বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও বিপদের যোগসূত্র

যুগান্তর সাজেক ড. মাহফুজ পারভেজ প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:১৩

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন ও বিচ্ছিন্ন মনে হলেও তাতে রয়েছে বিপদের যোগসূত্র এবং নিরাপত্তার জন্য প্রচ্ছন্ন হুমকি। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেকে পর্যটক জিম্মি, পাহাড়ে গোলাগুলি ও অবরোধ, শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের অসন্তোষে কারখানা ও যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ করে আন্দোলন আর সর্বশেষ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় মানব পাচারকারী সশস্ত্র চক্রের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর সংঘর্ষে সেনাসদস্যের মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে পাশাপাশি রাখলে একটি অভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে-রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, কর্তৃত্ব ও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় কি এমন কোনো দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী, কুচক্রী, ষড়যন্ত্রকারী ও অপরাধী গোষ্ঠী?


কারণ, নিরাপত্তা বলতে শুধু সীমান্ত পাহারা, অস্ত্রধারীদের দমন কিংবা পুলিশের উপস্থিতি বোঝালে চলবে না। নিরাপত্তার অর্থ মানুষের জীবন, সম্পদ, চলাচল, জীবিকা, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক নাগরিক কার্যক্রমের নিশ্চয়তা। কোনো পর্যটক যদি পাহাড়ে গিয়ে জিম্মি হওয়ার আশঙ্কা করেন, শ্রমিক অসন্তোষে কারখানা ও সড়ক অচল হয়ে যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে পড়ে কিংবা শরণার্থী শিবিরের আশপাশে সশস্ত্র অপরাধীরা মানুষকে জিম্মি করতে পারে, তাহলে সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, রাষ্ট্রের দৈনন্দিন শাসনক্ষমতা ও জননিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়। ঘটনাগুলো আলাদা হলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শাসনক্ষমতা নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তুলছে। কারণ ও প্রেক্ষাপট এক না হলেও ঘটনাগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এগুলোকে পাশাপাশি রাখলে একটি অভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে: বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব সম্পর্কে এসব ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে?


গত ২২ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। প্রায় ৩ হাজার পর্যটক সেখানে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তায় তাদের খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হন। সাজেকের ঘটনা শুধু পর্যটকদের দুর্ভোগের বিষয় নয়; প্রায় তিন দশক পরও পাহাড়ে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধ, সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা আবার বৃদ্ধি কারণ অনুসন্ধানের দাবি রাখে।


পাহাড়ের পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। ৫ নভেম্বর রয়টার্স জানায়, আশুলিয়ায় শতাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। যদিও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, বকেয়া পরিশোধ ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদার দাবি কোনো নিরাপত্তা সমস্যা নয়; বরং এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। শ্রমিকের প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু প্রতিবাদের নামে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সহিংসতা, জবরদস্তি কিংবা জনসাধারণের চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ করে দেওয়া কেন? বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন এবং এ খাত দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দেয়। ফলে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা শুধু কারখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, রপ্তানি আদেশ, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা ও লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ইস্যু। প্রশ্ন হলো, শ্রমিক অসন্তোষ কেন বারবার সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে?


আরও উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা, পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠান অচল করে দেওয়ার ঘটনা শিক্ষার পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। ৫ নভেম্বর ঢাকার সরকারি কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পুলিশ রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কার্যালয়ে ঢুকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও