সুনামি শুধু সমুদ্রের বিপদ নয়, প্রস্তুতিহীন রাষ্ট্রেরও পরীক্ষা
সমুদ্র কখনো কখনো অদ্ভুতভাবে নীরব হয়ে যায়। ঢেউ সরে যায়, তটরেখা হঠাৎ যেন আরও দূরে চলে যায়, মানুষ কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে যায় সমুদ্রের দিকে। অথচ প্রকৃতির সেই নীরবতা অনেক সময় ভয়াবহ কোনো আগমনের পূর্বাভাস। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে এমনই এক মুহূর্তের পর পৃথিবী দেখেছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সুনামি। সমুদ্রের ঢেউ তখন শুধু উপকূল ভাসিয়ে নেয়নি; ভাসিয়ে নিয়েছিল ঘর, পরিবার, স্মৃতি এবং মানুষের নিরাপত্তাবোধ।
পৃথিবী সেই বিপর্যয় ভুলে যায়নি। জাতিসংঘ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ৫ নভেম্বরকে বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস ঘোষণা করে। দিনটির উদ্দেশ্য শুধু সুনামি সম্পর্কে মানুষকে জানানো নয়; ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সতর্কবার্তা, মহড়া, নিরাপদ অবকাঠামো এবং স্থানীয় মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো।
সুনামি বাংলাদেশের প্রতিদিনের দুর্যোগের তালিকায় ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো দৃশ্যমান নয়। তাই এ নিয়ে আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতিও তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। কিন্তু কম ঘটা মানেই কম ঝুঁকি নয়। বরং সুনামির মতো বিরল দুর্যোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—মানুষ তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলে, প্রস্তুতি শিথিল হয়, আর বিপর্যয় এলে কয়েক মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফুরিয়ে যায়।