ছবি সংগৃহীত
ইলিউমিনাতি এবং ফ্রীম্যাসন
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১২, ১০:৩৬
গুপ্ত সঙ্ঘ ইলিউমিনাতির নাম গত ১ দশক ধরে অসংখ্য গল্প কাহিনির মধ্যে এসেছে। গল্পের বই (অ্যাঞ্জেলস অ্যান্ড ডিমন্স),সিনেমা (লারা ক্রফট; টুম্ব রাইডার, ন্যাশনাল ট্রেজার), টিভি সিরিয়াল(বোন্স, অ্যামেরিকান ড্যাড), কার্টুন (গন্দম, জাস্টিস লীগ; আনলিমিটেড) এমন কি ভিডিও গেমস (অ্যাসাসিন্স ক্রীড, কল অফ ডিউটি) সব জায়গায় অসংখ্যবার ইলিউমিনাতির নাম এসেছে। কি এই ইলিউমিনাতি? অ্যানশেল মসেস বোয়া, তার পারিবারিক নাম পরিবর্তন করে নাম রাখল রথচাইল্ড, অ্যানশেল মসেস রথচাইল্ড। অ্যানশেলের পারিবারিক সুদের ব্যাবসা ছিল, ফলে জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন ধনী। পরবর্তীতে এই রথচাইল্ড পরিবার ধীরে ধীরে গোটা ইউরোপের ব্যাংকিং ব্যাবসা নিয়ন্ত্রন করে এবং আরও পরে গোটা পৃথিবীর ব্যাংকিং ব্যাবসার নিয়ন্ত্রন রথচাইল্ড পরিবারের হাতে চলে যায়। ডঃ আডাম্ ওয়াইসফ, ইহুদি জাজ প্রিষ্ট (ধর্মযাজক) এবং বাভারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি আইনের অধ্যাপক। তিনি এতো মেধাবি ছিলেন যে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি অধ্যাপক পদ পান। ইহুদি ধর্মে একজন জাজ প্রিষ্টের প্রভাব অনেক। আদালতের বিচারকদের মত জাজ প্রিষ্টদেরও ইহুদি সমাজে বিচার কাজ পরিচালনার ক্ষমতা আছে। ১৭৭৩ সালে পোপ ১৪তম ক্লেমেন্ট, আডাম্ ওয়াইসফকে জাজ প্রিষ্ট পদ থেকে অপসারন করেন, কারন হিসাবে পোপ দেখান যে ওয়াইসফ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন আর তিনি প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী ধনী ছিলেন। ১৭৭০ সালের কোন এক সময়ে অ্যানশেল মসেস রথচাইল্ড তার সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ১২ জন বন্ধু সহ আডাম্ ওয়াইসফকে জার্মানির রথচাইল্ড ম্যানসনে আমন্ত্রন করেন এবং একটি সঙ্ঘ গড়ার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে তারা ১৭৭৬ সালের ১ মে “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” নামের একটি সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করে। ইলিউমিনাতি মানে আলোকিত মানুষ। তারা নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসাবে মনে করে গোটা পৃথিবী পরিচালনা করার উদ্দেশে এই সঙ্ঘ গড়ে। আডাম্ ওয়াইসফ বলেন যে, সঙ্ঘের নাম টি লুসিফেরিয়ান বা শয়তানি বিদ্যা থেকে প্রাপ্ত, ইলিউমিনাতির ল্যাটিন অর্থ “আলোর ধারক”, সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আগে শয়তানকে লুসিফার এবং আলোর ধারক নামে ডাকা হত। সেখান থেকেই “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” নাম টি