অফিসে একঘেয়েমি? কাজে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ১০ উপায়
একজন মানুষ তার কর্মজীবনে গড়ে ৮১ হাজার ৩৯৬ ঘণ্টা অফিসে বা কাজের পেছনে ব্যয় করেন। জীবনের এত বড় একটি সময় যেখানে কাটে, সেখানে কাজের আনন্দ থাকা জরুরি। অথচ কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মনোযোগ ও আগ্রহ নিয়ে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক।
গবেষণা সংস্থা গ্যালাপের ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের মোট কর্মীর ৬৭ শতাংশই নিজেদের কাজের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত নন। তারা কেবল দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাকে বলা হয় ‘কোয়ায়েট কুইটিং’ বা নীরবে কাজ থেকে মনোযোগ গুটিয়ে নেওয়া।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১১ শতাংশ কর্মী সক্রিয়ভাবে কাজের প্রতি বিমুখ এবং কর্মক্ষেত্রে অসন্তোষ তৈরি করছেন। বিপরীতে, বিশ্বজুড়ে মাত্র ২৩ শতাংশ কর্মী নিজেদের কাজের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত এবং কাজ থেকে আনন্দ পান।
অস্ট্রেলিয়ার লিডারশিপ কোচ ও প্রশিক্ষক ড্যান কুস তার এক নিবন্ধে কর্মক্ষেত্রে কাজের আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ১০টি কৌশলের কথা জানিয়েছেন।
কোথায় আনন্দ পাচ্ছেন, তা খুঁজে দেখুন
কাজের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে শুরুতেই নিজের কাজের একটি হিসাব বা ‘জয় অডিট’ করে নেওয়া জরুরি। এ জন্য নিজেকে চারটি প্রশ্ন করা যেতে পারে। প্রথমত, অফিসের কোন কাজটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়? দ্বিতীয়ত, কাজের বাইরে কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়? তৃতীয়ত, কখন আপনি কাজের গভীরে এতটাই ডুবে যান যে সময়ের খেয়াল থাকে না? চতুর্থত, যেসব কাজ আপনাকে আনন্দ দেয়, সেগুলো করার পথে কী কী বাধা রয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে দূর করা যায়?
অবশ্য কর্মক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, বুলিং বা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ থাকলে সেখানে কাজের আনন্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া উচিত। তবে স্বাভাবিক পরিবেশে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলেই ভালো লাগার জায়গাটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
নিজের শক্তির জায়গাগুলো প্রতিদিন কাজে লাগান
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে জানেন এবং প্রতিদিন তা কাজে লাগান, তাদের উন্নত জীবনযাপনের সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। আর কাজের প্রতি তাদের মনোযোগ বা সম্পৃক্ততা থাকে ছয় গুণ বেশি। যে কাজে আপনার সহজাত দক্ষতা রয়েছে, সেটি করতে পারলে কাজ যেমন সহজ হয়, তেমনি আনন্দও মেলে।
যেমন, কেউ যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় দক্ষ হন, তবে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা বা যোগাযোগের সুযোগ না পেলে তিনি হাঁপিয়ে উঠবেন। তার উচিত প্রতিদিন অন্যদের সঙ্গে কথা বলা ও মনোযোগ দিয়ে শোনার সুযোগ তৈরি করা। আবার যারা যেকোনো কাজ ভালো থেকে আরও নিখুঁত করতে পছন্দ করেন, তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব ভালো কাজটি করে পরের কাজে হাত দিতে পারেন। সব কাজ শতভাগ নিখুঁত করার চাপে সময় নষ্ট না করাই ভালো। আর প্রতিযোগিতাপ্রিয় হলে আগের সেরা রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিতে পারেন।
কাজকে খেলার মতো উপভোগ্য করে তুলুন
প্রতিদিন নিজের পছন্দের কাজ করার সুযোগ না মিললে কাজকে খেলার মতো বা ‘গেমিফাই’ করে নেওয়া যায়। যারা তালিকা ধরে কাজ শেষ করতে ভালোবাসেন, তারা প্রতিটি কাজ শেষ করার পর টিক চিহ্ন দিয়ে ছোটখাটো উদযাপন করতে পারেন। অনেকেই শুধু পরের কাজের চিন্তায় ছুটতে গিয়ে আগে শেষ করা কাজের মূল্যায়ন করেন না। এতে মনে হতে পারে, যথেষ্ট কাজ করা হয়নি। এ থেকে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
সৃজনশীল ব্যক্তিরা দিনে বা সপ্তাহে কয়টি নতুন আইডিয়া তৈরি করতে পারছেন কিংবা কয়টি শিরোনাম বা স্টোরি ভাবতে পারছেন, তার একটি লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন। কেউ নতুন কিছু শিখতে ভালোবাসলে কয়টি বই পড়লেন বা সহকর্মীদের কী শেখালেন, তার হিসাব রাখতে পারেন।
আবার টানা ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজের জন্য ‘পমোডোরো’ অ্যাপ বা পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। নিজের বা দলের কাজের অগ্রগতি বোঝার জন্য একটি স্কোরবোর্ডও রাখা যায়। তবে কর্মক্ষেত্রে এক কর্মী বা দলের সঙ্গে অন্যদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা অফিসের সংস্কৃতি নষ্ট করে দেয়।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- দূর করার উপায়
- একঘেয়েমি