ছবি সংগৃহীত

আমার কাছে সব চেয়ে বড় হলো একটি সুন্দর জীবন: টনি ডায়েস

কুদরত উল্লাহ
সহ-সম্পাদক, বিনোদন
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৬, ০৯:৫৭
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৬, ০৯:৫৭

ছবি তুলেছেন অহনা ডায়েস

(প্রিয়.কম) অভিনেতা টনি ডায়েস। ১২ আগস্ট তার শুভ জন্মদিন। কখনো হার মানেননি সময়ের কাছে। কখনো অভিনয় কখনোবা ব্যবসা আর এখন আমেরিকাতে চাকুরি। সময় তাকে যে সুযোগ দিয়েছে সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছেন। যদিও তিনি এখন স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন আমেরিকাতে। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রিয়া ডায়েস ও একমাত্র কন্য সন্তান অহনা। সংসার, পরিবার ও চাকুরি এই নিয়েই তার বর্তমান ব্যস্ততা।

প্রায় সাত বছর আগে অভিনয়কে বিদায় জানিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকাতে। এর মধ্যে দেশে ফিরে মাত্র একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তাও প্রায় ৪বছর আগে। তারপর আর দেশে ফিরেননি তিনি। তার এই জন্মদিনের আয়োজন ও তার প্রবাস জীবন এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে মুঠোফোনে কথা বললেন প্রিয়.কম এর নিয়মিত আয়োজন প্রিয় কথা বিভাগে।

প্রিয়.কম: কেমন আছেন আপনি?

টনি ডায়েস: ধন্যবাদ। ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

প্রিয়.কম:  ভালো আছি। জন্মদিনে কি করছেন?

টনি ডায়েস: তেমন কিছুই না। এবার জন্মদিন পড়েছে শুক্রবারে। আর এখানে শুক্রবার আমার অফিস। তাই অফিসেই কাটাতে হবে জন্মদিন। তবে বরাবরই এই দিনে অফিসে আমাকে সারপ্রাইজ দেয় আমার সহকর্মীরা। এবারও হয়তো তাই হবে। কিন্তু শনিাবর ও রবিবার এই দুইদিন অফিস নেই। তাই জন্মদিনের একটা আড্ডা বাসায় হবে।

bdbc

প্রিয়.কম: প্রায় সাত বছর আপনি বাংলাদেশে নেই ব্যাপারটি কিভাবে দেখেছেন?

টনি ডায়েস: মনে পড়ে বাংলাদেশকে। নিজের জন্মস্থান বলে কথা। কিন্তু আমেরিকায় প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হলেও এখন আর কিছু হয়না। তার কারণ হলো আমার কাছে আমেরিকাও অনেকটা ঢাকার মতো মনে হয়। আমার পরিবারের সবাই এবং আমার স্ত্রী প্রিয়ার পরিবারের সবাই এখানে থাকে। তাই এখন আর মনে হয় না আমি বিদেশে আছি। চাকরি, সংসার, পরিবার নিয়ে ভালই আছি।

প্রিয়.কম: আমেরিকায় কি করছেন আপনি?

টনি ডায়েস: আমেরিকান হোন্ডায় আছি। অনেক বছর হলো। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনে কাজ করছি। ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এখানে মেধার শতভাগ মূল্যায়ন দেওয়া হয়। তাছাড়া এখানে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। বলতে চাই আমি বেশ ভালো আছি।

mbnm

প্রিয়.কম: স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কিভাবে দিন পার করছেন?

টনি ডায়েস: আমি নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিল শহরে থাকি। আমার পাশের শহরেই আমার মা থাকেন। তাছাড়া খুব কাছাকাছি প্রিয়ারও পরিবার থাকে। তাই সপ্তাহের ছুটির দিনগুলো আমার পরিবারের সঙ্গেই কাটে। বাসায় আড্ডা দেওয়া, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, এখানে অনেক ঘোরার সুন্দর স্থান আছে। যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তাই ঘুরতেও যাওয়া হয় বেশি। এভাবেই ছুটির দিনগুলো পালন করি।

প্রিয়.কম: এ বছর আপনার দেশে আসার কথা ছিল। আপনি আসবেন কবে ?

টনি ডায়েস: আমি যেখানে কাজ করি সেখান থেকে প্রত্যেক মাসেই ছুটি থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে যেতে হলে অনেক দিনের ছুটি প্রয়োজন। অল্প কয়েক দিনের জন্য বাংলাদেশ গিয়ে তেমন একটা লাভ হয় না। অফিস থেকে দুই সপ্তাহের বেশি ছুটি দিবে না। তাই একটু ভেবে চিন্তে ছুটি নিতে হয়। যেহেতু আগেই বলেছি আমার পরিবারে সবাই এখন আমেরকিাতেই থাকে। তাই বাংলাদেশে খুব  জরুরি কাজ না থাকলে যেতে পারি না। এ বছর দেশে আসার পরিকল্পনা ছিল আমার অনেক বছর আগের অভিনীত একটি ছবি ‘পৌষ মাসের পিরিত’ এ বছরই মুক্তি পাচ্ছে। তাই ডিসেম্বরের দিকে আসব ভেবেছিলাম কিন্তু ছবির পরিচালক বললেন আগামী দুই মাসের মধ্যেই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে। কিন্তু আমি দুই মাসের মধ্যে আসতে পারব না। তাই চলচ্চিত্রটির প্রচার-প্রচারণার সময় থাকা হলো না। দেশে আসব কিছু দিনের জন্য আগামী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসে ইনশাল্লাহ।

bcvbc

প্রিয়.কম: ‘পৌষ মাসের পিরিত’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন?

টনি ডায়েস: নার্গিস আক্তার সবসময় তার চলচ্চিত্রের জন্য সুন্দর গল্প বেছে নিয়ে থাকেন। ‘পৌষ মাসের পিরিত’ সেই রকমই একটি ভালো গল্প। মূল গল্প নরেন্দ্র মিত্রর অন্যতম একটি সুন্দর গল্প ‘রস’। এ গল্প থেকেই চিত্রনাট্যকার রফিকুজ্জামান চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন। এটি মূলত একটি প্রেমের গল্প। একজন অভিনেতা যখন একটি ভালো গল্প, ভালো চরিত্র, ভালো পরিচালক ও একটি ভালো টিম পায় তখন সে চেষ্টা করে নিজের সবটুকু দিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। আমিও সেই চেষ্টাটি করেছি। আমরা যশোরে শীতের মধ্যে অনেক কষ্ট করে শুটিং করেছি। ঠান্ডার মধ্যে খেজুর গাছে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। এ জন্য হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল আমাকে। খাজুরা গ্রামটি অনেক সুন্দর তার চাইতেও বেশি সুন্দর মানুষগুলো। অনেক কিছু শিখেছি তাদের কাছ থেকে। অনেক ভালোবাসাও পেয়েছি তা আমি কোনদিন ভুলব না। সুন্দর এই গ্রামটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন সিনেমাট্রোগ্রাফার মাহফুজুর রহমান খান। গানগুলো সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলী। ‘পৌষ মাসের পিরিত’ এটি সম্পূর্ণ প্রেমের গল্প। আশা করছি চলচ্চিত্রটি দেখলে সবার ভালো লাগেবে।

প্রিয়.কম: অভিনয়ে আপনার একটি সুন্দর ক্যারিয়ার ছিল কিন্তু অভিনয় ছেড়ে দিয়ে আপনি বিদেশ পাড়ি জমালেন কেন?

