'দুই মাস হইছে, মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি'
ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো বাজারের পাশেই এলাকার ছোট একটি কলোনি। এর দুই পাশে ২০টির মতো ছোট ছোট ঘর রয়েছে। যার সবগুলোতেই থাকেন ওই এলাকায় কর্মরত পোশাক শ্রমিকরা।
ঘড়িতে তখন সকাল এগারোটা। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কর্মদিবস থাকলেও তাদের বসবাসের প্রায় প্রতিটি ঘরেই শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা গেলো।
সেখানকার ছোট একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকেন পোশাক শ্রমিক টুটুল মোল্লা। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন সকালেই কারখানায় যাচ্ছেন তিনি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই ছুটি হয়ে যাচ্ছে, পরে বাসায় ফিরে আসছেন।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের যে আন্দোলন চলছে, সেই দাবি তারা কেন করছেন তার কারণও তিনি তুলে ধরেছেন বিবিসি বাংলার কাছে।
মি. মোল্লা বলছিলেন, "সব কিছুর দাম খালি বাড়তেছেই। যেই বেতন পাই তা দিয়ে দুই বেলা খাই, তারপরও অর্ধেক মাসও চলে না। দুই মাস হইছে মাছের গন্ধটাই ভুইল্যা গেছি, গোস্ত খাওয়া হয় শুধু দুই ঈদে'।
এই কলোনির আরো অন্তত ১০টি পোশাক শ্রমিক পরিবারের সাথে আমরা কথা বলেছি। জানার চেষ্টা করেছি তাদের উপার্জন-জীবনযাত্রার ব্যয় কিংবা চলমান আন্দোলনে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে।
বেশিরভাগ শ্রমিকেরই বক্তব্য হচ্ছে- মাত্র এক বছরেই তাদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। কিন্তু তার বিপরীতে আয় বাড়েনি।
একবাক্যে শ্রমিকদের প্রায় সবার বক্তব্যই ছিল- গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম। যা তাদের খরচের হিসাব- নিকাশই বদলে দিয়েছে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- আন্দোলন
- পোশাক শ্রমিক
- মজুরি বৃদ্ধি