ছবি সংগৃহীত

ইসলামে সব ধরনের মাদক হারাম, কিন্তু কেন?

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১২:৩৭
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১২:৩৭

ইসলাম মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও পরিপূর্ণ গ্রহণযোগ্য সমাধান দিয়েছে। যেহেতু মাদকাসক্তি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য মানবসমাজের জন্য মারাÍক সর্বনাশ ও ধ্বংস ডেকে আনে, তাই ইসলামি শরিয়তে মাদক চিরতরে হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরানে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, ইত্যাদি হচ্ছে ঘৃণ্য, শয়তানের কারসাজি। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সুরা-আল মায়িদা, আয়াত-৯০] মাদক হলো এমন এক প্রকার অবৈধ ও বর্জনীয় বস্তু, যা গ্রহণ বা সেবন করলে আসক্ত ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটতে পারে। নেশা ও মাদকাসক্তির ভয়াবহতা থেকে মানবসমাজকে মুক্ত রাখার জন্য ইসলামের কঠোর মূলনীতি জারি করে রাসুল [সা.] ঘোষণা করেছেন, নেশাজাতীয় যে কোনো দ্রব্যই মাদক, আর যাবতীয় মাদকই হারাম। [মুসলিম] অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, যেসব পানীয়তে নেশা সৃষ্টি হয়, এর সবই হারাম। [বোখারি ও মুসলিম] মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি পবিত্র আমানতস্বরূপ। এ আমানতকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঠেলে দেয়ার কোনো এখতিয়ার মানুষের নেই। মাদকাসক্তিতে মানুষের কোনো না কোনো ক্ষয়ক্ষতি তো হবেই এবং ধীরে ধীরে তা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকে, হৃদস্পন্দন ও অবস্থা খারাপ হয়, চোখ রক্তবর্ণ হয় এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধতে থাকে, স্থায়ী কফ, কাশি ও যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নেশাগ্রস্ত যুবক-যুবতীদের উল্লেখযোগ্য অংশ সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করার কারণে মরণব্যাধি এইডসের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর ভীতি প্রদর্শন করে নবি করিম [সা.] সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল। [মুসলিম]। কোনো মাদকাসক্ত বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ইমানদার হতে পারে না। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, মাদক ও ইমান একত্র হতে পারে না। [নাসাঈ] যেহেতু মাদকাসক্তি একটি জঘন্য সামাজিক ব্যাধি, তাই জনগণের সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও সক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর প্রতিকার করা সম্ভব। মাদকাসক্তি ত্যাগে আসক্ত ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা দরকার। মাওলানা মিরাজ রহমান