ছবি সংগৃহীত

আকাশ সমাধি- তিব্বতের এক "বীভৎস" সমাধি প্রথা!

জুলকারনাইন মেহেদী
লেখক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৮:০৫
আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৮:০৫

[এ ফিচারের ছবিগুলো উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া, দুর্বলচিত্তের পাঠকদের না দেখার অনুরোধ।] পৃথিবীর নানা দেশে অনেক রীতি প্রচলিত আছে। কারো জন্য তা অদ্ভুত। আবার কারো জন্য তা স্বাভাবিক। আর সেরকমই এক প্রথা বা রীতির অনুসন্ধানে আজ আমরা চলে যাবো চীনের তিব্বতে। তিব্বতে stupa burial বা বৌদ্ধস্তূপ সমাধি ও sky-burial বা আকাশ সমাধি নামে দুটি প্রথা প্রচলিত আছে। প্রথম প্রথা শুধু উচ্চ স্তরে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা লামাদের জন্য প্রযোজ্য। আর দ্বিতীয় প্রথাটি সাধারণ মানুষের জন্য। তবে ১৮ বছরের কম বয়সের শিশু, গর্ভবতী নারী, রোগ বা দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মানুষের ক্ষেত্রে এ রীতি পালন করা হয় না।

দ্বিতীয় প্রথা বা আকাশ-সমাধির একটি ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ সমাধি অনুষ্ঠান দেখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ যেন মৃত্যু ও জীবনের ক্ষণস্থায়ী অবস্থার বিষয়ে সচেতন হয়। তারা বিশ্বাস করে, মৃত্যুর পর মৃতদেহ আসলে একটি ধারক ছাড়া আর কিছু নয়, যেটা আত্মাকে ধরে রেখেছিল। মৃত্যুর পর আত্মা সে ধারক ত্যাগ করে, যাতে সে অন্য কোথাও অন্য কোনো দেহে পুনর্জন্ম লাভ করতে পারে। মৃতদেহগুলোকে ফেলে রাখা হয় যেন শকুনরা এসে তা খেতে পারে। তিব্বতিরা শকুনদেরকে চেনে ‘ডাকিনিস’ হিসেবে। তিব্বতীয় মতে ডাকিনিসরা হলো দেবদূত। ডাকিনিসের অর্থ হচ্ছে আকাশের নৃত্যশিল্পী। তিব্বতীয়দের বিশ্বাস ডাকিনীরা মৃতের আত্মাকে স্বর্গে নিয়ে যায়। এটা হচ্ছে শান্তিময় এক স্থান যেখানে আত্মাদেরকে পুনর্জন্মের পূর্ব পর্যন্ত রাখা হয়। এছাড়া শকুনদেরকে মৃতদেহ ভক্ষণ করতে দেয়া হলে পুণ্য হয় বলে মনে করা হয়। কারণ এতে জীবের প্রতি দয়া দেখানো হয়। মৃত্যুর পর তিন দিন কেউ মৃতদেহকে স্পর্শ করে না। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মৃতদেহের চারপাশে ঘুরে ঘুরে ধর্মীয় বাণী পাঠ করতে থাকেন। আকাশ সমাধির আগের দিন মৃতদেহকে পরিষ্কার করা হয় ও সাদা কাপড়ে মুড়ে দেয়া হয়। এরপর মৃতদেহকে এমনভাবে রাখা হয় ঠিক যেমন মায়ের গর্ভে শিশুর ভ্রূণ অবস্থান করে। এ শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ভোর শুরু হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয়। শবযাত্রাকে নেতৃত্ব দেন বৌদ্ধ লামারা। পড়তে থাকেন ধর্মীয় বাণী, যা আত্মাকে পথ দেখায়। তিব্বতে বেশ কিছু সমাধিক্ষেত্র আছে, যেগুলো বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠের সাথে থাকে। সাধারণভাবে এসব জায়গায় কেউ তেমন একটা যায় না।
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর শববাহকরা মৃতদেহের উপর জড়ানো সাদা কাপড় খুলে ফেলেন। এরপর মৃতদেহটিকে পেছন দিক কুঠার ও কাটারি থেকে কেটে ফেলা হয়। এভাবে খুব ভালোভাবে মৃতদেহটিকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। আর দেহের হাড়গুলোকে করা হয় চূর্ণ-বিচূর্ণ। এরপর মাংসের টুকরো ছড়িয়ে দেয়া হয়, যেন শকুনরা তা খেতে পারে। তবে পুরো মৃতদেহ টুকরো করার আগ পর্যন্ত শকুনদেরকে ঘেঁষতে দেয়া হয় না। এরপর সবাই সরে গেলে শকুনরা ঝাঁপিয়ে পড়ে টুকরোগুলোর উপর। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে হাড়ের টুকরো গুলো পড়ে থাকে মাটির এখানে সেখানে। তবে মৃতের আত্মীয়-পরিবার পরিজন বাদে এ দৃশ্য আর কাউকে দেখার অনুমতি দেয়া হয় না। ছবি তোলা নিষেধ, কারণ তিব্বতিরা মনে করে এতে মৃতের বিদেহী আত্মার কষ্ট হবে।