টনি ডায়েস: পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যারা নিজের ভবিষ্যত দেখতে পায়। তার মধ্যে আমি একজন। আমি সবসময় সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি সবসময় জীবনের জন্য অভিনয় করেছি, অভিনয়ের জন্য জীবন কখনও ছিল না। আমার কাছে সব চেয়ে বড় হলো একটি সুন্দর জীবন। তারপর অন্যকিছু। তাই আমার অভিনয় ছাড়ার যথাযথ কারণ ছিল। আমি ভবিষ্যত দেখতে পেয়েছিলাম। আমি দেখেছি বাংলাদেশে অভিনয়ের উপর নির্ভর করে হাতে গনা কয়েকজন মানুষ ভালো আছে। আর এর থেকেও ভাবনার বিষয় হচ্ছে অভিনয়ে নিজের ক্যারিয়ার ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা নেই যে আমি অভিনয় করেই জীবন পার করব।

cvxcv

প্রিয়.কম: এখনও আপনার ভক্ত রয়েছে। তারা অপেক্ষায় আছেন কবে আপনি অভিনয়ে ফিরবেন। আপনি কি আসলেই অভিনয়ে ফিরছেন?

টনি ডায়েস: না। অভিনয়ে আর ফিরছি না। তবে নির্মাণের প্রতি আমার একটা ঝোঁক আছে। কারণ আমি যখন অভিনয় করতাম তখন থেকেই নির্মাণের নানা বিষয়গুলো আমি শিখেছি। সেই জায়গা থেকে ইনশাল্লাহ আগামী ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণ শুরু করব। তবে খুব বুঝে শুনে। বাংলাদেশে না এসে এখানেই ভালো কোন গল্পে নির্মাণ করব। আমি বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর সঙ্গে কথা বলছি অল্প অল্প করে। তারা আমাকে সার্পোট দিবে বলেছে। এখন আমি মানসিক ভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ এখানে শুটিং করতে হলে অনেক টাকার ব্যাপার রয়েছে। তাই যাই করি না কেন ভেবে চিন্তে করব। 

প্রিয়.কম: আপনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?

টনি ডায়েস: কি আর বলব। তারা আমাকে এখনও ভালোবাসে আমি বুঝতে পারি। দেশে তো ভক্ত ছিলোই। তাদের ভালোবাসা পেয়েছি। আবার আমারিকাতেও যারা বাঙালি আছেন তারা কোথাও দেখলেই আমাকে ডাক দেন, কথা বলেন। আমাকে তারা আবারও পর্দায় দেখতে চায় কিন্তু আমি যে আর ফিরতে পারবনা। তাই অভিনয়ে নয় নির্মাণে ফিরছি। তাদের জন্যেই আজকের টনি ডায়েস আমি। তাই তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা আজীবন থাকবে।

jfhf

প্রিয়.কম: আমেরিকাতে কোন সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন?

টনি ডায়েস: না, এখানে তেমন কোন সাংস্কৃতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নেই আমি। কিন্তু এখানে যারা বাঙালি আছে তারা যদি বলেন কোন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে হবে বা কোন অনুষ্ঠানে যেতে হবে তাহলে যাই। এছাড়া নিজের উদ্যেগে তেমন কিছু করা হয়নি।

প্রিয়.কম: আপনার পরিবার নিয়ে কিছু বলুন?

টনি ডায়েস: সবাইকে ভালোবাসি। আর আমার মেয়ে অহনা সে পড়াশুনায় খুবই ভালো। সে স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ে। এবার দশম শ্রেণীতে উঠেছে। এখানে পড়াশোনার জন্য তেমন ভাবে কোন চাপ দিতে হয় না। কারণ স্কুলগুলোই এমন। পড়াশোনার ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। সবচেয়ে মজার কথা হলো অহনার ভিডিও এডিটিং নামে একটি বিষয় আছে। এখন তো অনলাইনের সময় তাই অহনার নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেলে আছে। সে নানা ধরনের ভিডিও নির্মাণ করে ইউটিউবে আপলোড করে। তাছাড়া ওর আরও একটি ইচ্ছা আছে সে গান শিখে। ভবিষ্যতে সে গান গাইতে চায়। আমি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

fbb

প্রিয়.কম: আপনাকে সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

টনি ডায়েস: আপনাকে ও প্রিয়.কমকে অনেক ধন্যবাদ।

সম্পাদনা: গোরা