এসেছে। ১৭৮৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ইলিউমিনাতির ৬০০ জন সদস্য হয় এবং ১৭৮৬ সালের মধ্যে পুরো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং অ্যামেরিকায় অসংখ্য গুপ্ত মন্দির বা লজ তৈরি হয়। এবং ১৭৮৬ সালের মধ্যে ইলিউমিনাতিঅধিকাংশ ফ্রীম্যাসন লজ নিয়ন্ত্রন করে। এখানে উল্লেখ্য যে ইলিউমিনাতির অনেক আচার অনুষ্ঠান ফ্রীম্যাসনদের আচার অনুষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। মজার বিষয় হচ্ছে ইলিউমিনাতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই অ্যামেরিকা মুক্তির চুক্তি বা ডেকোরেশন অফ ইন্ডিপেণ্ডেন্স স্বাক্ষরিত হয়। তাতে ৯৭ জন স্বাক্ষর করেন আর তাদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন আরেকটি গুপ্ত সঙ্ঘ “ফ্রীম্যাসন” এর সদস্য, যাদের মধ্যে বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন, জন অ্যাডামস ও টমাস জেফারসনের নাম উল্লেখযোগ্য। পরবর্তী সময়ে ইলিউমিনাতি ধীরে ধীরে অ্যামেরিকায়ও চলে আসে। ১৭৭৯ সালের মধ্যে অ্যামেরিকায় প্রায় ১৪ টি ইলিউমিনাতি গুপ্ত মন্দির বা লজ তৈরি করা হয়। অ্যামেরিকায় ইলিউমিনাতির সদস্য সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। মূলত টমাস জেফারসন ইলিউমিনাতিতে যোগ দেয়ার কারনেই অ্যামেরিকায় ইলিউমিনাতি বিস্তার লাভ করে। অনেক ফ্রীম্যাসনরাও ইলিউমিনাতিতে যোগ দান করেন, আর এভাবেই এ দুই গুপ্ত সঙ্ঘ যৌথ ভাবে বেড়ে উঠতে থাকে। জন অ্যাডামসও ইলিউমিনাতিতে যোগ দেন কিন্তু পরে ইলিউমিনাতির আসল উদ্দেশ্য জানতে পেরে তিনি এর বিরধিতা করেন। ১৭৭৯ সালে ইলিউমিনাতি পুরো অ্যামেরিকা এবং ইউরপের বেশিভাগ দেশে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করে, অ্যামেরিকার বিভিন্ন স্টেটে থাকা ইলিউমনিস্টদের কাছে পত্রের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা পৌঁছান হয়, সে সময় এক পত্রবাহক দুর্ঘটনায় মারা গেলে, পুলিশ তার লাশের সাথে ইলিউমিনাতির পরিকল্পনার পত্র পায়। পরে ইলিউমিনাতির জন্মস্থান জার্মানে এ খবর পৌঁছালে সেখানকার রাজা সমস্ত জার্মানে ইলিউমিনাতি ও ফ্রীম্যাসন নামের সঙ্ঘ দুটির ওপর নিশেধাজ্ঞা জারি করে এবং যারা এ সঙ্ঘের সাথে জড়িত তাদের কে দেশ ত্যাগ করার হুকুম দেয়। ১৮৩০ সালে ইলিউমিনাতির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ওয়াইসফের মৃত্যুর পর ১৮৩৪ সালে মজিনি নামের এক ইটালিয়ান ব্যক্তি কে “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” এর প্রধান বানান হয়। এখানে উল্লেখ্য যে, রথচাইল্ডরা ইলিউমিনাতির পেছনে থেকে সংগঠনটি নিয়ন্ত্রন করে, আর সামনে অন্য মানুষের নাম প্রচারিত হয় যাদের কে “Front men of the Illuminati” বলা হয়। যাইহোক, মজিনি ছিলেন