একজন আবু বকর ও বাঙালি রমণীগণ

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:১৬

প্রেমের বাজারে এখন এক নতুন প্রতিযোগী হাজির হয়েছে। নাম তার আবু বকর। বাংলাদেশি নয়, পাকিস্তানি। কোনো রাজনৈতিক নেতা নয়, ধনকুবের ব্যবসায়ীও নয়। এমনকি তার হাতে দামি গাড়ি, প্রাসাদ কিংবা বিদেশি ব্যাংকের হিসাবও নেই। সে শুধু নিজের স্ত্রীকে ভালোবাসে, স্ত্রীর যত্ন নেয়, তার কথা মন দিয়ে শোনে, অভিমান বোঝার চেষ্টা করে। ব্যস, এতেই কেল্লা ফতে!


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে। কেউ তাকে আদর্শ স্বামী বলছেন, কেউ বলছেন স্বপ্নের পুরুষ। আবার কেউ কেউ বাঙালি মেয়েদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশ রসিয়ে রসিয়ে মন্তব্য করছেন। এমনকি কেউ কেউ লিখছেন, বাঙালি নারী আবু বকরকে স্বামী হিসেবে পেলেও হয়তো বলতেন, ‘আমি দেখে তোমার সঙ্গে সংসার করে গেলাম। অন্য মেয়ে হলে কবেই চলে যেত!’


কথাটি মজার। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে আমাদের দাম্পত্য জীবনের কিছু চেনা অস্বস্তি, প্রত্যাশা, অভিমান এবং আত্মসমালোচনার উপাদান। পাকিস্তানি একটি টেলিভিশন সিরিয়ালের কাল্পনিক চরিত্র কীভাবে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল, সেটি ভাবার বিষয়। মনে হচ্ছে, আবু বকর শুধু একজন স্বামী নন; তিনি আমাদের দাম্পত্য জীবনের আয়নায় ধরা পড়া এক কাল্পনিক আদর্শ।


আবু বকরের জনপ্রিয়তার রহস্য সম্ভবত তার অসাধারণ কোনো গুণে নয়, বরং সাধারণ কিছু আচরণে। তিনি স্ত্রীর কথা শোনেন, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ান। অর্থাৎ, সংসারে স্ত্রী নামের মানুষটিকে তিনি শুধু রান্না করা, ঘর গোছানো কিংবা পরিবারের দায়িত্ব পালন করার একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেন না। তারও যে মন আছে, পছন্দ-অপছন্দ আছে, ক্লান্তি আছে, অভিমান আছে, ব্যক্তিগত স্বপ্ন আছে—সেটি তিনি বোঝেন। আমাদের সমাজে এই সাধারণ উপলব্ধিটুকুই কখনো কখনো অসাধারণ হয়ে ওঠে।


অবশ্য আবু বকরকে নিয়ে এত মাতামাতি দেখে মনে হতে পারে, দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষদের মধ্যে স্ত্রীকে ভালোবাসার প্রবণতা বুঝি বিরল প্রজাতির কোনো বৈশিষ্ট্য। বিষয়টি নিশ্চয়ই তেমন নয়। আমাদের সমাজেও অসংখ্য স্বামী আছেন, যাঁরা স্ত্রীকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন, সংসারের কাজে হাত লাগান, অসুস্থ হলে পাশে থাকেন, সন্তান পালনের দায়িত্ব ভাগ করে নেন। কিন্তু তাঁদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত আলোচনা হয় না। কারণ, ভালোবাসার চেয়ে ভালোবাসার অভিনব প্রদর্শন এখন অনেক সময় বেশি জনপ্রিয়। আবু বকর সেই জায়গায় এসে দর্শকের মন জয় করেছেন।


এখানে একটি মজার বৈপরীত্যও আছে। আমাদের নাটক-সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরে নায়ক বলতে বোঝানো হয়েছে সুদর্শন, সাহসী, বিত্তবান কিংবা বিপ্লবী কোনো পুরুষকে। তিনি প্রেমিকার জন্য পাহাড় ডিঙাবেন, নদী পেরোবেন, প্রয়োজনে পৃথিবী উল্টে দেবেন। কিন্তু বিয়ের পর সেই নায়কই অনেক সময় স্ত্রীর একটি সাধারণ অনুরোধ শুনতে পান না। প্রেমের সময় যিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলতেন, সংসার শুরু হওয়ার পর তাঁর কাছে স্ত্রীর পাঁচ মিনিটের অভিযোগও অসহ্য মনে হয়। প্রেমের আগে যিনি বলতেন, ‘তোমার জন্য সব করতে পারি’, বিয়ের পর তাঁকে বাজার থেকে এক কেজি পেঁয়াজ আনতে বললে মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বটি বুঝি তাঁর কাঁধে চাপানো হয়েছে!

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও