মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া: ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের পানিতেও আর্সেনিক
গ্রামের মানুষের নিরাপদ পানির সংকট দূর করতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে সরকার। কিন্তু এসব নলকূপের পানিতেই মিলছে আর্সেনিক ও অতিমাত্রায় আয়রন। কোথাও পানি হলুদ বর্ণের, কোথাও তা পান করার অনুপযোগী। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত গভীরতা ও নির্মাণপদ্ধতি অনুসরণ না করেই নলকূপ স্থাপন করেছেন ঠিকাদারেরা। এমনকি উপকারভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকাও নেওয়া হয়েছে।
এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিপিএইচই প্রকল্পের আওতায় সাটুরিয়ায় ১ হাজার ১৭০টি সাবমারসিবল গভীর নলকূপ এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭০টি নলকূপের জন্য প্রায় ১২ কোটি এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পানির নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ নলকূপে আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দরগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আলিনূর বকস রতন নিজের বাড়িতে ১০টি পরিবারের জন্য একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। তবে পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় তা পান করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানিয়েও সমাধান পাননি বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত গভীরতায় না গিয়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে।
সাটুরিয়া ইউনিয়নের বলতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন পিটু তাঁর এলাকার ১০টি পরিবারের জন্য আরেকটি কমিউনিটিভিত্তিক নলকূপ স্থাপন করেন। কিন্তু সেই পানিও হলুদ বর্ণের এবং আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত। নিরাপদ পানির আশায় সরকারি কোষাগারে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েও তাঁরা ব্যবহারযোগ্য পানি পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি বরাদ্দের এই নলকূপ স্থাপনে নিয়ম মানা হয়নি। উল্টো ঠিকাদারের লোকজনকে খাওয়ার কথা বলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- আর্সেনিকমুক্ত পানি
- পানির সংকট