ইটালির সবচেয়ে প্রভাবশালী একটি পরিবারের সন্তান, এবং ইটালির বিপ্লবী নেতা। ইলিউমিনাতির প্রধান হবার পর তিনি ইটালির প্রভাবশালী পরিবারগুলকে একত্রিত করে আরেকটি সঙ্ঘ তৈরি করেন যাকে আমরা মাফিয়া নামে চিনি। মাফিয়া আসলে, অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতির নির্দেশে চলত যা কিনা অনেকটা, একটা সঙ্ঘের ভেতরেই আরেকটা ছোট সঙ্ঘের কাজ করত। মাফিয়া আসলে একটা acronym. M - Mazzini = Mazzini A - Autorizza = Authorizes F - Furti =Thefts I - Incendi = fires A – Awelenamenti = poisonings মজিনি এখানেই থেমে থাকলেননা, তিনি জেনারেল আলবার্ট পাইক এর সাথে তিনটি বিশ্বযুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। জেনারেল আলবার্ট পাইক সার্বভৌম স্কটিশ রাইট ফ্রীম্যাসনারির দক্ষিণ অধিকারক্ষেত্রের গ্র্যান্ড কমান্ডার ছিলেন। তিনি ১৮৫৯ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন এবং এ সময়ে তিনি ফ্রীম্যাসনারির অনুষ্ঠান, পদ, বিভাগ সবকিছু নতুন করে সংগঠিত করেন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ দুই সঙ্ঘ মিলে পুরো পৃথিবীর চালকের আসনে বসার পরিকল্পনা করে। যে পরিকল্পনাকে ডঃ আডাম্ ওয়াইসফ নোভাস ওরডো সেক্লরাম (বা নিউ সেকুলার অর্ডার বা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) বলতেন। ইলিউমিনাতি এবং ফ্রীম্যাসনের ইতিহাস অনেক পুরনো এবং একই সাথে অনেক বিশদ। অল্প কথায় যেনে নেওয়ার চেষ্টা করি যে এ দুটি গুপ্ত সঙ্ঘের মূল মন্ত্র কি? ফ্রীম্যাসনারির মূল মন্ত্র হচ্ছে গড়া, আজকের সভ্যতাকে গড়ে আগামী কালের সভ্যতায় রুপান্তরিত করাই ফ্রীম্যাসনারির মূল মন্ত্র। এখানে রুপান্তর শব্দটা অনেক ব্যাপক। এই যে বললাম ফ্রীম্যাসনারির মূল মন্ত্র হচ্ছে গড়া। কিন্তু কে গড়বে? এখানেই ইলিউমিনাতি এবং ফ্রীম্যাসনারির যোগসূত্র। ফ্রীম্যাসনারি মূলত ৩৩ টি পদে বা ডিগ্রীতে বিভক্ত। ৩৩ তম ডিগ্রী হচ্ছে সর্বোচ্চ ডিগ্রী। যখন কেও ফ্রীম্যাসনারিতে যোগ দেয় তখন কিম্ভূতকিমাকার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে কিছু গুপ্ত জ্ঞান দেওয়া হয়, তার বিশস্ততার অঙ্গীকার নেওয়া হয়, এর পর তাকে ফ্রীম্যাসন বলে গণ্য করা হয়। নিজেদের মধ্যে ফ্রীম্যাসনরা সাধারন মানুষকে গরু বলে ব্যাঙ্গ করে, কারন সাধারন মানুষদের তাদের মত বিশেষ জ্ঞান নেই, অনেকটা যেমন হ্যারি পটারে জাদুকরেরা সাধারন মানুষ কে ‘মগল’ বলে ব্যাঙ্গ করত। ১৪০০ শতকের একটি কবিতায় ফ্রীম্যাসনদের উল্লেখ পাওয়া যায়, বঝাই যাচ্ছে যে ফ্রীম্যাসনারি অনেক প্রাচীন সঙ্ঘ, ফ্রীম্যাসনদের রচনা থেকে জানা যায় যে ফ্রীম্যাসনারির শুরু মানুষের প্রথম সভ্যতা ব্যাবিলন থেকে। রাজা নমরুদ একটি টাওয়ার তৈরি করেন যার ভেতরেই একটা গোটা শহর ছিল, আর