ছবি সংগৃহীত

আরও আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিততে চাই : ফেরদৌস আহমেদ

mithu haldar
লেখক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৪০
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৪০

ছবি : নাঈম প্রিন্স।

(প্রিয়.কম) নান্দনিক দক্ষতার কারণে এ পর্যন্ত চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ; যিনি ইতোমধ্যেই এই শিল্পের বিভিন্ন অঙ্গনে ‘সাফল্যের স্বাক্ষর’ রেখেছেন। উপস্থাপনা, মডেলিং আর অভিনয় ‘নৈপূণ্যে’ সমালোচকদের মন জয় করেছেন তিনি। এগুলোর পাশাপাশি এখন প্রযোজকও ফেরদৌস। ‘এক কাপ চা’ তাঁর প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র, যেখানে অভিনয়ের জন্য তিনি এবারও জাতীয় সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। নিজের প্রযোজিত ছবিতে পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা প্রিয়.কমের সাথে বিনিময় করেছেন ফেরদৌস।

২৬টি বিভাগে ২৯ জনকে মনোনীত করে গত বৃহস্পতিবার ২০১৪ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে ফেরদৌসও রয়েছেন। এর আগে ‘হঠাৎ বৃষ্টি, ‘গঙ্গাযাত্রা’ আর ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন।
নিজের প্রযোজিত এবং অভিনীত ছবিতে পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে যখন ফেরদৌসের সাথে কথা হচ্ছিল, তখন তিনি ‘মেঘকন্যা’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে বান্দরবনে ছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি পুরস্কার পাওয়ার খবরে প্রিয়.কমের কাছে অনুভূতি বিনিময় করেন এভাবে, ‘আমার কাছে পুরস্কার পেতে ভীষণ ভাল লাগে। আমি যখন প্রথম কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ি তখন আমি একটি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। তখন পুরস্কার হিসেবে আমি একটি গ্লাস উপহার পেয়েছিলাম। আর যে প্রথম হয়েছিল সে জগ পেয়েছিল। এরপর থেকে সবকিছুতেই আমার প্রথম হওয়ার প্রবনতা ছিল।’

তবে এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ভিন্ন রকম ছিল বলে জানালেন এই গুণী অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘এবার নিজের ছবির জন্য পুরস্কার পেয়েছি। আর জাতীয় চলচ্চিত্রের মত পুরস্কারে সেরা অভিনেতা হওয়ার বিষয়টি ভাল করার জন্য আরও বেশি উজ্জ্বীবিত করে’।

ব্যক্তিজীবনের তার বাবাকে ‘ফিলোসফার’ আখ্যা দিয়ে ফেরদৌস বলেন, ‘আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি পেশা হিসেবে অভিনয়কে বেছে নিব, তখন বাবাকে বললাম। আর বাবা একটি বিষয় আমার সম্পর্কে জানেন, ছেলে একটি বিষয়ে মনোযোগ দিলে সেটি শেষ না করে ছাড়বেন না। বাবা তখন আমার কথায় সায় দিয়ে বলেছিলেন-তুমি যদি ফিল্মে অভিনয় কর; সেখানে তোমাকে প্রথম হতে হবে। আর না হয় পাইলট হও। সেখানে গিয়ে কোর্স শেষ কর।’

‘‘বাবার সাথে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়েই ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবিতে অভিনয় করলাম। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারও পেলাম। বাবা শুনল, তখন আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছি। কিন্তু তিনি দেখে যেতে পারেন নি। কারণ সেবার তিনবারের পুরস্কার একসাথে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই আমার মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পাওয়ার একধরনের ইচ্ছেবোধ তৈরি হয়। আমি ভবিষ্যতে আর আটটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিততে চাই।” জানালেন ফেরদৌস।

বর্তমানে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক চলছে। এ বিষয়ে ফেরদৌস জানান, ‘পৃথিবীর সব কিছুরই একটি ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক দিক রয়েছে। তবে দৃষ্টিভঙ্গির উপর অনেক কিছুই বিষয়টি নির্ভর করে। যৌথপ্রযোজনায় ছবি হওয়া মানেই ইতিবাচক একটি দিক। এর মাধ্যমে দুই দেশের একটি সংস্কৃতি বিনিময় হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে কিছু মানুষ সারাক্ষনই ব্যক্তি স্বার্থ দেখেন। আর ব্যক্তি স্বার্থে বৃহত্তর স্বার্থ নষ্ট করে ফেলেন। আমার দেশ আমার সংস্কৃতি আমার দেশের অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী কতটুকু তারা এ জায়গা থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন, লাভবান হচ্ছেন? তবে গল্পের প্রয়োজনে অনেক কিছুই হতে পারে। আর সবকিছুই নির্ধারণ করবেন নীতিনির্ধারকরা। আর আমার যদি কোয়ালিটি ঠিক থাকে তাহলে তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই’।

‘আর আজ তো কৃষ্ণপক্ষ মুক্তি পেয়েছে। সেখানে আমি একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমিতো হুমায়ূন স্যারের ভীষণ বড় একজন ভক্ত। আমি নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করছি, যে আমি এ ছবির অংশ হতে পেরেছি। আমি তো স্যারের পরিচালনায় বেশকিছু ছবি ও নাটকে অভিনয় করেছিলাম’, যোগ করেন ফেরদৌস।

বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয় করছেন। তাদের অভিনয় ঠিক কতটা সাবলীল মনে হয়? এমন প্রশ্নের জবাবে ফেরদৌস জানান, ‘এসময়ে অনেক নতুন নতুন ছেলে-মেয়েরা অভিনয় করার জন্য আসছে। এরমধ্যে যার যতটুকু যোগ্যতা সেটির মাধ্যমে সে এগিয়ে যাবেন। চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম যে তুমি নিজেকে কতটুকু তুলে ধরতে পারছ? কতটুকু দর্শকদের স্বান্নিধ্যে যেতে পারছ। দর্শক তোমার কাজ কতটুকু পছণ্দ করেছে। সে বিষয়টি অনায়াসেই দেখতে পারা যায়। তবে এক্ষেত্রে নির্মাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বেশ সুযোগ রয়েছে। তিনি জানেন একজন শিল্পীকে কিভাবে গড়ে তুলতে হয়।’

এদিকে ফেরদৌস বর্তমানে বান্দরবনে ‘মেঘকন্যা’ চলচ্চিত্রটির শুটিং করছেন। ২৮ কিংবা ২৯ তারিখে ঢাকায় ফিরবেন। এরপর সেরা নাচিয়ের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এরপরই একটি কোম্পানির দুটি শো-রুম উদ্ধোধন করার জন্য বরিশালে যাবেন। আর শেষ করেই ‘পোস্টমাস্টার’ ছবির বাকি গানগুলোর শুটিং করবেন। অন্যদিকে ফেরদৌস অভিনীত যৌথপ্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ছেড়ে যাস না’ ছবিটি মার্চে শুক্তি পাবে। ‘পুত্র’ ছবির ডাবিং শেষ। আর ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবিটি মুক্তির তালিকায় রয়েছে।