঠিক অনুপাতই এর মজাদার স্বাদের মূল রহস্য। তবে হালিমের রেসিপি কোনোভাবেই প্রকাশ করতে রাজি নন মনু মামা। হালিমের স্বাদ বাড়াতে এর ওপর দেয়া হয় সালাদ, টক ও ভাজা পেঁয়াজ।
রাজধানীর কলাবাগান ছাড়াও ধানমন্ডি ৪ নম্বরে রয়েছে তাঁদের আরো একটি শাখা। কেউ পার্সেল করে নিয়ে যেতে চাইলে সে সুব্যবস্থাও রয়েছে। বিভিন্ন সাইজের মাটির পাত্রে পার্সেল করে দেয়া হয় হালিম। পাত্রের আকার ও হালিমের পরিমাণ অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে এর মূল্য। ১২০০ টাকা, ৭০০ টাকা, ৬০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ৪০০ টাকা, ৩০০ টাকা, ১২০ টাকা ও ৮০ টাকা মূল্যের পার্সেলের ব্যবস্থা রয়েছে। দুপুর ২ টা থেকে হালিম বিক্রি শুরু হয়। রয়েছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও। ফোন নম্বর : ০১৬৮৪৯৯৯৬০৮।