ক্যানসার নিয়ে ১০ ভুল ধারণা, আসল সত্য যা
ক্যানসার শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে মৃত্যুভয়, দীর্ঘ চিকিৎসা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেসে ওঠে। রোগটি নিয়ে সমাজে প্রচলিত রয়েছে নানা ভুল ধারণা। কেউ মনে করেন ক্যানসার হলেই মৃত্যু অনিবার্য, আবার কেউ বিশ্বাস করেন এটি ছোঁয়াচে কিংবা বংশপরম্পরায় ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মোবাইল ফোন, বিদ্যুতের লাইন ও কৃত্রিম মিষ্টিকারকও ক্যানসারের কারণ বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু এসব ধারণার সবই কি সত্য?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ক্যানসারে প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই রোগ। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে ক্যানসার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা দূর করা জরুরি।
ক্যানসার নিয়ে ১০টি প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তবতা তুলে ধরা হলো।
১. ক্যানসার মানেই মৃত্যু
এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সব ধরনের ক্যানসার প্রাণঘাতী নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে অনেক ক্যানসার এখন নিরাময়যোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৯৯০-এর দশক থেকে ক্যানসারে মৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে স্তন, প্রোস্টেট ও থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশ বা তার বেশি। সব ধরনের ক্যানসার মিলিয়ে এ হার প্রায় ৬৭ শতাংশ। তবে ক্যানসারের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ভিন্ন হয়।
২. ক্যানসার ছোঁয়াচে রোগ
ক্যানসার একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা, খাওয়া কিংবা স্পর্শের মাধ্যমে ক্যানসার ছড়ানোর আশঙ্কা নেই। তবে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) এবং হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের মতো কিছু সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে জরায়ুমুখ ও যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অর্থাৎ সংক্রমণকারী ভাইরাস ছড়াতে পারে, ক্যানসার নয়।
৩. মোবাইল ফোন ব্যবহারে ক্যানসার হয়
মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বিকিরণ নির্গত হয়। এটি নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ। এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এক্স-রের মতো আয়োনাইজিং বিকিরণ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তবে মোবাইল ফোনের বিকিরণ এ ধরনের নয়।
৪. বিদ্যুতের লাইন থেকে ক্যানসার হয়
বিদ্যুতের লাইন থেকে অত্যন্ত কম কম্পাঙ্কের চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়। এটিও নন-আয়োনাইজিং বিকিরণ। গবেষণায় সাধারণত এর সংস্পর্শে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও বিদ্যুতের লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী শিশুদের লিউকেমিয়ার ঝুঁকি নিয়ে কিছু গবেষণায় সামান্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে, এর প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।
৫. কৃত্রিম মিষ্টিকারক ক্যানসার সৃষ্টি করে
স্যাকারিন, অ্যাসপারটেমসহ বিভিন্ন কৃত্রিম মিষ্টিকারক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের মধ্যে এসব উপাদান গ্রহণের সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্কের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাঁচ লাখের বেশি মানুষের তথ্য নিয়ে করা একটি গবেষণাতেও অ্যাসপারটেম গ্রহণের সঙ্গে লিম্ফোমা, লিউকেমিয়া কিংবা মস্তিষ্কের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।