যারা এই টাওয়ার তৈরি করেন তাদের ছিল বিশেষ কিছু বিদ্যা যার কারনে সাধারন মানুষ ওই টাওয়ার তৈরির কাজ করতে পারত না, তারাই ছিল ম্যাসন। রাজা নমরুদ একটি মূর্তি পুজা করত যার শরীর ছিল মানুষের মত আর মাথা ছিল ভেড়ার মত যার খাড়া দুটি শিং ছিল, সেই দেবতার নাম ছিল বাল দেবতা, ম্যাসনরাও ওই বাল দেবতার পুজা করত, বর্তমানে আমরা যাকে ব্যাফমেট বা লুসিফার নামে চিনি। ব্যাফমেট নামের ওপর যদি এতবেশ সাইফার* প্রয়োগ করা হয় তাহলে তার ল্যাটিন অর্থ দাড়ায় সোফিয়া বা জ্ঞান বা দেবি। যাই হোক, সেখান থেকে চলে আসি জেরুজালেমে। ম্যাসনরা দাবী করে যে রাজা সোলাইমান ছিলেন নমরুদের চেয়েও বড় প্রকৌশলী, জেরুজালেমে উপাসনালয় তৈরি করার সময় তিনি ম্যাসনদের গুপ্ত বিদ্যা শেখান ও তাদের আচার অনুষ্ঠান নির্ধারণ করেন। (এখানে উল্লেখ্য যে ইসলামিক শিক্ষা অনুযায়ী, সোলাইমান (আঃ) কখনই জাদু টোনা বা শয়তানের পুজা করেন নি, সোলাইমান (আঃ) যে সব জীনদের দিয়ে মসজিদ তৈরির কাজ করান সেই সব শয়তান জীন কিছু কিছু মানুষ কে শয়তানের পুজা করার শিক্ষা দেয়।) ম্যাসনদের অনেক কিছুই ইহুদী গুপ্ত বিদ্যা কাব্বালা*, জোহর* ও তালমুদের* ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে । সোজা কথায় বলতে গেলে ম্যাসনদের ধারা ব্যাবিলন থেকে জন্ম নিয়ে জেরুজালেম হয়ে এখন গোটা পৃথিবীতে বইছে আর ম্যাসনদের পেছনে চালক হচ্ছে “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি”। ইলিউমিনাতির উৎপত্তির কথা আমরা পূর্বেই জেনেছি, এখন দেখি এদের মূলমন্ত্র কি? ম্যাসনদের আচার অনুষ্ঠান যেমন ইহুদী গুপ্তবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তেমনি ইলিউমিনাতি গড়ে উঠেছে প্রাচীন মিশরীয় ধর্মের ওপর ভিত্তি করে। মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আকাশের দেবতা ওসিরিস(ওরিয়ন বেল্ট বা কালপুরুশের কোমরের বেল্ট) এবং তার স্ত্রী আইসিস (সিরিয়াস বা ধ্রুব তারা) –এর পুত্র ‘হোরাস’ বা ‘রা’ বা সূর্য দেবতার বংশধর হচ্ছে ফেরাও রাজারা। মজার ব্যাপার হচ্ছে বর্ষার আগে আগে গ্রীষ্ম কালের এক রাতে কালপুরুষের বেল্ট আর ধ্রুব তারা এমন একটি সরলরেখা তৈরি করে যে পূর্ব দিকে ঠিক ওই সরলরেখা বরাবর সূর্য ওঠে। তারকামণ্ডলীর এই খেলা প্রাচীন মিশরীয়রা পর্যবেক্ষণ করে ও গিজার পিরামিড এমন ভাবে বানায় যাতে ওই বিশেষ রাতে পিরামিডের ভেতরে রাখা দেবতার পাথরের ওপর কালপুরুষের বেল্টের আলো এসে পড়ে। সে পাথরের ওপর কেও দাঁড়ালে ঠিক তার মাথার ওপর ধ্রুব তারার আলো এসে পড়বে এভাবেই একজন সাধারন মানুষ অসাধারন আলোকিত মানুষে পরিনত হবে, আর এই গুপ্ত জ্ঞান সাধারন মানুষের জন্য নয়, এ জ্ঞান আকাশদেবতাদের বংশধর ফেরাও রাজাদের জন্য রক্ষিত আর এই গুপ্ত জ্ঞান প্রাপ্ত রাজারাই দেশ শাসন করে, আশা করি পাঠকরা বুঝতে পেরেছেন কেন আমি এতক্ষন মিশরীয় দেবতা আর তারা নিয়ে টানাটানি করছিলাম? প্রাচীন মিশরিয়দের মত ইলিউমিনাতিরও মূল মন্ত্র হচ্ছে জ্ঞান সবার জন্য নয়, শাসকদের জন্য, গোঁড়ার দিকের ইলিউমনিষ্ট পরিবারের সদস্যরা আজও মনে করেন তারা আকাশ দেবতাদের বংশধর। এ দুটি গুপ্ত সঙ্ঘের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করব। বর্তমানে ফ্রীম্যাসন বলতে একটা গুপ্ত সঙ্ঘ না বুঝিয়ে “অনেক গুপ্ত বিদ্যার সঙ্ঘ” বলা যায়, কারন অনেক ফ্রীম্যাসন লজ এখন প্রকাশ্য, এবং ফ্রীম্যাসনারিরা প্রকাশ্যেই বলেন যে তারা ফ্রীম্যাসন। এবং অনেক নামী দামী লোক স্বীকার করেন যে তারা ফ্রীম্যাসন, এমন কি ফ্রীম্যাসনারী লজের গ্র্যান্ড মাস্টাররাও অকপটে স্বীকার করেন যে অনেক শয়তানের পূজারী, ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, মুসলমান–রাও এখন ফ্রীম্যাসন। ইউরোপের দেশগুলর মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রকাশ্য লজ আছে লন্ডন শহরে, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডে। হেড কোয়ার্টার অফ সুপ্রিম কাউন্সিল ৩৩ ডিগ্রী লজ লন্ডনের ১০ ডিউক স্ট্রীটে অবস্থিত। ম্যাসনদের কাছে যা গ্র্যান্ড ইস্ট নামে পরিচিত। এখান থেকে স্কটিশ রাইটের* ৩৩ ডিগ্রী উপাধি দেওয়া হয়। বর্তমানে পৃথিবীর মাত্র তিনটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রথচাইল্ডদের তথা ইলিউমিনাতির নিয়ন্ত্রনের বাইরে আছে। দেশ তিনটি হচ্ছে ১. কিউবা, ২. উত্তর কোরিয়া ও ৩. ইরান। *এতবেশ সাইফারঃ কোন একটি সাংকেতিক লিখিত রুপ কে সাইফার বলা হয়। এতবেশ সাইফার হচ্ছে একটি হিব্রু সাংকেতিক লেখনি যেখানে প্রথম অক্ষর আলিফের জাগায় লিখতে হবে শেষ অক্ষর তাভ, দ্বিতীয় অক্ষর বেত এর জায়গায় লিখতে হবে শিন। যেমন Abcdefghijklmnopqrstuvwxyz সাধারন ভাবে Cat, Zyxwvutsrqponmlkjihgfedcba এতবেশ সাইফারে লিখলে লিখতে হবে Xzg *কাব্বালাঃ কাব্বালা হচ্ছে ইহুদী ধর্মের অতীন্দ্রিয় গুপ্ত বিদ্যা, যার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনার পদ্ধতি শেখান হয়। *জোহরঃ চারটি ভাগে বিভক্ত গ্রন্থ যাকে কাব্বালার মূল গ্রন্থ বলা হয়। *তালমুদঃ ইহুদী ধর্মের মৌখিক আঈন, ব্যাবিলনীয়দের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যখন ইহুদীরা ব্যাবিলনের ক্রীতদাস হিসাবে ছিল তখন তাদের ধর্ম বিলীন হবার ভয়ে এ মৌখিক আঈনের প্রচলন হয়। পরবর্তীতে ব্যাবিলনেই ব্যাবিলনীয় ধর্মের প্রভাবে ১২ জন রাব্বী (ইহুদী ধর্মযাজক) দ্বারা তালমুদ লেখা হয়। *স্কটিশ রাইটঃ বিশ্বব্যাপী ফ্রীম্যাসনারীর অনেকগুল ধারা বা ভাগ আছে, তাদের মধ্যে একটি ভাগ হল নরদান ম্যাসনিক জুরিসডিকশন ইন ইউনাইটেড স্টেট্স যাকে সাধারন ভাবে স্কটিশ রাইট বলা হয়।