ট্রাম্পের ভূমিধস বিপর্যয়ের পেছনে কেন কানাডার নাম আসছে

প্রথম আলো হেলাল মহিউদ্দীন প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৭

প্রেসিডেন্ট হওয়ামাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম প্রদেশ আর জাস্টিন ট্রুডোকে গভর্নর ট্রুডো বলতে শুরু করলেন। কানাডীয়রা প্রথমে ভেবেছিলেন সাময়িক পাগলামো বা ঠাট্টা-মশকরা। ট্রুডো প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন মার্ক কার্নি। ট্রাম্প বদলালেন না। কানাডাকে ৫১তম প্রদেশ করার সম্প্রসারণবাদী মনোভাব আসলে তাঁর মগজে বদ্ধমূল হয়ে গেঁড়ে বসেছে, দ্রুতই কানাডীয়রা সত্যটি বুঝতে শুরু করলেন। কারণ, ট্রাম্প কানাডাকে নিয়ে নিত্যদিনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও হেয় করা বাড়িয়ে দিলেন।


কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে, সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র পাচ্ছে সামান্যই ইত্যাদি অভিযোগ তো ছিলই! নতুনভাবে যোগ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে গেলে কানাডার কত লাভ—সেসবের বয়ান-ফিরিস্তি। হোয়াইট হাউসে মার্ক কার্নির সঙ্গে সাক্ষাতেও ট্রাম্প নিরস্ত্র হলেন না। একই বয়ান শুনে নিতান্ত ভদ্রলোক কার্নি মৃদু হেসে বলেছিলেন, হোয়াইট হাউস যেমন ‘নট ফর সেল’, কানাডাও তেমনই ‘নট ফর সেল’।


নর্থ ডেকোটায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, সহকর্মীদের প্রায় শতভাগই মার্কিন নাগরিক। লবিতে দেখাসাক্ষাৎ হলে পরিচিতজন সলজ্জ ‘স্যরি’ বলে আলাপ শুরু করতেন। জানাতেন ট্রাম্পের কানাডাকে অসম্মান তাঁদের কতটা লজ্জিত, বিব্রত ও বিরক্ত করে। আমিসহ তাঁদের মাত্র দুজন সহকর্মী নাগরিকত্বে কানাডীয়। তাঁরা মনে করিয়ে দিতেন কানাডাকে মার্কিন নাগরিকেরা প্রশংসার চোখে দেখেন, ট্রাম্পের আচরণে আমরা যেন মন খারাপ না করি, নিজেদের বহিরাগত না ভাবি।


নির্বাচন শেষ। রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির নানা রকম বিশ্লেষণ চলছে। ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতির বেহাল অবস্থা, ট্রাম্পের জিতে আসার পেছনের প্রতিশ্রুতিগুলো ভঙ্গ করা ইত্যাদি কারণ দেখানো হবে। কিন্তু আরেকটি সত্য ততটা আলোচিত হবে না। সত্যটি হচ্ছে, ট্রাম্পের কানাডা-নীতিও রিপাবলিকানদের পরাজয়ে রসদ জুগিয়েছে।


কানাডার কোনো পরিকল্পিত হস্তক্ষেপে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ভুক্তভোগী হয়েছে ট্রাম্পের কানাডা-নীতির কুফলেই। বেশির ভাগ ভুক্তভোগীই আবার রিপাবলিকানদের ঘাঁটি নামে পরিচিত রাজ্যগুলোর বাসিন্দা, বিশেষত গ্রামাঞ্চলের কৃষিজীবী।


দুই.


ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয়রা নিজ দায়িত্বে ‘অসহযোগ’ শুরু করে দিয়েছিল।


ছুটিছাটা বা হাতে সময় মিললেই কানাডীয়রা ঘুরতে যেতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষত, নিজেদের কাছাকাছি রাজ্যগুলোয়। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ বন্ধ করে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে নিলেন। কানাডার পর্যটননির্ভর সীমান্তবতী রাজ্যগুলোর পর্যটন আয়ে রীতিমতো ধস নামল। হোটেল-মোটেল ফাঁকা। এমনকি ডিজনিল্যান্ডের বিলিয়ন ডলারের উপার্জনও হুমকির মুখে পড়তে শুরু করল।


এ বছরের সেপ্টেম্বরে কানাডীয়দের মার্কিন সফর ২০২৪ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম ছিল। মে মাসে প্রকাশিত এক গবেষণা মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে যে মার্কিন মেট্রো এলাকায় কানাডীয়দের ভ্রমণ বছরওয়ারি প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে, যা সরকারি সীমান্ত পরিসংখ্যানে দেখানো প্রায় ২৫ শতাংশ পতনের চেয়ে অনেক বেশি। মার্কিন ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের আগের হিসাব ছিল যে কানাডীয় পর্যটন মাত্র ১০ শতাংশ কমলেই ১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন চাকরি হারাবে এবং ২.১ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় ক্ষতি হবে। ১০ শতাংশে যদি এই ক্ষতি হয়, ৩০-৪০ শতাংশে কী হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও