পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা

www.ajkerpatrika.com কামরুল হাসান প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:২০

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি বৃদ্ধির দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ডিসেম্বর থেকে তাঁদের নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হবে। আর জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি বেতন হাতে পাবেন। কয়েক দিনের সহিংস বিক্ষোভের পর গত বুধবার এ ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি পাক, সেটা ভালো কথা। কিন্তু এই দাবি আদায় করা নিয়ে যা যা হলো, তা কি মেনে নেওয়ার মতো?


সরকারের ঘোষণার পরও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছিলেন। এর আগে রাজধানীর মিরপুর ও অদূরের গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভে শতাধিক কারখানায় ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সহিংসতার মধ্যে একজন শ্রমিক নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।


এর বাইরে আরও বড় ক্ষতি আছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার। শুধু গাজীপুর এলাকাতেই আন্দোলনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। আন্দোলনের তীব্রতায় ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের ৬৯০টির বেশি পোশাক কারখানাকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। একযোগে প্রায় ১০ লাখের মতো শ্রমিক কাজ থেকে বিরত থেকেছেন। আবার যথাসময়ে পণ্যের শিপমেন্ট করতে না পারায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত (সুতা, ডাইং, প্যাকেজিং, পরিবহন ও বন্দর) স্থবির হয়ে পড়েছে। পণ্য সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করতে অনেক মালিককে চড়া মূল্যে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বিদেশি ক্রেতাদের মূল কার্যাদেশ আসে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে। বলা হয়, মোট আদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এই সময়ে আসে। তাহলে এত বড় ক্ষতির দায় এখন কে নেবে?

এ কথা মানতে হবে যে, অর্থনীতির অতি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অংশীদার তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি অন্যায্য কিছু নয়। কয়েক বছর ধরে দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতির মধ্যে খাবারসহ নিত্যপণ্য কেনা এবং বাড়িভাড়াসহ সংসারের অন্যান্য শত ব্যয়ের চাপে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠছে। এখন মাস শেষে যে মজুরি তাঁরা পাচ্ছেন, তা দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা অনেকের জন্যই দুরূহ। ফলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তাঁদের রাজপথে নামার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।


বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ মজুরিকাঠামো কার্যকর হয়েছিল। তিন বছর পর নতুন কাঠামো হওয়ার কথা। তার এখনো কিছু সময় বাকি। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে—এই যুক্তি দিয়ে মাঠে নেমে গেছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। স্পষ্টতই আগের সর্বনিম্ন বেতনের তুলনায় অনেকটাই বেশি এ অঙ্কটা। তবে এই দাবির পেছনে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা রয়েছে। একজন শ্রমিকের আয় দিয়ে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়সহ অনেক কিছুর ব্যয় মেটাতে হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বাড়ে, সেই তুলনায় মজুরি বাড়ে না। ফলে কাগজে-কলমে মজুরি কিছু বাড়লেও বাস্তবে শ্রমিকের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও